দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: চিরবিদায় নিলেন চিত্রনায়ক ওয়াসিম       মানবতার ফেরিওয়ালাদের দেখা নেই       এক সপ্তায় চালু হচ্ছে যমেক হাসপাতালের আইসিইউ       হাজার হাজার মানুষের লাশ কাটা গোবিন্দও লাশ হলেন       ডাক্তার সেজে ওটির সামনে রোগী দেখেন সহকারী ফিরোজ       যশোরে সাড়ে সাত হাজারের বেশি পণ্য হোম ডেলিভারি দেবে চাল ডাল ডটকম       খাজুরায় জুয়াড়ীদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা, জুয়ার কোটে অভিযান       মেডিকেলে ভর্তিতে যশোরে ভ্যানচালকের মেয়ের অভূতপূর্ব সাফল্য       হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর বি টিম : হানিফ       প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে দেয়ায় যুবক গ্রেফতার      
নড়াইলের অনেক ক্লিনিক প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুফাঁদ
আব্দুল কাদের,নড়াইল অফিস :
Published : Friday, 5 March, 2021 at 10:22 PM, Count : 204
নড়াইলের অনেক ক্লিনিক প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুফাঁদ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার আটলিয়া গ্রামের ২৯ বছরের ঝুমা বেগম। সদ্যজাত সন্তানকে আদর করাতো দূরের কথা,কোলে নেয়ার সামর্থ্য নেই। জরায়ু কেটে নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় বাবার বাড়ির বিছানায় শুয়ে অঝোরে কাঁদছেন। ৩য় দফায় অপারেশন করানোর শংকায় দিন কাটছে তার। 
ঝুমা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান,তিনি কোনোদিন মা হতে পারবেন না। উঠে দাঁড়াতে পারবেন কিনা তাও জানিনা। ডাক্তার আকরাম এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি ফ্লাইটের তাড়ার কথা বলে না দেখে চলে যান।
নড়াইলের অধিকাংশ ক্লিনিক প্রসূতি মায়েদের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে অদক্ষ চিকিৎসক আর অনুন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা চললেও অদৃশ্য কারণে ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না প্রশাসন। আর ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যান ক্লিনিক মালিকরা।
নড়াইল শহরের ভওয়াখালী গ্রামের খন্দকার মাহফুজ নুর। সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ঝুমাকে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ভর্তি করেন শহরের ইমন ক্লিনিকে। অপারেশনে সন্তান প্রসবের পর থেকে রোগীর যন্ত্রনা শুরু হয়। এরপর প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে বের হতে থাকে রক্ত। এ অবস্থায় চিকিৎসা না দিয়েই জোর করে ক্লিনিক থেকে তাকে বের করে দেয়া হয়। ২৪ ডিসেম্বর আল্ট্রাসনো করে পেটের ভিতরে জমাট বাধা রক্ত দেখা যায়। স্ত্রীকে বাঁচাতে খুলনার একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে তিনি  জানতে পারেন ঝুমার  পেটের ভিতরে পচন ধরায় জরায়ু ও প্রস্রাবের নাড়ি কেটে ফেলতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে ২য় দফায় অপারেশন করা হয় ঝুমার। কয়েক দফায় চার লাখ টাকা খরচ করলেও স্ত্রী ঝুমা রয়েছেন আশঙ্কাজনক অবস্থায়। প্রতিকার চেয়ে ক্লিনিকের দু’মালিক আর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ২৫ জানুয়ারি আদালতে মামলা করেছেন।
ডিসেম্বর মাসে ইমন ক্লিনিকে ভওয়াখালির মৌসুমী খানমের সিজার অপারেশনের পাঁচদিন পর সেলাই কাটতে গিয়ে দেখা যায় কোনো সেলাই লাগেনি। সন্তান প্রসবের পর তার তলপেটে যন্ত্রনা বাড়তে থাকে।  ক্লিনিকে বিষয়টি জানালে ক্লিনিকের লোকেরা এসে ব্যথার ইনজেকশন দিয়ে ফের তলপেট কেটে সেলাই করে দেয়। স্বামী তিতাসের অভিযোগ,ইমন ক্লিনিকসহ অনেক ক্লিনিকে কমদামি সুতা ব্যবহার হয়।  কোথাও ডাক্তার নির্দিষ্ট অভিজ্ঞ কোনো ডাক্তার নেই। এমনকি নার্সও  নেই।
ইমন ক্লিনিকে মা হতে এসে আরও করুন অবস্থা হয়েছে দিঘলিয়ার সুজয় ঘোষের স্ত্রী সুপ্রীতি ঘোষের। অপারেশন হওয়ার পরে তার শরীরে ইনজেকশন পুশ করে একজন আয়া। এর পরপরই তিনি মুমূর্ষু হয়ে পড়লে জরুরিভাবে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। 
সুজয় ঘোষের অভিযোগ, ইমন ক্লিনিক মালিকের স্ত্রী নার্স না হয়েও অপারেশন থিয়েটারে থাকেন। পারিবারিক সব কাজই চলে অপারেশন থিয়েটারে। তিনবছর আগে একইভাবে ইমন ক্লিনিকে মা হতে এসে আজও যন্ত্রনায় ভুগছেন চাঁচুড়ি গ্রামের ৩০ বছরের সুমনা বেগম। 
ইমন ক্লিনিকে গিয়ে কোনো প্রশিক্ষত নার্স পাওয়া যায়নি।  কয়েকজন আয়াকে নার্স সাজিয়ে রাখা হয়। ক্লিনিক মালিকের স্ত্রী শিল্পী বেগম প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে ছুটে আসেন। অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে পর্দা দিয়ে অন্যান্য আসবাবপত্র রাখা হয়েছে। মালিক সরোয়ার হোসেন কিছুটা হম্বিতম্বি করার চেষ্টা করলেও পরে থেমে যান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান হলে ক্লিনিকের চতুর্থতলায় বিভিন্ন ধরনের আসর বসে।
আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার স্বপ্নীল আকাশ চিকিৎসার নানা সমস্যার বিষয়ে নিজেদের দায় স্বীকার করে বলেন,সবসময়তো এ ধরনের ঘটনা ঘটে না এটা অনেকটাই অনাকাংক্ষিত।
ক্লিনিক মালিক সরোয়ার হোসেন একটি মাত্র ভুল চিকিৎসার কথা স্বীকার করলেও বাকিগুলো রোগীদের উপর দায় চাপিয়ে বলেন, রোগীরা অসচেতনভাবে চলাফেরার কারণে ভোগে।
ডিভাইন ক্লিনিক মালিক ডাক্তার শামীম আক্তার বলেন,একটি ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক এবং নার্স আব্যশক থাকতে হবে। কোনো কোনো ক্লিনিকের চিকিৎসার গাফিলতির জন্য আমাদের সব ক্লিনিকের দুর্নাম হয়। 
বেসরকারি ক্লিনিকও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এসেসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম সাজ্জাদ রহমান বলেন,‘আমরা নিয়মিত মাসিক মিটিং করি। ক্লিনিকগুলোর কোনো দুর্বলতা থাকলে সেগুলো সংশোধনের জন্য বলা হয়।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলা মর্ডান সার্জিক্যাল ক্লিনিক, লোহাগড়ার মা সার্জিক্যাল ক্লিনিক,আল ইসলামিয়া ক্লিনিক, মোর্শেদা ক্লিনিক,মিজানুর নার্সিং হোমের অবস্থাও একই। 
এসব বিষয়ে নড়াইলের সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসিমা আকতার বলেন,‘লাইসেন্স না থাকলে সেই ক্লিনিকগুলো আমরা বন্ধ করে দেব।’ মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘কয়েকটি মামলা এসেছে। এগুলো আমরা তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেব।’ 





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft