দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: লিগ শুরু নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি       আইপিএলে আজ মুখোমুখি হবে রাজস্থান ও চেন্নাই       টেস্ট ভেন্যুতে টাইগাররা       সাকিবকে বসানোর ইংগিত ম্যাককালামের       শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ম্লান রিয়াল মাদ্রিদের       লক্ষ্মীপুরে জাল টাকা-ইয়াবাসহ ভুয়া পিএস গ্রেফতার       গাজীপুরে হেফাজতের আমির দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার       সুপার লিগ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ঝড়       খানসামায় পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের পরীক্ষামূলক চাষেই সাফল্য       বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৮      
বাতাস খাওয়ার সময় নেই কালীগঞ্জের হাতপাখা শিল্পীদের
টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
Published : Wednesday, 3 March, 2021 at 4:00 PM, Count : 207
বাতাস খাওয়ার সময় নেই কালীগঞ্জের হাতপাখা শিল্পীদেরঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হাতপাখার কারিগরদের যেন বাতাস খাওয়ার সময় নেই। গরমে মানুষকে একটু শান্তির পরশ দিতে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে তারা তৈরি করছেন তালপাতার হাতপাখা। গরম শুরুর সাথে সাথে তাদের কাজ বেড়ে গেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় অর্ধশত পরিবারের ব্যবসা হাতপাখা। বিশেষ করে তারা তালপাতার হাতপাখা তৈরি করেন। এদের কোনো জমি নেই। কোনো কৃষি কাজও তারা করেন না। একমাত্র পেশাই হলো হাতপাখা তৈরি।
উপজেলার দুলালমুন্দিয়া, পারিয়াট, চাচড়া, আড়পাড়া এলাকা ঘুরে পাখার কারিগরদের সাথে কথা বললে তারা জানান, গরম পড়লেই পাখাপল্লীর কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এসময় কথা বলার সময়ও পাওয়া যায় না। শরীর দিয়ে নোনতা পানি বের হলেও নিজেরা পাখা দিয়ে বাতাস খাওয়ার সময়বাতাস খাওয়ার সময় নেই কালীগঞ্জের হাতপাখা শিল্পীদের পাননা তারা। কাজের চাপে অনেকে সকালে আর রাতে খাবার খান।  
সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কারিগরদের ব্যস্ততা। তাদের কেউ পাতা কেটে সাইজ করছেন, কেউ সেলাই করছেন আবার কেউ তৈরি পাখাগুলো বিক্রির জন্য বোঝা বাঁধছেন।
হাতপাখাশিল্পী আব্দুল গফুর বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষেরা তালপাতা দিয়ে তৈরি হাতপাখা বিক্রি করে জীবন জীবিকা চালাতেন। তারাও পূর্বপুরুষের কাজটি ধরে রেখেছেন। তিনি জানান, কালীগঞ্জে প্রায় ৫০টি পরিবার পাখা তৈরির কাজ করেন।
পাখাশিল্পী নজরুল ইসলাম জানান, পাখা তৈরির প্রধান উপকরণ তালপাতা সংগ্রহ করা হয় শীতকালে। মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী এলাকা থেকে তারা পাতা সংগ্রহ করেন। এই তালপাতা এনে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। পাতা ভিজে নরম হয়ে গেলে পানি থেকে উঠিয়ে তা কেটে দু’ভাগ করা হয়। একটা পাতায় দু’টো পাখা হয়। এই পাতা পুণরায় বেঁধে রাখা হয়। এভাবে রাখার পর গরমের মৌসুম আসার বাতাস খাওয়ার সময় নেই কালীগঞ্জের হাতপাখা শিল্পীদেরসাথে সাথে সেগুলো আবার পানিতে ভিজতে দেয়া হয়। পানিতে দেবার পর পাতা নরম হয়ে গেলে শুরু হয় মূল পাখা তৈরির কাজ। সাধারণত পরিবারের বড়রা পানিতে ভিজে নরম হয়ে যাওয়া পাতা ছাড়িয়ে পাখা আকৃতির করে চারিদিক কেটে সমান করেন। বাড়ির নারীরা সেগুলো বাঁশের শলা দিয়ে বেঁধে ফেলের। পরিবারের ছোট সদস্যরা এগুলো সুঁচ আর সুতা দিয়ে সেলাই করে। এভাবে ব্যবহারের উপযোগী একটি তালপাখা তৈরি হয়।
তিনি জানান, বাড়ির ছেলে, মেয়ে, শিশু ও বধূরা মিলে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১/২টা পর্যন্ত পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন।
কারিগররা জানান, তাদের তৈরি পাখা পাইকারী ও খুচরা বিক্রি হয়। এখান থেকে পাইকাররা প্রতিপিস পাখা ১২ থেকে ১৫ টাকায় কিনে খুচরা ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি করেন। মূলত পাখার ব্যবসা থাকে গরমের তিন/চার মাস। কালীগঞ্জের পাখা কুষ্টিয়া, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় যায়।
কুষ্টিয়া থেকে আসা পাইকার আনোয়ার হোসেন জানান, তার এলাকার ক্রেতাদের কাছে কালীগঞ্জের তালপাখার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft