দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: চিরবিদায় নিলেন চিত্রনায়ক ওয়াসিম       মানবতার ফেরিওয়ালাদের দেখা নেই       এক সপ্তায় চালু হচ্ছে যমেক হাসপাতালের আইসিইউ       হাজার হাজার মানুষের লাশ কাটা গোবিন্দও লাশ হলেন       ডাক্তার সেজে ওটির সামনে রোগী দেখেন সহকারী ফিরোজ       যশোরে সাড়ে সাত হাজারের বেশি পণ্য হোম ডেলিভারি দেবে চাল ডাল ডটকম       খাজুরায় জুয়াড়ীদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা, জুয়ার কোটে অভিযান       মেডিকেলে ভর্তিতে যশোরে ভ্যানচালকের মেয়ের অভূতপূর্ব সাফল্য       হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর বি টিম : হানিফ       প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে দেয়ায় যুবক গ্রেফতার      
মোবাইলকোর্ট ও পুলিশের একশান অব্যাহত
গ্রামাঞ্চলে লকডাউন কার্যকর হচ্ছে না, একই অবস্থা শহরের চায়ের দোকানে
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Tuesday, 6 April, 2021 at 9:31 PM, Update: 06.04.2021 9:38:56 PM, Count : 289
মোবাইলকোর্ট ও পুলিশের একশান অব্যাহতকরোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন গ্রামাঞ্চলের বাজার ও ব্যস্ত মোড় এলাকায় কার্যকর হচ্ছে না। মাস্ক ছাড়াই চলা ফেরা করছেন অধিকাংশ মানুষ। একই অবস্থা যশোর শহরের চায়ের দোকানগুলোতেও।
সামাজিক দুরত্ব না মেনে, আবার মাস্ক ছাড়াই চলছে আড্ডা। চা বিক্রেতা মাস্ক ছাড়্াই চা তৈরি করছেন। শহরে পুলিশের সাথে চলছে লুকোচুরি। আর গ্রামাঞ্চলে পুলিশি টহল কম থাকায় সেখানকার অবস্থা অন্য দিনের মতই অনেকটা স্বাভাবিক।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরে ব্যাপক মহড়া দিয়েছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। মোড়ে মোড়ে মাইকিং করে সতর্ক ও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। অকারণে রাস্তায় না বেরুতে আহবান জানানো হয়েছে। চা দোকানসহ মানুষের সমাগম বেশি থাকা দোকানপাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অর্থদন্ডও করা হয়েছে।
মোবাইলকোর্ট ও পুলিশের একশান অব্যাহতদেশে প্রতিদিনই করোনা রোগী ও মৃত্যু বাড়ছে। একই সাথে দেশ জুড়ে মৃত্যু আতংক। ভয়ানক পরিস্থিতি অভারকাম করতে ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারি সংস্থাগুলো সর্বশক্তি প্রয়োগ করে মাঠে নেমেছে। কিন্তু লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও যশোরাঞ্চলের মানুষ সচেতন না হয়ে এখনও পথ চলছে। স্বাস্থ্য বিধি না মেনে লকডাউন উপেক্ষা করে  ঘর থেকে অকারণে রেব হচ্ছে। মোটরসাইকেল হাকিয়্, ইজিবাইকে ছুটে আসছে শহরে। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরতলী আর চায়ের দোকানের আড্ডায়। গতকাল এমন অনেক চিত্র চোখে পড়েছে। এই চিত্রের কারণে গতকাল কঠোর অবস্থানে গেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। শহরের প্রবেশ পথ থেকে পাড়া মহল্লার ছোট ছোট ওলি গলি পর্যন্ত মহড়া দিয়েছে। দুপুর ১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত পুলিশের ইউনিটগুলোর শহরে ব্যাপক মহড়া দিতে দেখা গেছে। মাইকিং করে মানুষকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছে। পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অকারণে আসা লোকজনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, যার সংখ্যা ৫ শতাধিক। একইসাথে লকডাউনের আওতার বাইরের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। শহরের দড়াটানা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিযান চালান। বার বার সতর্ক করা হলেও টনক না নড়ায় দড়াটানা ক্যান্টিন লিমিটেডের সামনের চা দোকানীকে জরিমানা করা হয়। প্রতিদিন এ দোকানে মানুষের ভিড় জমিয়ে চা সেবন করানো হচ্ছিল। কয়েক দফা সতর্ক করার পর গতকাল দুপুর ১২ টার দিকে তাকে জরিমানা করা হয়। এসময় তার পাশের মাংশ ব্যবসায়ী করোনা বিধি ও লকডাউন বিধি না মানায় তাকেও জরিমানা করা হয়। এভাবে শহরে আরো কয়েকটি স্পটে  মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়।
তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার বেলায় শহর ও শহরতলীর অধিকাংশ চা দোকানের একই অবস্থা বলে তথ্য মিলেছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে তথ্য মিলেছে, গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যশোরের গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই লকডাউন মানেনি। যশোরের হাশিমপুর, ঝুমঝুমপুর  পুলেরহাট, এড়েন্দা, পতেঙ্গালি, নারাঙ্গালি, শেখহাটি ভেকুটিয়া  মনোহরপুর  বাহাদুরসহ কমপক্ষে একডজন বাজারে একইচিত্র চোখে পড়েছে। অধিকাংশের মুখে মাস্ক পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। চায়ের দোকানেও ভিড় চলেছে। অনেকটা স্বাভাবিক দিনের মতই দিনাতিপাত করছেন অনেকে।  
মোবাইলকোর্ট ও পুলিশের একশান অব্যাহতএ ব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি তৌহিদুল ইসলাম গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, নভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে যার যার অবস্থানে থেকে জনসচেতন থাকা জরুরি। কিন্তু যশোরের প্রেক্ষাপটে অনেক মানুষ বিষয়টি আমলে না নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালানোর চেষ্টা করে সবাইকে ঝুঁকিতে ফেলছেন। এ মুুহূর্তে লকডাউন মেনে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘরে থাকার বিকল্প নেই। তাই মানুষকে সচেতন করতে, বুঝিয়ে, এমনকি কড়া সতর্কতা দিয়ে কাজ করছে পুলিশ। বাহন আটকের পাশাপাশি শহর ও শহরতলী থেকে মোটরসাইকেল আরোহীদের থামিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউ শহরে বা বাজারে ঢুকলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। করোনা বিধি ও লকডাউন মানাতে সচেতন করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলেও পুলিশি টহল বাড়ানো হবে। লকডাউনে দুদিন গত হয়েছে। আগামী ৫ দিন কঠোর অবস্থানে থেকে পুলিশ কাজ করবে। জনস্বার্থে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে যত্নবান হওয়ার আহবান জানান তিনি।
এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের টহল থাকা সত্বেও চোরাগুপ্তাভাবে চলাফেরা করছে শহরবাসী। সচেতনতার অংশ হিসেবে পুলিশ লকডাউন কিংবা ঘরে থাকো নীতি মানতে উৎসাহিত করে যাচ্ছে। যশোর শহরের মানুষ সরকারি নিষেধাজ্ঞা কিংবা প্রশাসনের কড়াকড়ি সত্ত্বেয় দলবদ্ধ আড্ডা থামাচ্ছে না এমন তথ্যও আসছে। সামাজিক দূরত্ব নীতি বিঘ্নিত হওয়ার সাথে সাথে করোনার ঝুঁকি বাড়ছে। যে কারণে পুলিশ টহল আরো জোরদার করে পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায় হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে।  
এ ব্যাপারে যশোর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহবুব কবীর জানিয়েছেন, নানা অজুহাতে মানুষ স্বাভাবিক দিনের মতোই শহরে চলাফেরা করতে চাইছে, শহরে আসার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের নির্দেশনা না মানায় কঠোর অবস্থানে পুলিশ। প্রতিদিন  যাত্রী বহন করে আনা ইজিবাইক আটক করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল আরোহীদের ফেরত দেয়া হচ্ছে। জনস্বার্থেই এই লকডাউন। সরকারি এই নির্দেশনা কার্যকর করতে ট্রাফিক বিভাগ তৎপর রয়েছে। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft