দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: চিরবিদায় নিলেন চিত্রনায়ক ওয়াসিম       মানবতার ফেরিওয়ালাদের দেখা নেই       এক সপ্তায় চালু হচ্ছে যমেক হাসপাতালের আইসিইউ       হাজার হাজার মানুষের লাশ কাটা গোবিন্দও লাশ হলেন       ডাক্তার সেজে ওটির সামনে রোগী দেখেন সহকারী ফিরোজ       যশোরে সাড়ে সাত হাজারের বেশি পণ্য হোম ডেলিভারি দেবে চাল ডাল ডটকম       খাজুরায় জুয়াড়ীদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা, জুয়ার কোটে অভিযান       মেডিকেলে ভর্তিতে যশোরে ভ্যানচালকের মেয়ের অভূতপূর্ব সাফল্য       হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর বি টিম : হানিফ       প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে দেয়ায় যুবক গ্রেফতার      
অবৈধ দখলদার বহাল রেখেই চলছে ভৈরব নদ নুরপুর অংশের খনন
অভিজিৎ ব্যানার্জী
Published : Tuesday, 6 April, 2021 at 9:26 PM, Count : 235
অবৈধ দখলদার বহাল রেখেই চলছে ভৈরব নদ নুরপুর অংশের খনন প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ভৈরব নদ খননে যশোরের নুরপুর অংশে প্রকল্পের সীমানা ও ম্যাপ মানা হচ্ছে না। একটি মধ্যসত্বভোগী দালাল চক্রের মধ্যস্থতায় অনেক অবৈধ দখলদার বহাল রেখে খনন কার্যক্রম এগুচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য করে নদ পাড়ের হাফ ডজন পাকা ভবন মালিককে সন্তুষ্ট করা হচ্ছে। ওই এলাকার সানি, তাইজুল ও বাশার চক্রের ভূমিকায় এ অংশে নদের মানচিত্রই বদলে যেতে পারে। ৫ এপ্রিল এলাকাবাসীর অভিযোগে ওই এলাকায় সরেজমিনে গেলে শ’ শ’ মানুষ নদ খননে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দ্রুত প্রতিকার দাবি করেন।
যশোরাঞ্চলের গণমানুষের প্রাণের দাবির মুখে ভৈরব নদ খনন শুরু হয়ে এখন প্রায় শেষের পথে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি শুধু ১০ শতাংশ কাজ। আর নদী সংস্কার আন্দোলন কমিটি বলছে, কোনো ঠিকাদারের কাজ ডিজাইন মোতাবেক হচ্ছে না। আর খনন অংশের সর্বত্রই ব্যাপক ঘাপলাবাজির মধ্যে হয়েছে এবং হচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ চলেছে। নানা তালবাহানা ও অস্বচ্ছতার কারণে যশোর শহরের অংশ যথাযথভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে না। নদী সংস্কার আন্দোলন কমিটির নানা প্রতিবাদের এক পর্যায়ে সম্প্রতি শহর অংশের বিভিন্ন স্পট থেকে খবর আসছে, নদের ম্যাপ ও রেকর্ডের ব্যত্যয় ঘটিয়ে খনন এগুচ্ছে। অনেকের ভবন বেধে গেলেও  না ভেঙে ‘গোপন বাণিজ্য’ করে ছাড় দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যশোরের শহরতলী নুরপুর অংশের হাফডজন ভবন নদের জায়গায় পড়লেও তা না ভেঙে খনন এগুচ্ছে।  
স্থানীয়দের অভিযোগে ও সরেজমিনে তথ্য মিলেছে, খয়েরতলা বাজার থেকে নুরপুর ডাকাতিয়া ব্রিজের পূর্বপাশে নদের উত্তর পাড়ের সাজেদ আলম সানি, তাইজুল ইসলাম, আবুল বাশার ও নুর ইসলামের বাড়ি এবং আসাদুজ্জামানের বাড়ির সামনের টাওয়ারের একাংশ নদের সীমানায় পড়লেও তা ভাঙা হচ্ছে না। ওই অংশ বাদ রেখেই নদ খনন হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী কয়েকদফা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রোহান আহমেদকে জানালেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এলাকার বিতর্কিত একটি রাজনৈতিক মহল মধ্যস্থতা করেছে। তারা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ওই বাড়িগুলো রক্ষা করছেন। টেনেটুনে আগামী বর্ষা মৌসুম পর্যন্ত নিতে পারলেই ওই অংশে এবড়ো থেবড়ো খনন হালাল করা সম্ভব হবে বলেও এলাকায় প্রচার করছে মহলটি। এছাড়া উচ্ছেদ এড়িয়ে অবৈধ স্থাপনা বহাল রাখতে দখলদার সানিসহ ওই চক্রটি দৌঁড়ঝাপ করছেন।
অবৈধ দখলদার বহাল রেখেই চলছে ভৈরব নদ নুরপুর অংশের খনন স্থানীয়দের দাবি, দু’পাশের অবৈধ দখলদার বহাল রেখে নদ খনন করা হলেও সেটা খালে পরিণত হবে। এলাকার শামসুল হক, নুর ইসলাম, আব্দুল মালেক, মনিসহ অনেকেই জানান, তাদের বাড়ি বেধেছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড তা ভেঙে দিয়েছে। তারা টাকা ছাড়েননি তাই রক্ষা পাননি। কিন্তু একই এলাকায় এখনও অনেক ভবন বহাল রয়েছে। এলাকার আসাদুজ্জামান, আব্দুর রফিক,  মিজানুর রহমান, জয়নাল আবেদীন বিপ্লব টিংকু জানান, এলাকার সানি তাইজুল বাশারের ভবন অজ্ঞাত কারণে ভাঙা হচ্ছে না। তাদের বাড়ি বাদ রেখে নদের ডিজাইন পাল্টিয়ে খনন এগুচ্ছে। মোটা অংকের অর্থ লেনদেন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা ও এক যুবনেতা এই লেনদেনে ও যোগসাজসে জড়িত। তারা দ্রুত এর প্রতিকার দাবি করেন।  
এদিকে, কাশিমপুর ইউনিয়ন যুবলীগ আহবায়ক হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পক্ষে তিনি। তার দাবি সীমানা ও ডিজাইন আনুযায়ী নদ খনন করা হোক। সানি তাইজুল বাশারসহ যাদেব বাড়ি বেধেছে সব ভেঙে জনস্বার্থে  নদ খনন করা হোক।
নদের ওই অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রোহান আহমেদের সাথে তার ০১৭৩৭৭৬০৮৯৪ নম্বর মোবাইলে গ্রামের কাগজের ০৪২১-৬৬৬৪৪ নম্বর থেকে ৪ দফা ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যে কারণে এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়া একজন সিনিয়র প্রকৌশলী যার  নম্বর  ০১৭১১৮২৯৪২৫। তার সাথে কথা বলার জন্য ৩ বার ফোন করা হলে একবার রিসিভ করে হ্যালো হ্যালো বলে রেখে দেনে। পরের দু’বার ফোন আর রিসিভ করেননি।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft