মতামত
শিরোনাম: যশোরে কোয়ারেন্টাইনে নারীর মৃত্যু       বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ       হেফাজত তাণ্ডব: দায় স্বীকার করলেন হারুন       তিন ক্লাবের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু       শুক্রবার ঈদ       রাস্ট্রিক সোসাইটির উদ্যোগে উপহার সামগ্রী বিতরণ       মণিরামপুরে ঈদ বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ        তাড়াহুড়োয় ফেরিতে প্রাণ গেল ৬ জনের       কোয়ারেন্টাইনে ঈদ করবেন আড়াই সহস্রাধিক মানুষ       আজ চাঁদ উঠলে কাল ঈদ       
মহামারিতেও পাঠকের পাশে রয়েছি আমরা
এম. আইউব
Published : Thursday, 25 March, 2021 at 8:14 PM, Count : 141
মহামারিতেও পাঠকের পাশে রয়েছি আমরাদীর্ঘ এক বছর ধরে চলছে মহামারি করোনার আগ্রাসন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন ভয়াবহ এই করোনায়। প্রাণঘাতি এই মহামারির কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মানুষ যখন যে যার মতো নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সেভজোনে অবস্থান করছিলেন তখনও গ্রামের কাগজের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠককে নানা ধরনের খবর দিয়েছেন। সচেতন করেছেন। কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন সেই সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছেন। এই কারণে এখনো পর্যন্ত পাঠকের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম রয়েছে গ্রামের কাগজ।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঠকপ্রিয় পত্রিকার নাম উঠলেই গ্রামের কাগজের নাম আসে। এটি আমাদের কথা না। পাঠকরা অকপটে স্বীকার করেন এ কথা। পাঠক এই স্বীকার কীভাবে করেন তা নিয়েও কারো কারো প্রশ্ন থাকতে পারে। সমালোচকদের মনে এ প্রশ্নতো রয়েছে! পাঠকের এই বিচারের কথা তখনই স্পষ্ট হয়, যখন কোনো কিছুর শুরুটা তারা গ্রামের কাগজ দিয়ে করেন। একজন ডাক্তার নতুন কোনো কিছু করেছেন তিনি সেটি আগে গ্রামের কাগজকে জানান। কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো কিছু শুরু হতে যাচ্ছে সেখানকার লোকজন গ্রামের কাগজকে জানিয়ে শুরু করছেন। কোথাও কোনো গুজব ছড়াচ্ছে পাঠক নিজের ফোনের টাকা খরচ করে প্রথমে গ্রামের কাগজকে জানাচ্ছেন। কোথাও কোনো অপরাধ হচ্ছে পাঠক ফোন করে সেটি তাদের প্রিয় গ্রামের কাগজকে বলছেন। এক কথায় সমাজের বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি নিয়ে বলার মতো আস্থার জায়গা গ্রামের কাগজকে মনে করেন পাঠক। তবে,কালেভদ্রে মিসইনফরমেশনও চলে যায় সাংবাদিকদের হাত দিয়ে। যেটি সাংবাদিকদের একেবারেই আওতা বহির্ভূত। ধরুন, পত্রিকার পাতা রাত ১১ টায় কমপ্লিট হয়ে গেছে। প্রেসে চলে যাচ্ছে। ঠিক তখনই এমন একটি খবর সোর্স দিলেন যা পরের দিন পাঠকের জানা খুবই জরুরি। রাত ১১ টায় পাওয়া এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করার সাংবাদিকের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব না। এমন দু’ একটি ঘটনা সব গণমাধ্যমে ঘটেই থাকে।
পাঠকের আস্থার দাম দিতে গিয়ে গ্রামের কাগজের নবীন-প্রবীণ সংবাদকর্মীরা নিরন্তর ছুটে চলেছেন। পত্রিকাটির প্রাণ পাঠককে কীভাবে বস্তুনিষ্ট সংবাদ দিতে পারবো তা নিয়ে আমরা সদা সতর্ক। এরপরও কখনো কখনো আমরা হয়তো শতভাগ তথ্য দিতে পারিনা। আর তখনই পাঠক কিছুটা হলেও আশাহত হন। এ সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য,‘সংবাদ মাধ্যমকে বেশিরভাগ সময় সোর্সের উপর নির্ভর করে চলতে হয়। সোর্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যকে সাজিয়ে সংবাদকর্মীরা পাঠকের মনের খোরাক যোগান। গ্রামের কাগজও তার বাইরে না। এ কারণে আমাদের সংবাদে কখনো কখনো অনিচ্ছাকৃত অসম্পূর্ণতা থাকে। যা স্বীকার করা কোনো দোষের বলে মনে করি না। তারপরও আমাদের একঝাঁক সংবাদকর্মী সাধ্যমতো চেষ্টা করেন পাঠকের পরিপূর্ণ খোরাক যোগাতে।
পাঠককে আরেকটি কথা জানাতে চাই, সেটি হচ্ছে-গ্রামের কাগজের সম্পাদক জনাব মবিনুল ইসলাম মবিন একজন আপাদমস্তক সাংবাদিক। মাঠের সাংবাদিকতার বিভিন্ন ধাপ পার করে তিনি এখানে এসেছেন। সংবাদ সংগ্রহ,তৈরি ও উপস্থাপনে তার জুড়ি মেলা ভার। তিনি তার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দিন-রাত। যে কারণে চাইলেও গ্রামের কাগজের সাংবাদিকরা ফাঁকিবাজি করতে পারিনা! ঠকাতে পারিনা তিন টাকা দিয়ে গ্রামের কাগজ কেনা পাঠককে। যা অনেক পত্রিকায় অনুপস্থিত। আর এ কারণে গ্রামের কাগজ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো পাঠকের অন্তরের অন্তঃস্থলে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে অতিদ্রুত। দীর্ঘ দু’ যুগ ধরে পাঠকের অবিচল আস্থা রয়েছে গ্রামের কাগজের উপর।
আজ ২৬ মার্চ আপনাদের প্রিয় গ্রামের কাগজ তার পথচলার ২৩ বছর পূর্ণ করল। এ পর্যন্ত আসতে গ্রামের কাগজকে অনেক বন্ধুর পথ মাড়াতে হয়েছে। কেবল তাই না, পাঠকের মনে জায়গা করতে কর্তৃপক্ষকে সংগ্রাম করতে হয়েছে দিনের পর দিন। গলদঘর্ম হয়েছে পত্রিকাটির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের।
১৯৯৯ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে গ্রামের কাগজ জন্মলাভ করে। প্রথমে সাপ্তাহিক আকারে প্রকাশ হয় পাঠকের প্রিয় এই দৈনিকটি। সেসময় অনেকে ভ্র কুঁচকে নানা মন্তব্য করেছিলেন। যা নিরবে সহ্য করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। এরপর সমালোচকদের গালে চপেটাঘাত করে সাপ্তাহিক থেকে দৈনিকে পা রাখে পত্রিকাটি। তখন যশোরের বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরতদের মধ্যে থেকে অনেকেই এসে যোগ দেন গ্রামের কাগজে। তখনও নতুন করে সমালোচনা শুরু করেন নিন্দুকেরা। এরপর কিছুদিনের মধ্যেই দৈনিক গ্রামের কাগজ চার রঙে ছাপানো শুরু হয়। যা ছিল যশোরের সংবাদপত্র জগতের প্রথম ঘটনা। এরপর সমালোচকরা চুপসে যান। তখন তারা ভিন্ন কথা বলতে শুরু করেন। অনেকেই বলেন, গ্রামের কাগজ অনেক দূর যাবে। শেষ অবধি তাদের কথা সত্যি হয়েছে। অবশ্য এ পর্যন্ত আসতে সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মবিনুল ইসলাম মবিনকে কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। তার উপর দিয়ে এক প্রকার ঝড় বয়ে গেছে। তারপরও হাল ছাড়েননি তিনি। বুদ্ধিমত্তার সাথে সবকিছু সামলে নিয়েছেন। আর তারই ফল এটি।  
বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বাধিক প্রচারিত এই পত্রিকাটির প্রসার যেমন বেড়েছে তেমনি পাঠকের কাছে এর দায়বদ্ধতাও বেড়েছে বহুগুণে। অনেক পাঠক রয়েছেন, যারা বিভিন্ন পত্রিকা পড়ার পরও গ্রামের কাগজ পড়ার অপেক্ষায় থাকেন। তাদের বিশ্বাস, গ্রামের কাগজ পড়লেই হয়তো আসল ঘটনা জানা যাবে।
আমরা পাঠকের এই চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখেই যতটা সম্ভব বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের চেষ্টা করে থাকি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি পাঠকই গ্রামের কাগজের মূল শক্তি। পাঠক যদি কোনো কারণে গ্রামের কাগজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন তাহলে আমাদের যাবতীয় শ্রম যে পন্ডশ্রমে পরিণত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে আমরা যেমন সচেতন ঠিক তেমনি আমাদের পাঠকও। আর এ কারণে পত্রিকায় ছাপানো কোনোকিছু থেকে পাঠকের দৃষ্টি এড়ায় না।  এতেই আমরা বুঝি গ্রামের কাগজের প্রতি পাঠকের কতটুকু মমত্ববোধ রয়েছে। তারা চান নির্ভুল গ্রামের কাগজ দেখতে। যাতে গর্ব করে বলতে পারেন যে, তারা গ্রামের কাগজের পাঠক।
পাঠকের চাহিদা পূরণে গ্রামের কাগজে কর্মরত সাংবাদিকসহ বিশাল কর্মী বাহিনী নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। তারপরও আওতা বহির্ভুত কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকা অসম্ভব না। আমরা বিশ্বাস করি, যে পাঠক তিন টাকা দিয়ে একটি গ্রামের কাগজ কিনে পড়েন তার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা কোটি টাকার সমান। এ কারণে কর্তৃপক্ষ পাঠকের আকাক্সক্ষার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে প্রতিনিয়ত। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে যেসব পাঠক গ্রামের কাগজের সাথে রয়েছেন তাদের প্রতি রইল আমাদের অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা। সামনে চলার পথে পাঠকের অনুপ্রেরণা আমাদের সাহস যোগাবে।
গ্রামের কাগজের সাফল্যে এখনও পর্যন্ত ঈর্ষা করা লোকের অভাব নেই। এমনকি কোনো কোনো সাংবাদিক বন্ধুও আমাদের প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে জ্ঞান দেয়ার চেষ্টা করেন। অথচ ওই বন্ধুর যে হাজারো দুর্বলতা রয়েছে সেদিকে তার খেয়াল নেই।
পাঠকের আস্থা অর্জনে গ্রামের কাগজের নিরন্তর এই ছুটে চলা অব্যাহত থাকবে। করোনার এই মহাদুর্যোগের মধ্যে গ্রামের কাগজের গত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিলনমেলার আনন্দ থেকে আমাদের পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের বঞ্চিত করতে হয়েছে। যেটি আমাদের একেবারেই অনিচ্ছাকৃত। গ্রামের কাগজের প্রাণ পাঠক শুভান্যুধায়ীদের আবদার পূরণ করতে আমরা এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন এড়াতে পারলাম না। সকলেই মহামারি করোনার ভয়ঙ্কর থাবা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করি-গ্রামের কাগজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এইদিনে সেই প্রত্যাশা রইল। মহামারিতেও আপনাদের পাশের আছি আমরা।
 
 





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft