মতামত
শিরোনাম: চিরবিদায় নিলেন চিত্রনায়ক ওয়াসিম       মানবতার ফেরিওয়ালাদের দেখা নেই       এক সপ্তায় চালু হচ্ছে যমেক হাসপাতালের আইসিইউ       হাজার হাজার মানুষের লাশ কাটা গোবিন্দও লাশ হলেন       ডাক্তার সেজে ওটির সামনে রোগী দেখেন সহকারী ফিরোজ       যশোরে সাড়ে সাত হাজারের বেশি পণ্য হোম ডেলিভারি দেবে চাল ডাল ডটকম       খাজুরায় জুয়াড়ীদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা, জুয়ার কোটে অভিযান       মেডিকেলে ভর্তিতে যশোরে ভ্যানচালকের মেয়ের অভূতপূর্ব সাফল্য       হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর বি টিম : হানিফ       প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে দেয়ায় যুবক গ্রেফতার      
আবার ভয়াল দৃষ্টি করোনার
মাহমুদা রিনি
Published : Saturday, 3 April, 2021 at 9:55 PM, Update: 03.04.2021 9:59:28 PM, Count : 120
আবার ভয়াল দৃষ্টি করোনারভয়াল দৃষ্টি ফেলে আবার ফিরে দাঁড়িয়েছে কোভিড উনিশ করোনা ভাইরাস। আক্রান্তের মাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও রীতিমতো ভীতিকর।
আমরা সবাই জানি ২০২০ সাল বিশ্ব ব্যাপি মহামারী এই ভাইরাস প্রলয় তাণ্ডব চালিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আমাদের দেশও তার বাইরে নয়। করোনা তার ভয়ংকর প্রভাব ফেলেছে আমাদের এই ছোট দেশটির উপর। গতবছর মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস এর প্রবেশ এবং ধীরে ধীরে এর প্রকোপ শুরু হয়। কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও আর্থসামাজিক প্রেক্ষিতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, বলা যায় মুখ থুবড়ে পড়েছে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, যা এখন পর্যন্ত কোনভাবেই নিয়মের মধ্যে আনা যাচ্ছে না। ক্লাস ওয়ান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বত্রই অনিশ্চিত এবং সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচলে দুলছে। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হলো তা কাটিয়ে উঠতে আমাদের কত সময় লাগবে তার হিসাব করা কঠিন। এছাড়াও সংবাদ মাধ্যম,  বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বা সবরকমের ব্যবসায় ব্যাপক ধ্বস সহ নানাবিধ ভাবে সকল শ্রেনীপেশার মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে যার রেশ এখনো চলমান।
ইতিমধ্যে এই সংক্রমণে আমরা হারিয়েছি আমাদের দেশের বহু বরেণ্য গুণী ব্যক্তিবর্গকে। সবকিছু মিলিয়ে বিশ্ব এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে গত এক থেকে দেড়বছরে।
এর মধ্যেই সেপ্টেম্বর- অক্টোবর থেকে করোনার প্রকোপ কিছুটা শিথিল হতে থাকে। যদিও ভয় ছিল শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে, কিন্তু তেমন আশঙ্কাজনক কিছু হয়নি বরং যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণেই ছিল বলা যায়। এরমধ্যে লকডাউনও উঠে যায় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার কার্যক্রম শুরু করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি সবকিছুই যখন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যখন সরকার ঠিক তখনই এই ভাইরাস আর একধাপ ভোল পাল্টিয়ে বিকটদর্শন চেহারায় আবার মাঠে নেমেছে।
আমরা জানি ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়েছে এবং নানা রকম আশা, আশঙ্কা, উৎকণ্ঠার পর গত ফেব্রুয়ারী থেকে আমাদের দেশে তার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। চল্লিশোর্ধ্ব মানুষকে ভ্যাক্সিনের আনার চেষ্টা করে চলেছে সরকার। তাছাড়াও স্কুল কলেজ খোলার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সকল শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দকে টিকার আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এতকিছুর পরও করোনা দ্বিতীয় ধাক্কায় থাবা বিস্তার করছে। প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তের ধরণ আরো প্রকট হচ্ছে। আমরা টিভিতে মৃতের সংখ্যা দেখছি কিন্তু একেকটি সংখ্যা যে একজন মানুষ ও তার পরিবার সেটা নিয়ে ভাবছি না। এই একবছরে বিষয়টি আমাদের এতটা গা-সওয়া হয়ে গেছে যে সাধারণ মানুষকে আর স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার মতো সচেতন করা যাচ্ছে না। আমরা কেউই মনে হয় এই উদাসীনতার বাইরে নই।
তারপর বর্তমান সময় চলছে মার্চ মাস। এমনিতেই মার্চ মাস আমাদের জাতীয় জীবনে অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। এবছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী চলছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। বিশ্ব নারী দিবসও এমাসে। সবমিলিয়ে পুরো মাস জুড়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় জনসমাগম, সভা- সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই সময়ে মানুষ কোনভাবেই করোনা ভীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সচেতন আচরণ করছে না। হয়তো করা সম্ভবও হচ্ছে না।
ছয়মাসেরও বেশি সময় মানুষ গৃহবন্দী থেকেছে। সেই দুঃসহ স্মৃতি আমরা  মনে করতেও ভয় পাই। আবার তেমন দিন আসবে, আবার মানুষের সান্নিধ্য বঞ্চিত হতে হবে এই ভাবনা মানুষ আর চিন্তার জগতে ঠাঁই দিতে পারছে না। এমনকি মাস্ক পরতেও মানুষের চরম অনীহা। আসলে আমাদের দেশের এই উষ্ণ আবহাওয়ায় মাস্ক পরা বা সঠিক স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা বেশ কঠিন, তবুও জীবন সবার আগে। জীবন থাকলে আপনি কষ্ট- শান্তি, সুখ-দুঃখ অনুভব করতে পারবেন। জীবনই যদি না থাকে কষ্টের ভয় পেয়ে কি লাভ হবে! আর এইটুকু কষ্টের ভয়ে যদি আমরা  করোনাকে প্রশ্রয় দিই তাহলে সে আমাদের মৃত্যু উপহার দেবে। আমাদের পরিবার পড়বে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে। অর্থাৎ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আবার আমাদের একাট্টা হয়ে করোনাকে প্রতিহত করার যুদ্ধে নামতে হবে।
তবে সত্যি সাধারণ মানুষকে দ্বিতীয় বার সচেতনতায় আনা বেশ কঠিন। প্রয়োজন মৃত্যুর  ভয়কেও প্রতিহত করে অনেক সময়। এই জন্য যদি সত্যি করোনা আবার ভয়াবহ রূপ ধরে তাহলে কতৃপক্ষকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নিতে হবে। করোনার ধরণ- প্রকরণ নিয়ে নানান রকম কথাও শোনা যাচ্ছে। এর আগে করোনা ভাইরাস অসুস্থ, বয়স্কদের জন্য বেশি বিপদজনক ছিল কিন্তু এবার নাকি বয়সের কোন সীমা পরিসীমা কিছুই মানছে না। ছোট বড় সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এসব পুরোটা সত্যি না গুজব তা নিয়েও অনেকের মনে সংসয় আছে। তাই নতুন করে করোনা ভাইরাস এর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে এবং জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক ভাবে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়তো এখনি প্রয়োজন। শুধু টিভি আর খবরের কাগজে নির্ভরশীল না হয়ে পাড়া-মহল্লায়, যানবাহনে- রাস্তায় সর্বত্রই আগের মত প্রচার প্রচারণা চালানোর সময় এসেছে বলে মনে হয়।










« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft