মতামত
শিরোনাম: যশোরে কোয়ারেন্টাইনে নারীর মৃত্যু       বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ       হেফাজত তাণ্ডব: দায় স্বীকার করলেন হারুন       তিন ক্লাবের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু       শুক্রবার ঈদ       রাস্ট্রিক সোসাইটির উদ্যোগে উপহার সামগ্রী বিতরণ       মণিরামপুরে ঈদ বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ        তাড়াহুড়োয় ফেরিতে প্রাণ গেল ৬ জনের       কোয়ারেন্টাইনে ঈদ করবেন আড়াই সহস্রাধিক মানুষ       আজ চাঁদ উঠলে কাল ঈদ       
অনেক চ্যালেঞ্জ: আমরাও তৃপ্ত নই
সরোয়ার হোসেন
Published : Thursday, 25 March, 2021 at 8:08 PM, Count : 325
অনেক চ্যালেঞ্জ: আমরাও তৃপ্ত নইপ্রিয় গুরু, সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন ভাইয়ের ইচ্ছায় দ্বিতীয়বারের মতো কাজ করার সুযোগ হলো গ্রামের কাগজে। বেশ কিছু দিনের আলাপ-আলোচনার পর ২০১৯ সালের ১০ জুন বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগদান করি। এর আগেও আমি পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ছিলাম-সেটা ছিল সাপ্তাহিক গ্রামের কাগজ। পোস্ট অফিস পাড়ায় আজকে যেখানে দৈনিক গ্রামের কাগজের অফিস তার পাশেই ছোট একটা দোকানের মতো ঘরে ছিল পত্রিকার সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশনার পর প্রথম দপ্তর। ওই অফিসে বসেই অল্প কয়েকজন কাজ করতাম। তাদের দু’একজনকে এবারের যাত্রায়ও সহকর্মী হিসেবে পেয়েছি। হারিয়েছি একজনকে।
মবিন ভাইয়ের সাথে আমার যুথবদ্ধতা দৈনিক দেশহিতৈষী থেকে। নব্বই’র দশকে দেশহিতৈষী সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হওয়ার পর মবিন ভাই ছিলেন পত্রিকাটির দ্বিতীয় বার্তা সম্পাদক। আমি পত্রিকায় প্রথম থেকে লেখালেখি করলেও সাংবাদিকতার প্রথম পাঠ পাই মবিন ভাইয়ের কাছ থেকেই। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন নিউজ কী, নিউজের উৎস কী, কীভাবে নিউজ লিখতে হয় ইত্যাদি। মবিন ভাই নিয়মিত ফিচার লিখতেন। তার লেখা ছাপা হতো ডেভ ফিচার এ। তিনি ছিলেন শাহাদৎ হোসেন কাবিল ভাইয়ের ভক্ত। বলতেন, ‘কাবিল ভাইয়ের মতো ফিচার কেউ লিখতে পারেন না’। আমিও কাবিল ভাইয়ের ভক্ত ছিলাম। কিন্তু, মবিন ভাই যে ফিচার লিখতেন সেটা আমার দেখা সে সময়ের সেরা। তিনি আমাকে হাতে-কলমে ফিচার লেখা শিখিয়েছেন। ডেভ ফিচার এ আমার লেখা প্রথম ফিচার ‘গরিবরা যেখানে সেবা পায়’ বলা চলে মবিন ভাইয়েরই লেখা। আমি যেটা লিখেছিলাম সেটাকে তিনি এমনভাবে কাটাছেঁড়া করেছিলেন যে সেই ফিচার উনার লেখাই মনে হয় আমার কাছে। সাংবাদিকতার গুরুর কাছ থেকে তারই পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে শুরুর যে ভয়, দ্বিধা ছিল তা প্রথম থেকেই মুছে গিয়েছিল উনার উদার সহযোগিতায়। তার নির্দেশে সে সময় সাপ্তাহিকে একাধিক আলোচিত নিউজ করেছি যা তখনকার দৈনিকগুলোতেও প্রকাশ হয়নি।
আমাদের সে যাত্রা এক বছরের বেশিদিন এগোয়নি। গ্রামের কাগজ থেকে যোগদান করি দৈনিক রানার-এ। একইসাথে কাজ করতাম আজকের কাগজ গ্রুপের সাপ্তাহিক খবরের কাগজ-এ। এরইমধ্যে ২০০০ সালের প্রলয়ংকারী বন্যায় ভেসে গেলো যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের জনপদ। সেসময় দৈনিক রানার থেকে অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে নিউজ কাভার করতে গেছি মহেশপুর, শার্শায়। কাছ থেকে দেখেছি বন্যার্ত মানুষের হাহাকার আর দুর্ভোগ। ফিচার লেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ সেটা যে এমনভাবে কাজে লাগবে তা প্রথমে উপলব্ধি করি সেই বন্যায়। দৈনিক রানার ও খবরের কাগজ এ সেসময় বন্যা নিয়ে আমার একাধিক লেখা ছাপা হয়েছে। মানব পাচার নিয়ে মহেশপুরের আব্দুর রহমান ভাইয়ের সাথে এক সপ্তা কাজ করেছি। ঘুরে বেড়িয়েছি সীমান্তবর্তী ন্যাপা, যাদবপুর, বাঁশবাড়িয়াসহ একাধিক এলাকা। সেখান থেকে তুলে আনা তথ্য নিয়ে আমার করা নিউজ পরিবর্তীতে দেখেছি একাধিক জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে আমার সাথে যোগাযোগ করে তথ্য নিয়েছেন। যোগাযোগ করেছেন বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারাও। মানব পাচার ও অনিরাপদ অভিবাসন নিয়ে পরবর্তীতে একটি মানবাধিকার সংস্থায় দীর্ঘ দেড় যুগ কাজ করার সময় সাংবাদিকতার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি।
দীর্ঘ প্রায় দু’দশক পর ফের মবিন ভাই আমাকে সুযোগ দিয়েছেন বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করার। তবে এবারের চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি। সাপ্তাহিকের বার্তা সম্পাদক আর দৈনিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হওয়া এক জিনিস না এটা যে কেউই বোঝেন। তাও আবার গ্রামের কাগজের মতো পাঠকপ্রিয় পত্রিকার। মাঝে পদ্মা-যমুনায় অনেক পানি গড়িয়েছে। বেড়েছে গ্রামের কাগজের কলেবর। সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক, তারপর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রথম রঙিন ও প্রথম আট পাতার পত্রিকা হওয়ার সাথে সাথে গ্রামের কাগজ অর্জন করেছে পাঠকের বিশ্বাস, ভালোবাসা ও মর্যাদা। সেই সাথে বেড়েছে পত্রিকার প্রচার সংখ্যাও। অনেকে দৈনিক গ্রামের কাগজকে বলে থাকে পদ্মার এপারের প্রথম আলো। এই তুলনা শুধুমাত্র প্রচার সংখ্যার জন্য নয়, মানের দিক থেকেও। সে কারণে গ্রামের কাগজের কাছে পাঠকের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তেমন একটি অবস্থায় দাঁড়িয়ে পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেয়া আর ২২ বছর আগে সাপ্তাহিক গ্রামের কাগজের দায়িত্ব নেয়ার মধ্যে পার্থক্য বিশাল। সেই গুরুদায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করে যে সহানুভূতি সম্পাদক মদোহয় দেখিয়েছেন তার সম্মান রক্ষা করাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
চ্যালেঞ্জ আরও আছে। এখন শুধু পত্রিকায় খবর ছাপালে হচ্ছে না। পাঠক নিউজ পেতে চান ঘটনার সাথে সাথে। সেজন্য গ্রামের কাগজের প্রিন্ট ভার্সনের সাথে সমানভাবে জনপ্রিয় হয়েছে অনলাইন ভার্সনও। অনলাইন ভার্সনকে সচল রাখতে নিতে হচ্ছে বাড়তি উদ্যোগ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা-উপজেলাগুলো থেকে প্রতিনিধিদেরকেও সেভাবে প্রস্তত করা হচ্ছে। অনেকে সাড়া দিচ্ছেন বিপুলভাবে, অনেকে প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর সংবাদ গ্রামের কাগজ অনলাইনে আপ করা হচ্ছে প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে। কেউ কেউ নিউজ পাঠানোর পর সেগুলো সময়মতো আপলোড করা না হলে ফিডব্যাকও দিচ্ছেন। করোনার এই সংকটকালে এমন একটা উদ্যোগ সাফল্যের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জ।
গত এক বছর করোনা পেন্ডামিকের কারণে সারা বিশ্বই প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। যার বাইরে আমরাও ছিলাম না। করোনাকালে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছাটাই করা হয়েছে। দেশের নামকরা পত্রিকাগুলো থেকেও সাংবাদিক-কর্মচারী ছাটাইয়ের খবর আমরা জানি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে বেতন পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু, গ্রামের কাগজ কর্তৃপক্ষ সে পথে না হেঁটে কীভাবে সবাইকে নিয়ে একসাথে এই সংকট মোকাবেলা করা যায় সে চেষ্টায় সচেষ্ট হয়েছে। কোনো সাংবাদিক বা কর্মচারী সে কারণে গ্রামের কাগজ থেকে চাকরি হারাননি। করোনার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিককে বাড়িতে বসে কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে লকডাউনের প্রথম কয়েক মাস। বার্তা সম্পাদক হিসেবে আমি নিজেও বাড়িতে বসে নিউজ এডিট করেছি, অনলাইনে আপলোড করেছি। সেই নিউজ পত্রিকায় ফের মেইল করেছি। দপ্তরে বসে সেটা ছাপার ব্যবস্থা করেছেন সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, নির্বাহী সম্পাদক আসাদ আসাদুজ্জামান। পরে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে তাদের সাথে যোগ দিয়েছে সহকারী সম্পাদক জাহিদ আহমেদ লিটন ও চিফ রিপোর্টার এম. আইউব। জুনিয়র সহকর্মীদের অনেকেও সেসময় বাড়িতে বসে কাজ করেছেন। কেউ কেউ অফিসে এসেছেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই। সিনিয়র রিপোর্টার ফয়সল ইসলামের ভূমিকা সেসময় ছিল প্রশ্নাতীত। ঘরে-বাইরে দু’স্থানেই সমানভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন তিনি। করোনাকালীন ওই ভয়াবহতার মধ্যেও তিনি খবরের জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। সাংবাদিকদের মধ্যে সত্যিকারের একজন করোনাযোদ্ধা হিসেবে সে সময় ফয়সলের ভূমিকা ছিল করোনার সঠিক তথ্য পাঠককে জানিয়ে নিরাপদে থাকার পথ বাতলে দেয়া। একটা পর্যায়ে আমরা ফের অফিসমুখো হয়েছি। কিন্তু, করোনাকালীন ওই অভিজ্ঞতা যেমন সাংবাদিক হিসেবে আমাদের কাছে ছিল নতুন, তেমনি এর থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে মবিন ভাই যে ভূমিকা পালন করেছেন তা এক কথায় ছিল অভাবনীয়। পেন্ডামিকের ওই সময়ে অফিসে মাস্ক, হ্যান্ডসেনিটাইজারসহ পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কেউ সিঁড়ির মুখে সাবান দিয়ে হাত না ধুয়ে পত্রিকার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারতেন না। পত্রিকার যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন তাদেরকে পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। সহকর্মীরা কাজের মাঝে মাঝে চেয়ার টেবিল স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করেছেন। যে কাজটি প্রায়ই করেছেন সম্পাদক মবিন ভাই নিজেই।
তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে একদিকে যেমন তথ্য সহজলভ্য হয়েছে, তেমনি তথ্য বিভ্রাট এবং তথ্য বিকৃতি মহামারি রূপ নিয়েছে। সংবাদকর্মী হিসেবে এটাও একটা চ্যালেঞ্জ। বিশ্বস্ততার ছাঁকনিতে অনেক সময় পরিপূর্ণভাবে সকল তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। বিশেষ করে এমন কিছু সংবাদ এমন সময় হাতে আসে তখন সেগুলোকে ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করা এবং যাচাই করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। সে কারণে মাঝেমধ্যে কিছু ভুল হওয়া স্বাভাবিক। তবে, গ্রামের কাগজ পাঠকের কাছে সঠিক তথ্য সরবরাহে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সে জন্য সকল সহকর্মী আন্তরিকভাবে কাজও করেন। আমাদের স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার পরও আমরা ভ্রান্তিকে পরিপূর্ণভাবে দূর করতে সক্ষম হইনি। কিন্তু, থেমে যাওয়া আমাদের ধাতে নেই। সে কারণে ভুল থেকে প্রতিনিয়ত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি পাঠকের চাহিদা পূরণে। কোনো তৃপ্তির ঢেঁকুরও আমাদের আরও ভালো থেকে নিবৃত করতে পারবে না-পাঠকের কাছে আমাদের অঙ্গীকার।

সরোয়ার হোসেন, বার্তা সম্পাদক







« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft