দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: চিরবিদায় নিলেন চিত্রনায়ক ওয়াসিম       মানবতার ফেরিওয়ালাদের দেখা নেই       এক সপ্তায় চালু হচ্ছে যমেক হাসপাতালের আইসিইউ       হাজার হাজার মানুষের লাশ কাটা গোবিন্দও লাশ হলেন       ডাক্তার সেজে ওটির সামনে রোগী দেখেন সহকারী ফিরোজ       যশোরে সাড়ে সাত হাজারের বেশি পণ্য হোম ডেলিভারি দেবে চাল ডাল ডটকম       খাজুরায় জুয়াড়ীদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা, জুয়ার কোটে অভিযান       মেডিকেলে ভর্তিতে যশোরে ভ্যানচালকের মেয়ের অভূতপূর্ব সাফল্য       হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর বি টিম : হানিফ       প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে দেয়ায় যুবক গ্রেফতার      
দু’ উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষের অপেক্ষার অবসান চিত্রায় স্বেচ্ছাশ্রমে হচ্ছে সেতু
চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর)
Published : Wednesday, 7 April, 2021 at 8:31 PM, Count : 201
দু’ উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষের অপেক্ষার অবসান চিত্রায় স্বেচ্ছাশ্রমে হচ্ছে সেতুযশোরের বাঘারপাড়া আর মাগুরার শালিখা উপজেলার দশ গ্রামের মানুষের নদী পারাপারের দুর্দশা এবার লাঘবের পথে। ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হওয়ার দিন শেষের পথে।  এই অঞ্চলের মানুষ তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চিত্রা নদীর ওপরে একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণে কাজ শুরু করেছেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় নৌকা ও আশির দশক থেকে বাঁশের সাঁকো ছিল স্থানীয় মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র উপায়। একটি সেতু নির্মাণে জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে কেটে গেছে বহু বছর। কিন্তু মেলেনি কিছুই, এমনকী সরকারি কোনো সহায়তাও।
এবার তাদের নিজেদের অর্থায়ন আর স্বেচ্ছাশ্রমে নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে একটি কংক্রিটের সেতু। যার দৈর্ঘ্য ১৩০ ফুট ও প্রস্থ ৬ ফুট। সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে নদী পাড়ের হাজারো মানুষের দীর্ঘ সময়ের আক্ষেপ ও অপেক্ষার অবসান ঘটবে।
বিরল এই দৃষ্টান্তটি স্থাপন করেছেন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা ও মাগুরার শালিখা উপজেলার প্রায় দশ গ্রামের মানুষ।
সম্প্রতি, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঘারপাড়া উপজেলার খানপুর বাজার সংলগ্ন চিত্রা নদীতে একটি সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে মাটি তুলে সেতুর দু’ পারে নদীর পাড় বাঁধার কাজ চলছে। কংক্রিটের এই সেতু নির্মাণে প্রায় দশ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। অনুদান হিসেবে খানপুর বাজার কমিটি প্রয়োজনীয় সিমেন্ট, খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এক লাখ টাকা, প্রধান শিক্ষক পঞ্চাশ হাজার, খানপুর গ্রামের সেলিম রেজা ত্রিশ হাজার, দাখিল মাদ্রাসা এক লাখ টাকা দিয়েছেন। এছাড়া শালিখা উপজেলার হরিশপুর গ্রামবাসী একলাখ টাকা দিয়েছেন। আরও অনেকে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, খানপুর বাজারে সপ্তার প্রতি শুক্র ও সোমবার হাট বসে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বাজার সংলগ্ন চিত্রার পাড়ে নির্মিত বাঁশের সাঁকোই ছিল নদীর দু’ পাড়ের বাসিন্দাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা। প্রতি বছর তাদের শ্রম ও চাঁদার টাকায় বাঁশ-খুঁটি কিনে সাঁকো নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। নদীর ওপারে শালিখা উপজেলার কয়েক গ্রামের কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল এই হাটে বিক্রি করতে আসেন। পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত করতে হতো নড়বড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়েই।
দেশ স্বাধীনের পর পরই খানপুর বাজারের সৃষ্টি। আশির দশকে এসে বাজারের দক্ষিণে প্রাইমারি, হাইস্কুল ও মাদ্রাসাসহ তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
সেতু নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একটি সেতুর জন্য বহুবার ধর্ণা দিয়েও লাভ হয়নি। এমনকী তারা সাঁকো নির্মাণেও এগিয়ে আসেননি। বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দু’ উপজেলার দশ গ্রামের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এটি নির্মাণে দশ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে সংুশ্লিষ্টদের ধারণা।
খানপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর-রশিদ বলেন, দৈনন্দিন কাজে নদীর ওপারের অধিকাংশ লোকজনের প্রায় চার কিলোমিটার দূরে সীমাখালী বাজারে যেতে হতো। যেটা ছিল তাদের জন্য সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও কষ্টকর। কৃষকরা সময়মত তাদের উৎপাদিত ফসল হাটে বিক্রি করতে পারতো না। নদীর এ অংশে সেতুটি নির্মাণ হলে খুব সহজেই তারা খানপুর বাজারে যাতায়াত করা যাবে।
খানপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার এসএম ইজ্জতুল্যা বলেন, শালিখা উপজেলা থেকে প্রায় একশ’ শিক্ষার্থী নদী পার হয়ে মাদরাসায় আসে। ঝুঁকি নিয়ে তাদের নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। বর্ষার সময় নদীতে পানি বেশি থাকে। তখন ৩/৪ মাস তারা ক্লাস করতে আসতে পারে না। যারা ঝুঁকি নিয়ে আসতো তারা প্রায়ই শিকার হতো দুর্ঘটনার।
বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের আবুল সরদার বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এখানে একটা ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সবার কাছে ধর্ণা দিয়েছি। সবাই আশ্বাস দিয়েছেন। দু’ উপজেলার মানুষ নিজেদের অর্থায়নে ব্রিজ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়ায় আমি তাদেরকে সাধুবাদ জানাই’।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft