দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: খানসামায় পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের পরীক্ষামূলক চাষেই সাফল্য       বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৮       স্মার্টফোনের ভাইরাস রিমুভ করবেন যেভাবে       চুলের যত্নে রেড়ির তেলের ব্যবহার       কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের আরেক নেতার ওপর হামলা       নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০৮       মহেশপুর সীমান্তে শিশু ও নারীসহ ৪জন আটক       চুড়ামনকাটিতে ৫ ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা       মহেশপুরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৭জন গ্রেফতার       সোমবার যশোরে ৫৩ জনের করোনা শনাক্ত      
ভৈরব খননে মেয়াদ বাড়ালো ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত
ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Monday, 8 March, 2021 at 10:18 PM, Count : 928
ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল ভৈরব নদ খনন কাজে অবহেলা ও সময় ক্ষেপনের কারণে এবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুরু হয়েছে পুন:টেন্ডার প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল্লাহ ভৈরব নদ খনন কাজ পরিদর্শন শেষে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করার নির্দেশ দেন।  এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদকাল বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছে।  
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ২০১৬ সালে ২৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদী ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের’ কাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের আওতায় এ অঞ্চলের মোট ৯২ কিলোমিটার নদ খনন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নদের উজান ও ভাটির ৮০ কিলোমিটারের বেশি খনন কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। জটিলতা চলছে শহরের নীলগঞ্জ থেকে দড়াটানা হয়ে বিরামপুর পর্যন্ত কাজ নিয়ে। সে জটিলতা গত প্রায় দেড় বছর যাবৎ চলমান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পাউবোর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের শত নির্দেশ ও উপদেশও কোন কাজে আসছে না।  
সূত্র জানায়, যশোরের আলোচিত ভৈরব নদ খননে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ শহরের নীলগঞ্জ থেকে কাঠেরপুল হয়ে বিরামপুর অংশের প্রায় দশ কিলোমিটার নিয়ে বিপাকে পড়েন। পাঁচ দফা দরপত্র আহ্বানের পর ১১ কোটি ১৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৫ টাকা ব্যয়ের একটি অংশের কাজ পান মেসার্স এসএস এন্ড এমটি (জেভি)। এ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা গোপালগঞ্জ শহরের পাঁচুরিয়া এলাকার মধুমতি সুপার মার্কেট। অপর অংশের কাজ পান ঢাকার মেসার্স ডলি কনস্ট্রাকশন। তিনটি প্যাকেজে তাদের খননের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা। কিন্তু শুরু থেকেই এ কাজ নিয়ে তারা ব্যাপক টালবাহানা করতে থাকে। তাদের অংশের খননের কাজ বন্ধ ছিল। বার বার তাগিদ দেয়ার পরও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ করেনি। সর্বশেষ রোববার ভৈরব নদ খনন পরিদর্শনে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল্লাহসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় তারা খননের অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও মেসার্স ডলি কনস্ট্রাকশনের কার্যাদেশ বাতিল করার নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম রোববার ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করে চিঠি পাঠিয়েছেন। এরপর কর্তৃপক্ষ ভৈবর খননের পুন:টেন্ডার নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
শহরের নীলগঞ্জ থেকে কাঠেরপুল হয়ে বিরামপুর পর্যন্ত নদের প্রায় দশ কিলোমিটার খননের গড় গভীরতা ২.৭৫ মিটার ও গড় প্রশস্থ হবে ৪৫ মিটার টপ টপ। এ খনন কাজ শুরুর তারিখ ছিল ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট ও কাজ শেষ হবার তারিখ বেধে দেয়া ছিল ২০২০ সালের ২০ জুন। কিন্তু সে মেয়াদ দু’দফা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। ওয়ার্কঅর্ডার পাওয়ার পর সাড়ে তিন মাস পর্যন্ত ভৈরব নদের পাড়ে পড়ে ছিল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের চারটি স্কেভেটর। এ কারণে ভৈরব নদ খননের গোটা কাজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। এরপর মন্ত্রণালয় দ্রুত নদের খনন কাজ শুরুর জন্য যশোরে তাগিদ দেয়। এরই প্রেক্ষিতে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডও ঠিকাদারকে নদ খননের নির্দেশনা জারি করে। এরপর ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি নাগাদ নদ খনন শুরু হয়। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ এ কাজ রহস্যজনক কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম গত ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভৈরব নদের খনন এলাকা পরিদর্শন করে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে খননের গোটা কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। তার এ নিদের্শনা জারির পর ঠিকাদার মেসার্স এসএস এন্ড এমটি (জেভি) নড়েচড়ে বসে। তারা ধীর গতিতে হলেও কাজ চালিয়ে যায়। কিন্তু উধাও থাকে মেসার্স ডলি কনস্ট্রাকশন।
এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে ভৈরব খনন কাজের গতি কমেছে। তবে মেসার্স এসএস এন্ড এমটি (জেভি) ধীর গতিতে হলেও তাদের কাজ চালিয়ে গেছে। কিন্তু মেসার্স ডলি কনস্ট্রাশনকে বার বার তাগিদ দেয়া সত্বেও তারা কাজ করেনি। এ কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তাদের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যাতে আগামীতে কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ জাতীয় অনৈতিক কাজ করার সুযোগ না পায়।
তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারির বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকল্পের মেয়াদ আগামি ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ভৈরব খনন কাজ শেষ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft