মতামত
শিরোনাম: যশোরে কোয়ারেন্টাইনে নারীর মৃত্যু       বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ       হেফাজত তাণ্ডব: দায় স্বীকার করলেন হারুন       তিন ক্লাবের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু       শুক্রবার ঈদ       রাস্ট্রিক সোসাইটির উদ্যোগে উপহার সামগ্রী বিতরণ       মণিরামপুরে ঈদ বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ        তাড়াহুড়োয় ফেরিতে প্রাণ গেল ৬ জনের       কোয়ারেন্টাইনে ঈদ করবেন আড়াই সহস্রাধিক মানুষ       আজ চাঁদ উঠলে কাল ঈদ       
খবরের বাইরে মানবিক ও সামাজিক কাজে প্রশংসিত
সর্বদাই আপোষহীন গ্রামের কাগজ
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Thursday, 25 March, 2021 at 7:59 PM, Count : 251
 সর্বদাই আপোষহীন গ্রামের কাগজ গল্পটা শুরু সেই ১৯৯৯ সালের ২৬ মার্চ। দেশ মাতৃকা ও স্বাধীনতা কামীদের জন্য ভীষন  ঐতিহাসিক এই দিনটিতেই আগামীর অনেক স্বপ্ন নিয়ে, সামাজিক অনেক দায় নিয়ে পথ চলা শুরু করে গ্রামের কাগজ। যেন গ্রাম বাংলার আবহ ঘ্রাণগন্ধ জড়িয়ে খাঁটি বাঙালীপনাকে ধারন করে অবিরাম পথ চলা। হাঁটি হাঁটি পা পা করে অনেক চড়াই উৎরায় পত্রিকাটি আজ ২৩ বছরে এবং বর্তমানে বর্ণাঢ্য একটি অবয়বে। পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক আপোষহীন সাংবাদিক মবিনুল ইসলাম মবিনের সাথে সুখেদুঃখে আছি সেই ২০০১ সাল থেকে অদ্যবধি। তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরলস অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা প্রতিকাটি দৃষ্টান্ত হয়েছে, মফস্বলের মডেল বললেও আজ ভুল হবেনা। মাটি ও মানুষকে প্রাধান্য দেয়া গ্রামের কাগজের ২৩ বছরে খবরের বাইরে গিয়ে অনেকের সাথে গড়ে তুলেছে বিনিসুতোর এক নিবিড় বন্ধন। নানা অনিয়ম অসংগতি আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন দৈনিক গ্রামের কাগজ গত ২৩ বছরে সাড়া সাজাগানো রিপোর্ট করে যেমন থামিয়ে দিয়েছে অপরাধের নানা চিত্র। তেমনি খবরের বাইরেও নানা মানবিক সামাজিক কাজ করে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে এ অঞ্চলের গণমানুষের চাওয়া পাওয়া সমস্যা সম্ভবনা ও উন্নয়নের চিত্র যেমন তুলে ধরেছে তেমনি অসহায় ও মেধাবীদের পাশে দাঁড়িয়ে থমকে যাওয়া অনেকের জীবনকে গতিশীল করেছে। অনেকেই দেখিয়েছে আগামীর স্বপ্ন।
স্মৃতিতে ভাসে ৩১ জুলাই ২০০৫। গল্পটা কারো মরে আছে কারো নেই।  গ্রামের কাগজের সাথে ১৩ বছরের এক শিশুর গড়ে ওঠে বিনিসুতোর এক নিবিড় বন্ধন। হাসপাতালে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাচ্ছিল। মুখে হাসি জড়িয়ে ছিল। শয্যা পাশে এক মা কান্না করছিলেন। দুরারোগ্য সায়ান্টিক হার্ড ডিজিজে আক্রান্ত ওই শিশুটির নাম মুন্নী। মৃত্যু নিশ্চিৎ তবুও হাসল মুন্নী। মানবিক আবেদনধর্মী স্টোরি করার পাশাপাশি গ্রামের কাগজ গঠন করল মুন্নী চিকিৎসা তহবিল। ১ আগস্ট পত্রিকার প্রথম পাতায় “মৃত্যু নিশ্চিৎ তবুও হাসে মুন্নী, এ হাসি ঝরতে দেয়া যায়না” শিরোনামে,  ছাপানো হয় ওই স্টোরি। ওই দিনই  মুন্নী চিকিৎসা তহবিল গঠন করে ২ আগস্ট তা প্রকাশ করেন সম্পাদক। গ্রামের কাগজের সাংবাদিক কর্মচারিদের এক দিনের বেতন দিয়ে যাত্রা শুরু হয় ওই তহবিলের। যশোরের হৃদয়বান মানুষের ভালবাসার ফসল হিসেবে তহবিল সমৃদ্ধ হয়ে দাড়ায় প্রায় ৩ লাখ টাকায়। এরপর ভারতের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাসপাতালে ডাক্তার দেবী শেঠির কাছে পাঠনো হয় মুন্নীকে। সুস্থ্য করে ফিরিয়ে আনা হয় মুন্নীকে। আবার হাসে সেই চোখ, সেই মুখ। সে আবার স্কুলে যাওয়া শুরু করল আগামী দিনের নতুন স্বপ্নে।  
হত দরিদ্র কুষ্টিয়ার লালন কন্যা বিউটি পাশে দাঁড়ায় গ্রামের কাগজ। ক্লোজ আপ ওয়ানে তখন চলছে এসএমএস যুদ্ধ। রাউন্ডের পর রাউন্ড এগিয়ে যাওয়া বিউটির পাশে দাঁড়ালো  গ্রামের কাগজ। বিউটির জন্য প্রতিদিন বিশেষ কর্ণার করে মাসব্যাপি ভোট প্রার্থনা করা হল। শেষমেশ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের গণমানুষের এসএমএস ভোটে এগিয়ে গেল বিউটি।
২০১৫ সালে যশোর ইন্সটিটিউটের শিক্ষক কাজীপাড়ার ওয়াহিদুজ্জমান ওয়াহিদের পাশে দাঁড়ায় গ্রামের কাগজ। ক্যান্সারে আক্রান্ত ওয়াহিদুজ্জামানের জন্যে চিকিৎসা তহবিল গঠন করে। তার তহবিলেও গ্রামের কাগজ পরিবার প্রথমে টাকা দেয়। এরপর একে একে এ অঞ্চলের মানুষ যোগ দেন ওই তহবিলে। প্রাই আড়াই লাখ টাকা জমা পড়ে। ক্যান্সারে আক্রান্ত ওয়াহিদুজ্জমান ওয়াহিদকে চিকিৎসায় পাঠানো হয় কলতার প্রখ্যাত ডাক্তার প্রশান্ত ব্যানার্জীর কাছে।
যশোরের কণ্ঠ শিল্পী আমিন মাহমুদ বাব্ ুপাশেও দাড়ায় গ্রামের কাগজ। একটি কুচক্রি মহলে উৎপাতে নিজের কাপড়ের দোকান ছেড়ে যখন তিনি ফুটপথে। তখন দৃষ্টি পড়ে গ্রামের কাগজের। সমাজের হৃদয়বান ও দায়িত্বশলিদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরী করে গ্রামের কাগজ। আর তাতেই দৃষ্টি পড়ে যশোর সদর উপজেলা  সহকারি ভূমি কমিশনারের। তিনি পত্রিকা পড়ে যোগাযোগ করে একটি কাজ দেন। এখন বাবু আর ফুটপথে বসেননা। ভালভাবে অফিস করছেন, ভাল বাড়িতে ভাড়া থাকেন এবং পালসার মোটর সাইকেলে চলা ফেরা করেন কন্ঠ শিল্পী আমিন মাহমুদ বাবু।
এদিকে ২০১৭ সালে গ্রামের কাগজের দেড় যুগ উদযাপন অনুষ্ঠানে ১৮ জন গুণীকে সংবর্ধিত কর হয়। তারণ্যে ৫ জনকে। আর বিভিন্ন সেক্টরে ভূমিকা রাখায় ১৩ গুণীকে সংবর্ধিত করা হয়। ২০১৮ সালে দু’দশক পূর্তি অনুষ্ঠানে আরও ৭ গুণীকে সংবধিত করা হয়।
আরো মরে রাখা মত বিষয়, পত্রিকার সম্পাদক গ্রামের কাগজ পরিবারের অভিভাবক মবিনুল ইসলাম মবিন ২০১৮ সালে সাংবাদিতায় সমাজ কর্ম  সম্মাননা অর্জন করেন। যশোরের জাগরনী চক্র ওই অ্যাওয়ার্ডটি প্রদান করে। ওই সংবর্ধনা থেকে পাওয়া ২০ হাজার টাকা সমাজের ছিন্নমূল শিশুদের জন্য ব্যয় করা হয়েছে। পথ শিশুদের কল্যানেও ব্যয় হয়েছে। আর এগুলো নিঃসন্দেহে খবরের বাইরের কাজ।
এছাড়া অনিয়ম অসংগতি ও দুণীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন সংবাদ প্রকাশ করে গত ২২ বছরে পত্রিকাটি একদিকে পাঠক নন্দিত হয়েছে, তেমনি ভীত কাপিয়েছে অনেহক গোষ্ঠী ও মহলকে। গণ মানুষের কাগজ হয়ে ওঠার স্বপ্ন বাস্তায়িত হয়েছে এটা বলতে পারি আমা মূল্যায়ন ও জায়গা থেকে। অনেক ধরনের সাড়া জাগানো ও জনস্বার্থ সংরক্ষণ সংক্রান্ত অনেক আরও অনেক কাজ করেছে গ্রামের কাগজ। অনেক সময় তাৎক্ষনিক ফলাফলও এসেছে। গ্রামের কাগজ অন্যায় নিপিড়ণের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। আবার সামাজিক দায়বদ্ধতায় মানবিক মূল্যবোধ থেকে অনেক রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রশংসাও কুড়িয়েছে। গ্রামের কাগজের সামাজিক ও মানবিক অনেক কাজ রয়েছে যার সুনাম মানুষের মুখেমুখে। আর ওই সুনাম ও প্রশংসা গ্রামের কাগজের বড় অর্জণ, বড় প্রাপ্তি।         









« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft