অর্থকড়ি
শিরোনাম: লিগ শুরু নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি       আইপিএলে আজ মুখোমুখি হবে রাজস্থান ও চেন্নাই       টেস্ট ভেন্যুতে টাইগাররা       সাকিবকে বসানোর ইংগিত ম্যাককালামের       শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ম্লান রিয়াল মাদ্রিদের       লক্ষ্মীপুরে জাল টাকা-ইয়াবাসহ ভুয়া পিএস গ্রেফতার       গাজীপুরে হেফাজতের আমির দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার       সুপার লিগ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ঝড়       খানসামায় পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের পরীক্ষামূলক চাষেই সাফল্য       বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৮      
চালের দাম নিয়ে লুকোচুরি
কাগজ ডেস্ক:
Published : Friday, 5 March, 2021 at 5:30 PM, Count : 353
চালের দাম নিয়ে লুকোচুরিসরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টন। আরও ১৭ লাখ টন খাদ্যশস্য (চাল ও গম) আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। দুই দফায় কমানো হয়েছে চাল আমদানিতে শুল্ক। তারপরও কমছে না চালের দাম।
প্রতিদিন চাল আমদানি হলেও বাজারে এখনো তার প্রভাব পড়েনি। বরং জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দুই মাসের ব্যবধানে কোনো কোনো চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের খুচরা বাজারদরে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে মিলার ও আমদানিকারকরা বলছেন, আমদানিকৃত চালের দাম এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে। দ্রুতই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। কারণ এখন তারা চালের ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশে খাদ্যশস্যের এখন সরকারি মজুত ছয় লাখ ৩৪ হাজার টন। এর মধ্যে চালের মজুদ পাঁচ লাখ ২৯ হাজার টন ও গমের মজুদ এক লাখ পাঁচ হাজার টন। জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, ‘কিছু কিছু চালের দাম কমছে। আবার কিছু কিছুর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে চাল আমদানির ফলে বাজারে অনেকটাই প্রভাব পড়েছে। আগের মতো ক্রমবর্ধমান হারে চালের দাম বাড়ছে না। বরং দাম কিছু কিছু করে কমছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে দেশে তিন লাখ টন চাল প্রবেশ করেছে। সরকারি পর্যায়ে এসেছে দুই লাখ টন। সব মিলিয়ে দেশে পাঁচ লাখ টন চাল এসেছে। প্রতিদিন দেশে চার হাজার টন চাল আসছে। সরকারিভাবে দেশে চাল ও গম আসছে ১২ লাখ টন। আর বেসরকারিভাবে চাল আসবে ১০ লাখ টন। সরকারি-বেসরকারিভাবে চাল আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিদিনিই চুক্তি হচ্ছে। আমদানির ক্ষেত্রে খুলনায় কোনো সমস্যা নেই। চট্টগ্রামে কিছু সমস্যা ছিল এখন তাও কেটে গেছে। শিগগিরই চালের দাম আরও কমে যাবে।’
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি মিনিকেট ৬৫ টাকা, ভারতীয় মিনিকেট ৬৪ টাকা, আঠাশ ৫৫ টাকা, নাজির শাইল ৭০ টাকা ও পায়জাম ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মহাখালীর বউবাজারের দোকানি হাসমত শেখ সারাক্ষণকে বলেন, ‘চালের বাজার এখনও বাড়তি। বাজারে দেশি চাল নেই। সব ইন্ডিয়ান। কয়েকদিন আগে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) মিনিকেট ৩ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১০০ টাকায়।’
এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাজারে চালের দাম এখনও বাড়তি রয়েছে। আমদানি করা চাল এলেও বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। নতুন করে চালের দাম কমেনি। সেই আগের মতোই আছে। মৌসুম আসতে আরও দুই মাস বাকি। মিলাররা চাইলে এই সময়ে চালের দাম আরও বাড়াতে পারে। তারা যা চাইছে তাই তো হচ্ছে। ভারতীয় চাল আসার পরও বাজার বাড়তির দিকে। আগে মিনিকেট ৩ হাজার ৮০ টাকা বস্তায় বিক্রি হলেও এখন ৩১০০ থেকে ৩১২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’
তবে টিসিবির তথ্য বলছে, বাজারে এখন মিনিকেট ও নাজির শাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে। ফেব্রুয়ারিতেও চালের দাম প্রায় একই ছিল। আর জানুয়ারিতে এ ধরনের প্রতিকেজি চাল বিক্রি হয়েছে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায়। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে মিনিকেট ও নাজির শাইলের দাম কেজিতে প্রায় দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর গত বছরের মার্চে সরু জাতের মিনিকেট ও নাজির শাইল বিক্রি হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে প্রতিকেজি মিনিকেট চালের দাম প্রায় ৯ শতাংশ বা পাঁচ টাকা করে বেড়েছে।
এদিকে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৮ টাকা কেজিতে। ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫৬ টাকায়। আর জানুয়ারিতে এ ধরনের প্রতিকেজি চালের দাম ছিল ৫২ থেকে ৫৬ টাকা। নতুন বছরে এ ধরনের চালের দাম খুব একটা বাড়েনি। তবে গত বছর এ জাতীয় চাল বিক্রি হয়েছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে। বর্তমানে প্রকারভেদে পাইজাম ও লতার দাম কেজিতে সর্বনিম্ন দুই থেকে সর্বোচ্চ আট টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
আর স্বর্ণা বা চায়না ইরির দাম গত বছরের চেয়ে বেড়েছে সর্বনিম্ন ১০টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে প্রতিকেজি মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি হয় ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা। জানুয়ারিতেও দাম ছিল একই। আর গত বছর একই সময়ে এ ধরনের প্রতিকেজি চাল বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে এ ধরনের চালের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, ‘চালের দাম কমে গেছে। চাহিদাও নেই আগের মতো। ফলে বাজারে চালের বেচাকেনা নেই। আর ধানের দামও কমেছে। চালের দাম কমেনি এটি ঠিক নয়।’ ভোক্তা পর্যায়ে চালের দাম না কমার কারণ জানতেই চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারের তো অনেক সংস্থা আছে। কোনোকিছুই তো তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft