দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: যশোরে গাঁজাসহ নারী আটক       মোরেলগঞ্জে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে ১০ দোকান পুড়ে ছাই       অনুপ্রবেশকালে হাসাদাহ থেকে আটক ৮        মানবপাচারকারী চক্রের হোতা সাইফুল র‌্যাবের হাতে আটক       কেশবপুর পৌরসভার উদ্যোগে ১৩ হাজার মাস্ক বিতরণ        উপকূলের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি       যশোরের নতুন জেলা শিক্ষা অফিসারকে শুভেচ্ছা স্বাশিপের       মণিরামপুরের প্রতিবন্ধী কবির হত্যা মামলায় চার্জশিট       আগামীকাল আলমগীর সিদ্দিকীর ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী        এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে খেলবে বাংলাদেশ      
চালুর প্রথম দিনে যাত্রী সংকটে গণপরিবহন (ভিডিও)
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Thursday, 6 May, 2021 at 10:33 PM, Update: 06.05.2021 10:35:52 PM, Count : 259
চালুর প্রথম দিনে যাত্রী সংকটে গণপরিবহন (ভিডিও)করোনা দুর্যোগে একমাস বন্ধ থাকার পর জেলা ভিত্তিক গাড়ির চাকা ঘুরলেও যশোরের পরিবহন শ্রমিকদের মুখে হাসি নেই। বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই তারা বাস নিয়ে রাস্তায় নামলেও ছিল না যাত্রী। এ কারণে যশোর থেকে দক্ষিণবঙ্গের ২১ রুটের মধ্যে গাড়ি চলাচল করেছে ১০টি রুটে। এছাড়া জেলার সীমান্তবর্তী স্থানে গাড়ি থেকে যাত্রী নামিয়ে দেয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।    
সূত্র জানায়, করোনা মহামারিতে থমকে গেছে গোটা পরিবহন সেক্টর। সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছে পরিবহন শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ দেশে করোনার ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায় করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। সার্বিক এ পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে লকডাউন ঘোষণা করে। কিন্তু তাতেও মানুষকে ঘরে রাখতে না পেরে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। যা আগামি ১৬ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, যশোর থেকে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি রুটে এক হাজারেরও বেশি যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। এ কাজে সম্পৃক্ত প্রায় ২৫টি সমিতির ২০ হাজার শ্রমিক। সরকারি ঘোষণায় বৃহস্পতিবার থেকে যশোরে জেলা ভিত্তিক গণপরিবহন চলাচল শুরু হলে ১০টি রুটে বাস চলেছে। এদিন সকাল ৬টা থেকেই পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামে। কিন্তু যাত্রী সঙ্কটে ১১টি রুটে বাস চলাচল করেনি। এ কারণে তাদের মুখে হাসি ছিল না। তারা নিরবে সঙ্কট মেনে নিয়েই কাজ করেছেন। যশোরের শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও শহরের মনিহার এলাকার পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন রুটের কাউন্টারে গিয়ে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে। শ্রমিকরা বলেছেন, জেলা ভিত্তিক বাস চলাচলের প্রথম দিনে স্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রী কম ছিল। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে যাচ্ছে না। এ কারণে যাত্রী সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এছাড়া বাস চলাচলের খবর প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখনও জানতে পারেনি।
এদিকে, জেলা ভিত্তিক বাস চলাচলেও যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদেরকে জেলার শেষ সীমানায় রাস্তার মাঝ পথে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর তাদের অন্য জেলার গাড়িতে উঠে গন্তব্যে পৌছাতে হচ্ছে। এতে তাদের তিনগুন টাকা খরচ হচ্ছে। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন রুটের ১০টি সীমান্তবর্তী এলাকায় যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরার যাত্রীদের শার্শা উপজেলার বাগআচঁড়ায়, ঝিনাইদহের যাত্রীদের সদর উপজেলার রঘুরামপুরে (বারবাজারের কাছে), নড়াইলের যাত্রীদের বাঘারপাড়া উপজেলার ভাংগুড়া ব্রিজের কাছে, খুলনার যাত্রীদের অভয়নগর উপজেলার রাজঘাটে, চুকনগরের যাত্রীদের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোটে, মাগুরার যাত্রীদের সীমাখালীতে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরপর তারা পাশ্ববর্তী জেলার বাস ধরে গন্তব্যে পৌছাচ্ছে। একইসাথে জেলার ভেতর বেনাপোল, চৌগাছা, নারিকেলবাড়িয়া, ছুটিপুর, কেশবপুর, রাজগঞ্জ রুটে স্বাভাবিক পরিবেশে বাস চলাচল করছে। এক্ষেত্রে জেলার সীমান্তবর্তী রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দুটি জেলার বাস একইস্থানে পাশাপাশি দাড়াবার কারণে ও যাত্রী নেমে ভিড়ে যানজট তৈরি হচ্ছে। ফলে থমকে যাচ্ছে সড়কে যানবাহন চলাচল।
এছাড়া, বিভিন্ন রুটে বাস চলাচলে শ্রমিকরা চেষ্টা করেছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালাতে। এক্ষেত্রে তারা মাস্ক পরিহিত যাত্রীদের গাড়িতে তুলেছেন না এবং অর্ধেক যাত্রী নিয়েই গাড়ি চালাচ্ছেন। অবশ্য এসব সঙ্কটের মাঝেও শ্রমিকরা কাজে যোগদান করতে পেরে খুশি। তাদের দাবি জেলা ভিত্তিক নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে আন্ত:জেলায় গণপরিবহন খুলে দেয়া হোক।
নড়াইল বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিক মোহাম্মদ আলী ও ড্রাইভার রুবেল বলেন, এদিন সকাল ৬টায় হাসিমুখে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছিলাম। কিন্তু রোডে যাত্রী না থাকায় হতাশ হয়েছি। ঈদের আগে ভেবেছিলাম গাড়ি খুলে দিলে যাত্রী বেশি হবে। এতে আয়ও বেশি হবে ও পরিবারের ঈদের কেনাকাটা করতে পারবো। অথচ বাস্তব এ অবস্থায় পড়ে মন খারাপ হয়ে গেছে ও তাদের মুখের হাসি উবে গেছে। শংকরপুর বাস টার্মিনালের সাতক্ষীরা কাউন্টারের স্টাটার মিন্টু মন্ডল বলেন, সকালে বাসস্ট্যান্ডে কিছু যাত্রী থাকলেও দুপুর থেকে ফাঁকা হয়ে গেছে। খালি গাড়িই টার্মিনাল ছেড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুণ অর রশিদ ফুলু বলেন, জেলা ভিত্তিক গণপরিবহন খুলে দেয়ায় শ্রমিকদের বিশেষ উপকার হয়নি। যাত্রী সঙ্কটে যশোরাঞ্চলের ২১টি রুটের মধ্যে ১০টিতে বাস চলাচল করেছে। এ কারণে পরিবহন শ্রমিকরা কাজের নামলেও যাত্রী সঙ্কটে পড়ে যথাযথ উপার্জন বরতে পারেনি। এক্ষেত্রে সরকার আন্ত:জেলায় গণপরিবহন চলাচল করতে দিলে শ্রমিক ও যাত্রীদের সব সমস্যার সমাধান হতো। তিনি বলেন, লকডাউনে যদি ৩০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট চলাচল করতে পারে ও দুর্ঘটনায় ২৬ জন মারা যায়। তবে ২০ জন যাত্রী নিয়ে কেন গণপরিবহন সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
এ ব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি নিদের্শনা মেনে জেলায় গণপরিবহন চলাচল করছে। এ বিষয়ে প্রথম দিন থেকেই প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করেছে। সড়কে গাড়ি চলাচলে কেউ কোন অনিয়ম করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft