দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: যশোরে কোয়ারেন্টাইনে নারীর মৃত্যু       বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ       হেফাজত তাণ্ডব: দায় স্বীকার করলেন হারুন       তিন ক্লাবের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু       শুক্রবার ঈদ       রাস্ট্রিক সোসাইটির উদ্যোগে উপহার সামগ্রী বিতরণ       মণিরামপুরে ঈদ বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ        তাড়াহুড়োয় ফেরিতে প্রাণ গেল ৬ জনের       কোয়ারেন্টাইনে ঈদ করবেন আড়াই সহস্রাধিক মানুষ       আজ চাঁদ উঠলে কাল ঈদ       
স্বাস্থ্যবিধি যেনো ভুলেই গেছে যশোরের মানুষ
বাজারে ঈদের কেনাকাটার ধুম !
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Tuesday, 13 April, 2021 at 11:39 PM, Count : 131
বাজারে ঈদের কেনাকাটার ধুম !সচেতনতা, সাবধানতা ও স্বাস্থ্যবিধি শব্দগুলো ভুলেই গেছে যশোরের মানুষ। মহামারির এসময়ে বাজারে চলছে ঈদের মত কেনাকাটার ধুম! চাল, ডাল, তেল, বিস্কুট, চানাচুর, ছিটকাপড়, জামা, জুতো থেকে শুরু করে মাছি ও টিকটিকি মারার ওষুধ কিনতে মঙ্গলবার ভর দুপুরেও মানুষ বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। কঠোর লকডাউনের ঘোষণায় কতিপয় মানুষ যেন কেনাকাটায় উদভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের কাছে করোনায় মৃত্যুর আশঙ্কার চাইতে খাবার, পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী কেনাকাটা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।  
দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এ অবস্থা বিবেচনায় আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে কঠোর লকডাউন। এ লকডাউন চলবে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত। যশোর শহরও এর বাইরে থাকছে না। এ ঘোষণায় শহরের অতিউৎসাহী কতিপয় মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের মৃত্যু ভয়ের চাইতে বিস্কুট, চানাচুর না খেয়ে থাকার ভয় বেশি। এ কারণে তারা রহস্যময় নানাকিছু কেনাকাটার জন্য শহরময় ঘুরে বেড়িয়েছেন। এসব কারণে মঙ্গলবার যশোর শহরের বড় বাজার এলাকায় মানুষের পা ফেলার জায়গা ছিল না। ছিট কাপড়, জুতো, চাল, ডাল, তেল, মুদিখানা ও বেকারিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এমনকি মিষ্টির হোটেলেও ছিল মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। লকডাউনে হোটেল বন্ধ থাকার আশঙ্কায় তারা মিষ্টি কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। যাতে ঘরবন্দি অবস্থায় তাদের মিষ্টির অভাব না থাকে।
গতকাল শহরের বড়বাজার, হাটখোলা রোড ও চুড়িপট্টি এলাকা ঘুরে দোকানগুলোতে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। এসব সড়কে ও দোকানগুলোতে ছিল না কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই। কেনাকাটা করতে আসা মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় আজগুবি সব কথাবার্তা। ভর দুপুরে তাদের কেনাকাটার প্রয়োজনীয় সব মালামালের কথা শুনে অবাক হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শহরের চুড়িপট্টি এলাকার লিটন স্টোরে এদিন দুপুর ২টার দিকে রোদে গরমে ঘেমে মাছি মারার ওষুধ কিনতে এসেছিলেন এক গৃহবধূ। দোকানীকে তিনি জানান, তার মাছি মারার প্রয়োজনের কথা। এসময় তাকে দুপুর বেলা এ ওষুধের প্রয়োজনের কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, বুধবার থেকে সারাদেশে কঠোর লকডাউন শুরু হবে। এ কারণে যশোরে সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। কিন্তু তার বাড়িতে মাছি ভিষণ উপদ্রব করছে। এ জন্য লকডাউনে দোকান বন্ধ হবার আগেই তিনি মাছি মারার ওষুধ কিনতে দোকানে ছুটে বেড়াচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দোকানীরা ক্রেতাদের কাছে অন্যান্য মালামাল বিক্রিতে ব্যস্ত থাকায় তার কথায় অনেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
একই সময়ে লিটন স্টোরে টিকটিকি মারার ওষুধ কিনতে আসেন আরএন রোডের মনিরুল ইসলাম নামে এক যুবক। তিনি বলেন, তার ছেলে টিকটিকি দেখে ভয় পায়। এ কারণে লকডাউনে দোকান বন্ধ হবার আগেই সমাধান খুঁজতে তিনি এদিন ভর দুপুরে মাঠে নেমেছেন। চুড়িপট্টি ও হাটখোলা রোডের বিভিন্ন দোকানে খোঁজ করেও তিনি টিকটিকি মারার ওষুধ পাচ্ছেন না।
লকডাউনের আগে মানুষের এ জাতীয় প্রয়োজনীয়তা দেখে ব্যবসায়ীরা রীতিমত হতবাক হয়েছেন। এ নিয়ে তারা নানা ব্যঙ্গাত্মক মতামতও ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের ঘোষণায় মানুষ বেসামাল হয়ে পড়েছেন। তারা মহামারিতে মৃত্যুর ভয় পাচ্ছেন না। বাড়িতে যাতে লকডাউনে সব ধরণের খাদ্য সামগ্রী পর্যাপ্ত মজুদ থাকে সেই চিন্তায় মানুষ বাজারময় দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে শহরের এইচএমএম রোডের ওরিয়েন্ট শপের একজন সেলসম্যান বলেন, করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষ খাবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের চিন্তা ছিল এ পরিস্থিতিতে বেচাকেনা কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিক্রি দশগুন বেড়েছে। মানুষ চাল, ডাল, তেল কেনার পাশাপাশি বিস্কুট ও চানাচুর ব্যাপকহারে কিনে মজুদ করছেন। এ কারণে তারা খাদ্রসামগ্রী প্যাকেট করার সময় পাচ্ছেন না। মানুষ শুধুমাত্র চানাচুর ৮/১০ প্যাকেট করে কিনছেন। এছাড়া প্রশাধনী সমাগ্রীসহ চুলের কাঁকড়া কিনছেন ৫/৭টি করে। লকডাউনে মানুষের এসব জিনিষের প্রয়োজন কেন তা তাদের বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, মানুষের এখন একটাই চিন্তা, ঘরে বসে যেন খাবার সংকট না হয়। তবে এসব ক্রেতার বেশিরভাগই সরকারি চাকরিজীবী বা সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্ত্রী। তিনি মন্তব্য করেন, ওইসব ক্রেতাদের টাকার সমস্যা না থাকায় তারা উদভ্রান্ত হয়ে বাজারময় ঘুরে অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটা করছেন।
শহরের হাটখোলা রোডের সততা হার্ডওয়ারের মালিক তাপস সাহা বলেন, লকডাউনের খবরে হার্ডওয়ারের মালামালও বেশি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু তার কারণ কি, তা তিনি জানেন না। গত কয়েকদিন যাবৎ তার দোকানে বেচাকেনার ভিড় চলছে।
উল্লেখ্য, যশোরে মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনায় ৬৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৭১৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৯২০ জন। সারাদেশের মত যশোরেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের হার।







« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft