মতামত
শিরোনাম: অক্টোবরে শ্রীলঙ্কায় যাবে বাংলাদেশের যুব ক্রিকেট দল       খানসামায় জনপ্রিয় হচ্ছে পারিবারিক পুষ্টি বাগান       করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু       চসিকের তেল পাচারকালে ধরা খেলেন চালক, খোয়ালেন চাকরি       খাগড়াছড়িতে তিনটি গাড়ির সংঘর্ষে ৭ জন আহত       বোয়ালমারীতে নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার       চট্টগ্রাম নগরীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে ৪ দোকান       সোমবার থেকে যেসব মোবাইল বন্ধ হয়ে যাবে        রাণীনগরে ইয়াবাসহ গ্রেফতার-২       বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে দেশে বিরাজনীতিকরণ চলছে : জিএম কাদের      
ফুসফুসের বায়ুপথে করোনার দৌঁড়ঃ কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে?
ড. সুভাষ চন্দ্র সাহা
Published : Thursday, 10 June, 2021 at 10:13 PM, Count : 805
ফুসফুসের বায়ুপথে করোনার দৌঁড়ঃ কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে?করোনা সাম্প্রতিককালে এক বৈশ্বিক মহামারীর সৃষ্টি করেছে। সমস্ত পৃথিবীকে অচল করে দিয়েছে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানো এই ভাইরাস। বিশ্বের তাবদ বিজ্ঞানী ও গবেষকরা এর কার্যকরণ ও প্রতিরোধের উপায়সমূহ জানতে প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছেন। ফলস্বরূপ নিত্যনতুন গবেষণালব্ধ ফল আমাদের সামনে আসছে। এই বিষয়ে নতুন সংযোজন হলো দুই বাংলার গবেষকদের যৌথ গবেষণার ফল যা ফুসফুসের বায়ুপথে করোনার গতিবিধি জানতে আমাদের সাহায্য করবে। তাঁদের গবেষণার ফলাফল চযুংরপং ড়ভ ঋষঁরফংএর বিশেষ সংখ্যা “ঋষড়ি ধহফ ঃযব ঠরৎঁং” এ গৃহীত হয়েছে (ফড়র: ১০.১০৬৩/৫.০০৫৩৩৫১)।
ড. সুভাষ চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে তাঁর সহকর্মী বাংলাদেশের অপর তরুণ ড. সাইদুল ইসলাম (ড. সাহার প্রাক্তন পিএইচডি ছাত্র), পশ্চিমবঙ্গের ড. অক্ষয় রঞ্জন পাল এবং অস্ট্রেলিয়া ও  আমেরিকার একদল গবেষক এক যৌথ গবেষণায় দেখিয়েছেন যে করোনার প্রভাবে ডান পাশের ফুসফুস সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা থাকে। তাঁরা ফুসফুসের সিটি স্ক্যান থেকে ১৭-মবহবৎধঃরড়হ পর্যন্ত (সাধারণ ফুসফুসে সর্বমোট ২৩ টা মবহবৎধঃরড়হ থাকে) প্রস্তুত করা ত্রিমাত্রিক জ্যামিতি কম্পিউটার সিমুলেশন করে দেখিয়েছেন যে করোনা কণা ডান পাশের ফুসফুস সর্বাধিক জমা হয়। তাঁরা আরও দেখিয়েছেন যে প্রায় ৫০% কণা ফুসফুসের আরও গভীরে প্রবেশ করে। প্রধানতঃ নাসারন্ধ্র ও মুখগহ্বরের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এরপর এই ভাইরাস ধীরে ধীরে ফুসফুসের ট্রাকিয়া বাহিত হয়ে আরও ভিতরে প্রবেশ করে। বিজ্ঞানীরা এতদিন ধরে করোনা এই চলনটাকে বোঝার চেষ্টা করছিলেন। ড. সাহা বলেন, “এই গবেষণায় আমরা আমাদের দৈনন্দিন কার্যকরণের উপর নির্ভর করে আমাদের শ্বাস প্রশ্বাসকে তিন ভাগে ভাগ করেছি; সম্পূর্ণ বিশ্রামঅবস্থা, হালকা কার্যক্রম অবস্থা এবং দৌঁড় অথবা ভারী শারীরিক পরিশ্রম করা অবস্থা। আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, আমাদের বিশ্রামের সময় করোনা কণা গ্রহণ করলে সেগুলো ফুসফুসের উপরের অংশে বেশি জমা হয়। ভারী শারীরিক পরিশ্রমের সময় অর্থাৎ দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে করোনা কণা ফুসফুসের গভীরে চলে যায়।” ডঃ সাহা অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে অবস্থিত প্রিন্স চার্লস হাসপাতাল (চৎড়ভ. ওধহ ণধহম), সিডনীর উলকক মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (চৎড়ভ. চধঁষ ণধহম) এবং রয়েল প্রিন্স আলফ্রেড হাসপাতাল এর সেন্টেনারি ইনস্টিটিউট: লাইফ সেভিং রিসার্চ (চৎড়ভ. চযরষরঢ় ঐধহংনৎড়) এর সাথে সক্রিয়ভাবে পড়ষষধনড়ৎধঃরড়হ করে আসছে। ফুসফুস যেহেতু মানব দেহের একটা জটিল অঙ্গ, তাই হাসপাতাল থেকে উচ্চ রেজল্যুশন এর ঈঞ-ংপধহ নিয়ে বিভিন্ন ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যার এবং নিজস্ব কোডিং ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক জ্যামিতির আকার দেয়া হয়। তারপর কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড এন্ড পার্টিকেল ডাইনামিক্সএর জটিল সমীকরণ সুপার কম্পিউটার দিয়ে সিমুলেশন করেসমাধান করা হয়।
এক প্রশ্নের উত্তরে নিবন্ধনটির প্রধান গবেষকড. ইসলাম বলেন “এই গবেষণাটিতে ফুসফুসের গায়ে একটি একক বিচ্ছিন্ন করোনা ভাইরাস কণার মিথস্ক্রিয়া দেখানো হয়েছে। যদিও বাস্তবিক পক্ষে ভাইরাস কণাগুলি ড্রপলেট আকারেও থাকতে পারে। আমাদের পরবর্তী গবেষণায় এই ড্রপলেট নিয়ে আমরা কাজ করবো। আর যেহেতু বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য ভাইরাসটি মারাত্মক বলে প্রমাণিত হয়েছে তাই বয়স্ক ব্যক্তিদের ফুসফুসের উপর ভাইরাসটির প্রভাব নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা হবে।” ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কে বিজয় রাঘবনের দফতরের তরফে সম্প্রতি এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে “বাতাসে ভাইরাস ১০ মিটার পর্যন্ত ভেসে বেড়াতে পারে। আগে ২ মিটার দূরত্বের কোভিড-বিধি বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শুধু ড্রপলেটের মাধ্যমে নয়, অ্যারোসোলের মাধ্যমেও ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস। যা হাওয়ায় ১০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত ভেসে বেড়াতে পারে”। অ্যারোসোল আসলে ড্রপলেটেরই আরও ক্ষুদ্র কণা যা করোনার একটা একক কণা হতে পারে। বাতাসে এই একক কণা কত দূর ভেসে যেতে পারে তার অনেক গবেষণা হয়েছে কিন্তু এটা ফুসফুসে কিভাবে বিচরণ করে সেটা জানা ছিল না। এই গবেষণার ফলাফল সেটা জানতে সাহায্য করবে।
ড. সাহা ও ড. ইসলাম, দু’জনেরই বাড়ি বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরায়। বর্তমানে তাঁরা অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি সিডনী তে অধ্যাপনারত। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে বাতাসের প্রবাহ আর বিভিন্ন কণার মিথস্ক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। ড. সাহার গবেষণা দল ফুসফুসের সার্ফ্যাক্ট্যান্ট এ প্রেনডিসোলন স্টেরয়েড (চৎবফহরংড়ষড়হব ংঃবৎড়রফ) এর কার্যকারিতা ও ওষুধের মাত্রা নিয়েও গবেষণা করছেন। যেটা হাঁপানি, অ্যালার্জি, প্রদাহজনক পরিস্থিতি, স্ব-প্রতিরোধ অক্ষমতা এবং ক্যান্সারসহ অনেক অসুখের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তাঁদের গবেষণালব্ধ ফলাফল চযুংরপধষ ঈযবসরংঃৎু, ঈযবসরপধষ চযুংরপং (চঈঈচ) জার্নাল এ পাঠানো হয়েছে।
এখানে বলে রাখা ভালো যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ার প্রকাশনা সংস্থার (আইসিএসআর ল্যাব) সমন্বিত জরিপে বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন ড. সুভাষ চন্দ্র সাহা।
এই গবেষণালব্ধ ফলাফল বর্তমানে ফুসফুসের হাই ডেনসিটি সিটি স্ক্যান (ঐউঈঞ) ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্ততার হার আগাম নির্ণয়ে সুবিধা হয় ও বহু করোনা আক্রান্ত মানুষের ফুসফুসকে বড়সড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।   
লেখক: সিনিয়র লেকচারার, ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।








« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft