দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: ভারতীয় রেলওয়ের ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ বাংলাদেশে        বাগেরহাটে ইজিবাইক দুর্ঘটনা পিকআপের চালক কারাগারে       সম্প্রীতি বাংলাদেশের আয়োজনে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ        যশোরে বাকপ্রতিবন্ধি যুবক খুন       নড়াইলে অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার       নড়াইলে দু’মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১       মেয়েলি ঘটনাসহ কয়েকটি কারণে এই খুন! অভিযুক্ত ৮, আটক ৩       করোনা প্রতিরোধে ২১ কোটি টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী       সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ভয়ানক অবস্থা তৈরি হতে পারে : কাদের       ভারত থেকে ২৫০টি ভেন্টিলেটর আসছে       
যশোরের মাছ বাজারে আগুন, দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ আর চিংড়ি
শিমুল ভূইয়া :
Published : Sunday, 13 June, 2021 at 9:55 PM, Count : 475
যশোরের মাছ বাজারে আগুন, দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ আর চিংড়িযশোরের মাছ বাজারে দোকানিরা ইচ্ছেমতো দাম হাকাচ্ছেন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু কিছু মাছ দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে মনিটরিং না থাকায় এবং করোনার কারণে সরবরাহ কম থাকার দোহাই দিয়ে যথেচ্ছাচার করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। লকডাউনে একদিকে উপার্জন নেই; অপরদিকে নিত্যপণ্যের সাথে মাছের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে মাছ না কিনে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, করোনায় মাছ পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা নেই। তাহলে কেন দাম  বেশি থাকবে। মাছ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা। তারা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  রোববার দুপুরে সরেজমিনে বড়বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তিনদিন পর আবার মাছ বিক্রি শুরু হয়েছে। বিক্রেতারা মাছ বাজার ছেড়ে লোন অফিসপাড়ার রাস্তার ওপর দোকান বসিয়েছেন।
বাজারে মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতি কেজি মাছ ২০ থেকে ৬শ’ টাকা পর্যন্ত বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। যে রুই মাছ ছিল ২শ’ থেকে ২শ’ ৫০ টাকা তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩শ’৫০ থেকে ৩শ’৮০ টাকায়। কাতলার দামও একই। এছাড়া ছোট চিংড়ি ছিল ৪শ’ টাকা কেজি। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকায়। এছাড়া মাঝারি সাইজের চিংড়ি এক হাজার ও বাগদা চিংড়ি ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৬শ’-৭শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ছিল ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। তা এখন হাজারের উপরে। বড় ইলিশ ১৫শ’ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও পাবদা মাছের দাম ছিল ২শ’৬০ থেকে ৩শ’টাকা। যা এখন ৪শ’ ছুঁই ছুঁই। ৩শ’-৩শ’৫০ টাকার মাগুর মাছ ৫শ’ থেকে ছয়শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের শৈল মাছ ৫শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গ্রাসকাপ ও মিনারকাপ ১শ’ ৬০ থেকে ২শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। তা এখন ৩শ’ টাকার কাছাকাছি। ছোট টেংরার কেজি ৬শ’ ও বড় টেংরা ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মাছের দামই চড়া। তবে, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছের দাম তেমন বাড়েনি।
কথা হয়, মাছ বিক্রেতা আহাদ আলী, বজলুর রহমান, স্বপন হাওলাদার, পারভেজ হোসেন, জিহাদ হাসানসহ পাঁচ-সাতজনের সাথে। তারা জানান, মাছের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম। এ কারণে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এজন্যে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
আরএন রোড এলাকার আশরাফুল ইসলাম, খালধার রোডের শাম্মী খাতুন, বারান্দিপাড়ার আফজাল হোসেন, ঘোপের মুনতাছিরসহ কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, গত তিনবছরে এ দামে মাছ বিক্রি হয়নি। বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম চাচ্ছেন। অনেকটা নিরুপায় হয়েও বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে বলে তারা জানান। বৃদ্ধা শরীফা খাতুন বলেন, তিনি ১শ’ টাকা করে পোয়া কেনেন ছোট চিংড়ি। কিন্তু সেই মাছ দুশ’ টাকা পোয়া। কিনতে না পেরে বাড়ি ফিরে যান এই বৃদ্ধা।
যশোর মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কৃষ্ণপদ বিশ্বাস মাছের দাম বেশি নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, মাছের দাম ঠিকই আছে। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন,‘আমাদেরকে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। অল্প দোকান নিয়ে মাছ বাজারেই ব্যবসা পরিচালনা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পৌরসভা সেই সুযোগ দেয়নি। এতে করে রোদ বৃষ্টিতে বেগ পেতে হচ্ছে।’
মাছ বাজার আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম চড়া। এখন মৌসুম না। আর করোনার কারণেও দা কিছুটা বেড়েছে বলে তিনি জানান।
মাছ ব্যবসায়ীরা চেয়েছিলেন বড় বাজারে ব্যবসা করতে। কিন্তু পৌরসভা সেখান থেকে সরিয়ে আদর্শ ও সম্মিলনী স্কুলের সামনের রাস্তায় মাছ বিক্রি করতে বলে। এতে করে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকদিন ব্যবসা বন্ধ করে রাখেন। শনিবার থেকে ব্যবসায়ীরা পৌরসভার নির্ধারিত জায়গায় মাছ বিক্রি শুরু করেছেন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft