দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: কে এই মামুনুল হক?       কলাপাড়ায় কিছুতেই থামছে না আন্ধারমানিক নদীর দখল দৌরাত্ম       গাজীপুরে পুলিশ দম্পত্তিকে মারধোর       ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানো দরকার : অর্থমন্ত্রী       আনারস ফলে রয়েছে অনেক গুণাগুণ       ‘বিএনপির মিথ্যাচারের থলের বিড়াল বেরিয়েছে’       পত্র-পত্রিকায় আমার বক্তব্য বিকৃত করে ছাপা হয়েছে : মির্জা আব্বাস       আন্তঃব্যাংক লেনদেন চালু       একদিনে রেকর্ড ১০২ মৃত্যু       রাজশাহীতে বের হবার করণ দেখাতে না পারলে ফিরতে হচ্ছে উল্টো পথে      
কেরুজ চিনিকলে স্মরণকালের রেকর্ড ভাংলো
হারুন অর রশিদ-রাজু, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে
Published : Saturday, 27 February, 2021 at 10:20 PM, Count : 512
কেরুজ চিনিকলে স্মরণকালের রেকর্ড ভাংলো৮৩ বছর বয়সী কেরুজ চিনিকলটি এবারের আখ মাড়াই মওসুমে চমক সৃষ্টি করলো। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বয়সের ভারে নুয়ে পড়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা মিলটি চলতি আখ মাড়াই মওসুমে একবারের জন্যও যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েনি।
এবারের আখ মাড়াই মওসুমে কেরুজ চিনিকল লাভের মুখ না দেখলেও বিগত বছরের তুলনায় লোকসানের বোঝা কমতে পারে অনেকটা। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরুজ চিনিকলটি স্মরকালের রেকর্ড ভাংলো এবার। ৬৯ আখ মাড়াই দিবসের মধ্যে ১ মিনিটের জন্যও হয়নি ব্রেকডাউন। কোন প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়তে হয়নি মিলটিকে। 
চিনিকলের প্রবীন ও দক্ষ বেশ কয়েকজন শ্রমিক-কর্মচারীর কাছ থেকে কারণ হিসেবে জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা পরিষদের দক্ষতা, সঠিক দিক নির্দেশনা, দক্ষ লোকবল নিয়োগ, চাহিদা মোতাবেক যন্ত্রপাতিসহ সবধরনের মালামাল সরবরাহ, কর্মকর্তাদের দেখভালের দায়িত্ব পালন, করোনাকালীন সময়েও নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে নিরালস পরিশ্রম, সকল প্রকার অনিয়ম-দূর্নীতির লাগাম ধরে ন্যায্য ও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার কারণেই এবার কোন প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়তে হয়নি মিলটিকে। যে কারণে চিনি কারখানা যেমন ত্রুটিহীনভাবে চলছে, তেমনি চিনির গুনগত মানও স্মরণকালের সকল রেকর্ড ভেঙ্গেছে। 
অন্যান্য মাড়াই মওসুমের তুলনায় এবার আখ মাড়াইয়ের গড় হারও তুলনামূলক বেশী। চিনি আহরণের গড় হার বৃদ্ধি না পেলেও চিনির গুণগত মান এবার বেশ ভালো। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিষদের দক্ষতা, শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালনের ফসল বলেই মন্তব্য সুধী মহলের।  
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর কেরুজ চিনিকলের ২০২০-২১ আখ মাড়াই মওসুমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিকটন আখ মাড়াই করে ৯ হাজার ৬২৫ মেট্রিকটন চিনি উৎপাদন করবে কেরুজ চিনিকল। এ চিনিকলের নিজস্ব ১ হাজার ৫৫০ একর জমিতে ২৪ হাজার মেট্রিক টন আখ ও কৃষকের ৬ হাজার ৯শ’৮২ একর জমিতে ৯৪ হাজার মেট্রিকটন আখ ছিলো। এ ছাড়া বন্ধ হওয়া কুষ্টিয়া জগতি চিনিকলের আওতাধীন কৃষকদের ৩৬ হাজার মেট্রিকটন আখ মাড়াই হওয়ার কথাও ছিলো কেরুজ চিনিকলে। শেষ অবধি তা কমে ২৫ হাজার মেট্রিকটনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাকী ১১ হাজার মেট্রিক টন আখ গুড় উৎপাদন করবেন চাষিরা। যে কারণে কেরুজ চিনিকলে এবারের মওসুমে সর্বমোট আখ মাড়াই হতে পারে ১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিকটন। মাড়াই দিবস বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ দিন। চিনি আহরণের গড় হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশশিক ২৫ শতাংশ। গত সোমবার পর্যন্ত চলতি আখ মাড়াই মওসুমের ৬৯ দিবস ছিলো। ৬৯ দিবস পর্যন্ত এ চিনিকলে আখ মাড়াই করেছে ৮৩ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন। প্রতিদিন আখ মাড়াইয়ের গড় হার ১ হাজার ২২৫ মেট্রিকটন। চিনি উৎপাদন করা হয়েছে ৪ হাজার ৪০২ মেট্রিক টন। চিনি আহরণের গড় হার ছিলো ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে গত কয়েকদিন আহরণের হার বেড়ে দাড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এবার আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে চিনি উৎপাদন হবে ৭ হাজার ১৮৭ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন। কুষ্টিয়া চিনিকলের আওতাধীন ২৫ হাজার মেট্রিক টন আখের মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাড়াই হয়েছে ১১ হাজার ৫৩২ মেট্রিকটন।
তবে আখ মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে আগামী ২০২১-২২ মরসুম। দেশের ৬ টি চিনিকল বন্ধ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হওয়ায় চলতি রোপন মওসুমও পড়েছে মুখ থুবড়ে। 
গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় আখ রোপন মওসুম। আগামী মার্চ পর্যন্ত রোপন কার্যক্রম চললেও তাতে দেখা মিলেছে হাতাশা। ৯ হাজার ৩৫০ একর জমিতে আখ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে এ পর্যন্ত যে পরিমাণ জমিতে আখ রোপন করা হয়েছে তাতে আগামী মওসুমে আখের পরিমাণ হতে পারে ৪২ হাজার ৬৪২ মেট্রিক টন। গড় আখ মাড়াইয়ের হিসেব আনুযায়ী ওই বছর চিনিকলে আখ মাড়াই হতে পারে মাত্র ৩৪ দিন। 
আখ রোপণের কারণে শুধু চিনিকলই নয় হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে ডিস্টিলারী কারখানা। কারণ হিসেবে জানা গেছে, কেরুজ ডিস্টিলারী কারখানায় মদ উৎপাদনের একমাত্র কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় মুলাসেস। প্রতি বছর ডিস্টিলারীর জন্য মুলাসেস প্রয়োজন প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে কেরুজ চিনিকলে প্রতি আখ মাড়াই মরসুমে ৪ হাজার মেট্রিক টন মুলাসেস পাওয়া যায়। বাকী ১৪/১৫ হাজার মেট্রিক টন মুলাসেস সংগ্রহ করা হয় দেশের অন্য ১৪ টি চিনিকল থেকে। চলতি মওসুমে ৬ টি চিনিকল বন্ধ হওয়ায় আখচাষীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গোটা দেশেই। যে কারণে এবার কেরুজ এলাকায় আখচাষের পরিমাণ একেবারেই নগন্য। 
কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ জানান, ইচ্ছাশক্তি ও আন্তরিকতা থাকলে সফলতার স্বর্ণ শিখরে পৌছানো সম্ভব। কেরুজ চিনিকলটি এ অঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি। বিভিন্ন কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিলো সরকারের মূল্যবান সম্পদটি। আমি গত বছরের ১২ এপ্রিল কেরুজ চিনিকলে যোগদান করি ও দায়িত্বভার বুঝে পাই ১৬ এপ্রিল। সে সময় দেশে ছিলো করোনার প্রভাব। করোনাকালীন নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি মিলটিকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য। দফায় দফায় বৈঠক করেছি কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারীসহ নেতৃবৃন্দের সাথে। সকলের মতামতে ভালো কিছু সিদ্ধান্ত পেয়েছি। অবলম্বন করেছি সঠিক কৌশল। সে মোতাবেক চিনি কারখানা মেরামতের কাজ শুরু করেছি দক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীদের দিয়ে। যখন যেখানে যা যা প্রয়োজন তা সঠিকভাবে মান সম্পন্ন মালামাল সরবরাহ করেছি। সব কাছই করা হয়েছে স্বচ্ছতার সাথে। তাই আজকের এ সুফল মিলের সকল কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের। তবে সরকারের এ মূল্যবান সম্পদকে বাঁচিয়ে রাখতে বেশী বেশী করে আখচাষের কোন বিকল্প নেই। 





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft