মতামত
শিরোনাম: প্রতিটি উপজেলা ফায়ার স্টেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী       ই-কমার্সে অর্ডার করে নিজেই প্রতারিত হয়েছি : বাণিজ্যমন্ত্রী       চট্টগ্রাম হবে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’       রাজশাহীতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপির শীর্ষ ৩ নেতার জামিন       বিএনপির সিরিজ বৈঠক সিরিজ ষড়যন্ত্রের অংশ : কাদের       গণআন্দোলন গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য: ফখরুল       অক্টোবরে শ্রীলঙ্কায় যাবে বাংলাদেশের যুব ক্রিকেট দল       খানসামায় জনপ্রিয় হচ্ছে পারিবারিক পুষ্টি বাগান       করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু       চসিকের তেল পাচারকালে ধরা খেলেন চালক, খোয়ালেন চাকরি      
ক্ষমা করো বৃক্ষ
মাহমুদা রিনি
Published : Sunday, 6 June, 2021 at 12:23 AM, Count : 255
ক্ষমা করো বৃক্ষআমারে যে বাঁচিয়ে রাখে পরম মমতায়
তারে আমি আঘাত করি চরম নিষ্ঠুরতায়।
বৃক্ষ পৃথিবীর আদি সৃষ্টি। জীবন সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগে থেকেই পৃথিবীর স্থলভাগ ছিল বৃক্ষরাজি পরিবেষ্টিত। প্রাণের আবির্ভাব ও পরিবেশ গঠন হতে বৃক্ষের ভূমিকা ছিল  অপরিহার্য। আদিম যুগ থেকে শুরু করে আধুনিক সভ্যতার আজকের সময় পর্যন্ত প্রাণের যে যাত্রা সেই সুদীর্ঘ পথ- পরিক্রমায় অন্যতম্য চালিকাশক্তি হলো বৃক্ষ।
সৃষ্টির আদিতে সমগ্র স্থলভাগই ছিল অরণ্যে পরিপূর্ণ। জীব সৃষ্টির পর তা ছিল অরণ্যের উপর নির্ভরশীল। প্রাণের বিবর্তনে মানুষ যখন থেকে সভ্য হতে শুরু করেছে বৃক্ষ নিধনযজ্ঞের শুরুটা তখন থেকেই। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে বনভূমি উজাড় হতে থাকে। মানুষের বসবাস উপযোগী জমি, কৃষিকাজের উপযোগী জমি থেকে শুরু করে   নগরায়ন, শিল্পায়নের প্রসার, উন্নয়ন ইত্যাদি সবকিছুতেই সবার আগে ঘটেছে বনভূমি উজাড় করে জমির দখলদারিত্ব। খেয়াল করলে বোঝা যায় প্রকৃতিতে বৃক্ষরাজির বিন্যাশ এমন সাজানো যে জীববৈচিত্র্যের সমস্ত প্রয়োজনই প্রায় তা থেকে মেটানো সম্ভব। এক একটি গাছ অক্সিজেন সরবরাহ ছাড়াও আরো কত প্রকার কাজে মানুষকে সহায়তা করে তা বলে শেষ করা যায় না!
বনভূমি বা বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে আমাদের যে বিজ্ঞান পড়ে আসতে হবে বা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে এমনটা নয়। সাধারণ দৃষ্টিতেই একটু সচেতন ভাবে চিন্তা করলেই আমরা তা বুঝতে পারি। জনম জনম ধরে আমরা বৃক্ষকে ব্যবহার করে এসেছি আমাদের প্রয়োজনে। প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দিইনি সেই শূন্যতা পূরণের সুযোগ। আজ আমাদের ঘরের খাবার ফুরিয়েছে। টান পড়েছে প্রকৃতির ভাণ্ডারে। একসময় যা অফুরন্ত ছিল আমাদের জন্য, আমাদের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা ও লোভে আমরা তার সুষম খরচ করিনি।   গোগ্রাসে যতটা উদরস্থ করেছি প্রকৃতি থেকে তার কিয়দাংশ আমরা পূরণ করার চেষ্টা করিনি। পুকুর, নদী, খালবিল দখল করে ভরাট করেছি, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করেছি। বৃক্ষের জায়গা দখল করে আমরা সুউচ্চ অট্টালিকা বানিয়েছি, রাস্তার গাছ কেটে রাস্তা চওড়া করেছি।  কিন্তু নিঃশ্বাস নিতে হবে ভেবে একটি বৃক্ষ রোপণ করিনি। এখন  সময় এসেছে ভেবে দেখার, প্রকৃতি মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এবার নিজের অক্সিজেন নিজেকে বানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের থেকে বাঁচতে হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উপায় নিজেদেরই বের করতে হবে। যার সবচেয়ে সহজ নির্ভরযোগ্য উপায় হলো বৃক্ষরোপণ। বিশ্ব ব্যাপি বিষয়টি হয়তো প্রকট আকার ধারণ করেছে কিন্তু আমাদের এই ছোট্ট দেশটাকে নিয়ে ভাবনা আমাদেরই ভাবতে হবে। আমাদের এই বহুল জনসংখ্যার দেশে প্রতিদিন বনভূমি ধ্বংস করে জনবসতি গড়ে উঠছে। ছোট আয়তনের দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আয়তনের তুলনায় এখনো বাংলাদেশ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তেমন সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। সেই জন্যই এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত ভাবে পরিবেশ রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ, বৃক্ষরোপণ যার মধ্যে অন্যতম। আমরা এটা সবাই বুঝি যে গাছ লাগানো লাভজনক। মোটামুটি বড় হলে বিক্রি করলে ঘরে টাকা আসে, এই চিন্তা থেকেই আমাদের দেশে যেটুকু বনায়ন হয়েছে তার মধ্যে কাঠ জাতীয় বৃক্ষই বেশি। আমাদের পরিবেশ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে বুনো জাতীয় অসংখ্য গাছ, নাম না জানা বা কম পরিচিত ফলের গাছ। যারা অর্থের জন্য গাছ লাগান তারা লাভজনক গাছ লাগান তবুও ভালো,  গাছ লাগানো দরকার। গাছ থাকা মানে আপনার অর্থনৈতিক নির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে।  আর যারা সৌখিন বৃক্ষপ্রেমী আছেন, যাদের একটু জায়গা জমি আছে, নিজের না থাকলেও সরকারি অথবা কোন প্রতিষ্ঠানে, রাস্তার পাশে খালি জায়গায়, মোটামুটি যেখানে জায়গা পাওয়া যায় সেখানে ফলজ বা কম পরিচিত যে গাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে তেমন দুটো গাছ লাগান। আপনি যখন থাকবেন না গাছ দুটো তখনো থাকবে, ফল দেবে, পশু-পাখিকে আশ্রয় দেবে, আর দেবে মানুষের জীবন ধারণের জন্য অক্সিজেন। আপনার ব্যবহৃত অক্সিজেন আপনিই তৈরি করতে পারেন সাথে আপনার উত্তর পুরুষের জন্য অক্সিজেন ভাণ্ডার মজুদ রেখে যেতে পারেন।
যদি আপনি খুব হিসেবি হন তাহলে আপনার জন্য সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষা শেয়ার করি। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউটের গবেষকরা পঞ্চাশ বছর বেঁচে থাকা একটি গাছের আর্থিক সুবিধা বের করেছেন। গাছ বায়ুদূষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে দশলাখ টাকার। জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন দেয় পাঁচ লাখ টাকার। বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে বাঁচায় পাঁচ লাখ টাকা। মাটির ক্ষয়রোধ ও উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে বাঁচায় পাঁচ লাখ টাকা। বৃক্ষে বসবাসকারী প্রাণীদের খাদ্য দিয়ে বাঁচায় পাঁচ লাখ টাকা। আসবাবপত্র, জ্বালানী কাঠ ও ফল সরবরাহ করে পাঁচ লাখ টাকা। বিভিন্ন জীবজন্তুর খাদ্য যোগান দিয়ে বাঁচায় আরো চল্লিশ হাজার টাকা। পঞ্চাশ বছর বেঁচে থাকা একটি বৃক্ষের আর্থিক সুবিধার মোট মূল্য দাঁড়ায় পয়ত্রিশ লাখ চল্লিশ হাজার টাকা। এছাড়াও একটি সব্জীর গাছও তিনমাস তিনজনের অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে।  পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এমনটাই জানিয়েছেন। অর্থাৎ আপনি যেভাবেই বিচার করেন না কেন সবুজ বৃক্ষের কাছে আপনাকে ফিরে যেতেই হবে। তাই দেরী না করে নিজের অক্সিজেনের ব্যবস্থা নিজে করুন, পরিবারের জন্য অর্থ, পরিবেশ সুরক্ষা ও অক্সিজেনের  সঞ্চয় করে রাখুন। আসুন আমরা সবাই সাধ্যমত গাছ লাগাই।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft