মতামত
শিরোনাম: খানসামায় পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের পরীক্ষামূলক চাষেই সাফল্য       বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৮       স্মার্টফোনের ভাইরাস রিমুভ করবেন যেভাবে       চুলের যত্নে রেড়ির তেলের ব্যবহার       কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের আরেক নেতার ওপর হামলা       নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০৮       মহেশপুর সীমান্তে শিশু ও নারীসহ ৪জন আটক       চুড়ামনকাটিতে ৫ ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা       মহেশপুরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৭জন গ্রেফতার       সোমবার যশোরে ৫৩ জনের করোনা শনাক্ত      
জ্ঞানে- মানে, গুণে- গরিমায় সমুন্নত হোক প্রিয় স্বদেশ
মাহমুদা রিনি
Published : Saturday, 27 February, 2021 at 10:24 PM, Count : 167
জ্ঞানে- মানে, গুণে- গরিমায় সমুন্নত হোক প্রিয় স্বদেশপৃথিবীকেও প্রমাণ করতে হয় সে সূর্যের চারপাশে ঘোরে। মানুষ হয়ে জন্মানোর পরও মানুষ হয়ে উঠতে হয়। জীবনে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই নিজেকে সম্মানের সারিতে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। আমরা আমাদের দেশটাকে ভালোবাসি। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন সার্বভৌম আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এই দেশটাকে আমরা জ্ঞানে-মানে, গুণে- গরিমায় সমুন্নত, সুন্দর দেখতে চাই। 
আমরা জানি যে দেশ মধ্যম আয়ের দেশের সারিতে উন্নিত হতে চলেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে নিজেকে সম্মানিত বোধ করি। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস রত মানুষের সংখ্যা কমেছে। নারী শিক্ষার যথেষ্ট অগ্রগতি হচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। এরকম আরো অনেক উন্নয়নের লম্বা ফিরিস্তি আমরা পেতে পারি। মোটকথা মানুষের কর্মপরিধি বেড়েছে। সত্যি বলতে কাজ করতে চাইলে কোন কাজই ছোট নয় এবং সৎপথে যে কোন  কাজ করে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা যায়। এত অর্জন, এত আত্মতুষ্টি সব ঠিকঠাক থাকলে তাহলে এই লেখার উদ্দেশ্য কি? 
লেখা এইজন্য যে আমাদের সমাজস্বীকৃত কতগুলো পেশা চলমান আছে যা আমাদের সভ্যতাকে কলঙ্কিত করে, মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, লজ্জিত হতে হয়। যেমন পতিতাবৃত্তি, ভিক্ষাবৃত্তি, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অমানবিক জীবনযাপন বা জীবন ধারণের পদ্ধতি। এছাড়াও আছে নানাবিধ ভাবে শিশুশ্রম যা যথেষ্ট অমানবিক। আজ যদি শুধু ভিক্ষাবৃত্তির কথা বলি----
সকালে ঘুম ভাঙে যে কলিং বেল এর শব্দে, উঠে দরজা খুলে দেখা যাবে সে একজন ভিক্ষুক। কোনভাবেই কোন মানুষকে ছোট করা আমার উদ্দেশ্য নয়। মানুষের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি এই পেশাকে যে আমরা লালন করছি এর থেকে অসম্মানজনক পেশা তো আর হয় না। আমাদের দেশে এমন কোন জায়গা আছে কি যেখানে একমিনিট দাঁড়ালে একজন ভিক্ষা চাইতে আসবে না? অবশ্য বিশেষ নিয়ন্ত্রিত এরিয়া গুলো বাদ দিলে। কোন জায়গায় একমিনিট দাঁড়িয়ে কথা বলার ভিতর ঠিক দুই-তিনজনের লাইন পড়ে যায়। তা সে যত জরুরী কথাই হোক না কেন! কিছু কিছু মাদ্রাসাও আছে এই ধরনের কাজে শিশুদের ব্যবহার করে। শুধু তাই না দুধের শিশু কোলে নিয়ে অনেক মা ভিক্ষা করে যা শিশুটির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। এ দৃশ্য হরহামেশাই আমাদের  চোখে পড়ে। তাছাড়াও দুই বছরের শিশুর হাতেও একখানা থালা বা বাটি ধরিয়ে দিয়ে ভিক্ষা করতে পাঠানো হয়। এটা কোন সভ্য জাতি হিসেবে যথেষ্ট অসম্মানের! আমাদের দেশের কোটি কোটি টাকা কতদিকে তছরুপ হয় অথচ এই ব্যাপারটাকে আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি না?  কিছুদিন আগে শুনলাম জেলা প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের। চাহিদা অনুযায়ী টাকার ব্যবস্থাও নাকি করা হয়েছিল কিন্তু কোন পরিবর্তন কারো চোখে পড়েছে বলে জানা নেই। ভিক্ষাবৃত্তি পেশা বোধ হয় একধরনের অভ্যাসের বিষয়। যারা একাজ করে তারা সহজে এর থেকে বের হতে পারে না। কিন্তু এইরকম বাড়াবাড়ি পর্যায়ের ভিক্ষাবৃত্তি সভ্যসমাজের জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। প্রয়োজন হলে তাদেরকে বাধ্য করতে হবে বা জরুরী পুনর্বাসন করতে হবে এই পেশা থেকে নিবৃত্ত করতে।  গায়ে খেটে  উপার্জন করতে চাইলে কাজের অভাব হয় না। 
কয়েকদিন আগে যশোর বাবলাতলা বাজারে দেখি একটা বিশ-পঁচিশ বছরের ছেলে মাছ কাটছে। বোঝা যাচ্ছে এ কাজে সে নতুন। খুব ভালো লাগলো দেখে যে সৎভাবে উপার্জনের চেষ্টা অন্তত করছে। আমার তেমন প্রয়োজন না থাকলেও ওকে দিয়ে মাছ কাটিয়ে নিলাম। প্রশংসা করে উৎসাহিতও করলাম। আমার সাথে অনেকেই হয়তো একমত হবেন ছোট খাটো কোন কাজে যে কোন ধরনের কারিগরি প্রয়োজন পড়লে কোন ভাবেই তৎক্ষনাৎ কোন মিস্ত্রি বা সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ মানুষ পাওয়া যাবে না। কারণ এই ধরনের কাজের প্রচুর চাহিদা। তারা ব্যস্ত থাকে। বাসায় গৃহকর্মের জন্য মানুষ খুঁজলে তাও প্রায় দুষ্প্রাপ্য। অর্থাৎ কাজের চাহিদা আছে সর্বত্রই, কিছু মানুষের সদিচ্ছার অভাব। এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভিক্ষা করাকে একধরনের সহজ পেশা হিসেবে বেছে নেয়। 
অবশ্যই বৃদ্ধ বা অচল, অক্ষম মানুষের কথা আলাদা। এদের একটা নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনা সামাজিকভাবে অত্যন্ত প্রয়োজন। এই প্রথা যেমন আমাদের দৈনন্দিন চলাফেরা, কাজের মধ্যে বিরক্তি ঘটায় তেমনি সমাজের জন্য, দেশের জন্য মারাত্মক অসম্মানের। আমাদের দেশটা সবদিক দিয়েই সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক তেমনি প্রচেষ্টা হোক আমাদের সকলের। 






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft