দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: যশোরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৪২ মামলা, ৪২ জনের জেল       করোনা নিভিয়ে দিল ফকির আলমগীরের জীবন প্রদীপ       হল না সিরিজ জয়, পরাজয়ের কারণ জানালেন মাহমুদউল্লাহ       যশোর পৌরপার্কের পুকুরে ক্যাডেট কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্র নিখোঁজ        যশোর ঝিগরগাছায় স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান তিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা       ডুমুরিয়ায় পানিতে ডুবে 'ভাই-বোনের মৃত্যু       যশোরে জাসদ নেতার বোনের মৃত্যু : শোক       ডাক্তার এমদাদুল হক আর নেই, শোক        ১৮ হচ্ছে করোনা টিকা নেয়ার বয়সসীমা        যশোরে করোনায় আরও ৬ মৃত্যু, কমেছে পরীক্ষা ও শনাক্তের সংখ্যা       
জেলা প্রশাসনের নন্দিত ডিজাইনে ‘শতবর্ষ’
লক্ষ ঘরের অনন্য ১০০ ঘর যশোরে
এস এম আরিফ :
Published : Tuesday, 15 June, 2021 at 12:14 AM, Update: 15.06.2021 12:27:11 AM, Count : 1162
লক্ষ ঘরের অনন্য ১০০ ঘর যশোরেসারাদেশের মধ্যে যশোর বরাবরই অগ্রগামী সৃজনশীল ব্যতিক্রমী নানা উদ্যোগে।  সে অগ্রযাত্রায় এবার যুক্ত হলো আশ্রয়ণ প্রকল্পও। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে সারাদেশে লক্ষাধিক ঘর নির্মিত হলেও যশোরের একশ’টি ঘর হতে চলেছে অসাধারণ। যশোর সদর উপজেলায় হান্ড্রেড প্যাটার্নে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলি এখনই সবার নজর কাড়তে শুরু করেছে। স্বপ্নসারথীদের আশা, শততম ঘরের নির্মাণ কৌশলের সাথে অনন্য স্থাপনা স্থানটির পূর্বের বদনাম ঘুচিয়ে  দেবে। যুক্ত হবে যশোরের দর্শনীয় স্থানের তালিকায়। সেই স্বপ্ন নিয়েই চাঁচড়ার ‘শতবর্ষ’ আশ্রয়ণ প্রকল্পটি উদ্বোধনের প্রহর গুণছে।
উন্নয়নের পথে অদম্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ যেমন বিশ্বের কাছে দিন বদলের গল্পের পান্ডুলিপি, ঠিক তেমনি এক রূপান্তরের গল্প চাঁচড়ার মৎস্য হ্যাচারি পল্লী কলোনির। ‘শতবর্ষ’ নামের এক জিয়ন কাঠির পরশে বদলে গেছে কলোনির অবয়ব। শুধু কি কলোনির? বদলে গেছে এই এলাকার শততম গৃহহীন মানুষের ভাগ্যও। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় সদর উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তার এক নান্দনিক উদ্যোগ বদলে দিয়েছে গোটা এলাকার দৃশ্যপট। দক্ষ চিত্রশিল্পীর নিপুণ হাতে রঙ তুলির ছোঁয়ায় যেমন জীবন্ত হয় ক্যানভাস, ঠিক তেমনি এখন চাঁচড়ার এই কলোনি! ঘিঞ্জি ঘনবসতি আর পুঁতিগন্ধময় পরিবেশের কারণে অনেকে যেটাকে বস্তি বলে অভিহিত করতো সেটাই হতে চলেছে জেলার দর্শনীয় স্থান।
এই এলাকার পরিচিতি হতে চলেছে ‘শতবর্ষ’ প্রকল্প এলাকা নামে। এখানে নির্মিত হচ্ছে হান্ড্রেড প্যাটার্নে একশ’টি ঘর। পাখির চোখে দেখলে ফুটে উঠবে ইংরেজিতে একশ’ লেখা। একশ’টি পরিবারের জন্যে নির্মিত এই ঘরের পাশাপাশি এখানে থাকছে বিনোদন কেন্দ্র, পুকুর, বৃক্ষরাজি শোভিত সৃজিত বনায়ন, পাকা সড়ক, মসজিদসহ নানা সুবিধা। নির্মাতারা আশা করছেন এই জুনেই শেষ হবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে স্বপ্নের বসতি শতবর্ষের নির্মাণ কাজ।
সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের একশ’টি পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে দু’শতক জমির দলিল, নামজারির খতিয়ানসহ সুদৃশ্য লাল রঙের টিনের ছাউনিযুক্ত দু’ কক্ষ বিশিষ্ট থাকার ঘর, রান্নাঘর, টয়লেট ও ইউটিলিটি স্পেসসহ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এই উপহার। “মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশে একজন  মানুষও  গৃহহীন  থাকবে  না” স্বপ্নদ্রষ্টার এই ঘোষণার পর গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া কর্মযজ্ঞ শেষ হবে শৈল্পিক এক নির্মাণ কৌশলে।  সদর উপজেলার চাঁচড়া মৌজায় এস এ ১ খতিয়ানে ২৬৪৮,২৬৫৪ ও ২৬৫৬ দাগে দুশ’ ৯০ শতক জমিতে হান্ড্রেড প্যাটার্নে তৈরি হচ্ছে এসব ঘর আর পরিকল্পিত স্থাপনা।
‘শতবর্ষ’ নামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের রূপান্তরের গল্পের যবনিকা যত কাব্যময় ঠিক বিপরীত দৃশ্য ছিল শুরুতে। পরিকল্পনা মাফিক জায়গা খুঁজে পাওয়া, অধিগ্রহণ,ঘর তৈরির উপযোগী করে তোলাসহ নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই স্মৃতিকথা জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, অনেক তথ্যানুসন্ধানের পর চাঁচড়ার এই জায়গাটির খোঁজ মেলে। সরকারি এই জায়গায় ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে শতাধিক পরিবারের ঘর আর শৌচাগার ছিল। সেসব অপসারণে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। ডোবা ভরাট করে ঘর তৈরির উপযোগী করতে হয়। স্বল্প সময়, স্বল্প বাজেট, নির্মাণ সামগ্রীর দাম ঊর্ধ্বমুখী চ্যালেঞ্জতো ছিলই। জেলা প্রশাসকের আন্তরিক সহযোগিতায় সেসব উত্তরণ করেন তিনি। এখন শুধু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা।
‘শতবর্ষ ’ প্রকল্প নিয়ে চাঁচড়া ইউপি সদস্য সেলিম আহমেদ শান্তি বলেন, উদ্যোগটি নিয়ে নানা অপপ্রচার ছিল। সাময়িক বিভ্রান্তি ছড়ালেও প্রকল্পের অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ায় সেসব এখন অতীত। এখানে শুধু একশ’টি ঘরই নির্মাণ হচ্ছে না, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন। তাই সবার বুকে কাজ করেছে অন্যরকম এক আবেগ।
ইতিমধ্যে ‘শতবর্ষ ’ প্রকল্পের কয়েকটি বাদে বাকি সব ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। পাকা ঘরের চালে শোভা পাচ্ছে লাল রঙের টিনের ছাউনি। দূর থেকে এখনই সে দৃশ্য নয়নাভিরাম। প্রাক্কলন শেষে নির্মাণের অপেক্ষায় চলাচলের পাকা সড়ক। চলছে পুকুর সংস্কারের কাজ। বিদ্যুতায়নে বসেছে ইলেকট্রিক পোল। রোপণ করা হয়েছে নারকেল, খেজুর, পেয়ারা, কাগজী লেবু, হরতকি, কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও ওষধি গাছের চারা। প্রত্যেক প্রজাতির একশ’ টি করে চারা রোপণ করা হয়েছে। শতবর্ষকে বর্ণিল করতে সবকিছুই একশ’র আদলে নির্মিত হচ্ছে এখানে।
‘শতবর্ষ ’ প্রকল্পের উদ্যোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, যশোরের আটটি উপজেলায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল মানুষের জন্যে নির্মাণ করা হয়েছে কয়েকশ’ ঘর। তবে, সদর উপজেলার চারশ’৭৪টি ঘরের মধ্যে ‘শতবর্ষ’ একটি নান্দনিক উদ্যোগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে একযোগে সারাদেশে গৃহহীনদের জন্যে গৃহনির্মাণ করা হয়েছে। বিশেষ উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এই ঘর সবার মধ্যে বিতরণ করেছেন। “মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশে একজন  মানুষও  গৃহহীন  থাকবে  না” প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের ঘোষণার পর থেকেই এ কার্যক্রম চলমান আছে। স্বপ্ন পূরণের সেই অভিযাত্রায় চাঁচড়ার ‘শতবর্ষ ’ প্রকল্পটি অনন্য উদ্যোগ হবে বলে আশা করছি।
কিছুদিন আগেও যাদের নিজের জমি জিরেত বলতে কিছু ছিল না। অন্যের দয়ায় চলতে হতো, জরাজীর্ণে কোনোরকম মাথা গোঁজার ভাগ্য যাদের নিয়তি ছিল তারাই থাকবেন দর্শনীয় ঘরে! আকাশে মেঘ দেখলে ফতেমা বেগম, মরিয়ম বেগম কিংবা আব্দুল জব্বারদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়তো। তারাই বর্তমানে জমিসহ পাকা বাড়ির মালিক। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছোঁয়ায় বদলে গেছে তাদের জীবনের দিনলিপি। যার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই স্বপ্নকে স্থাপত্যকলায় রূপ দিয়েছে ‘শতবর্ষ ’ প্রকল্পটি। যা শুধু যশোর জেলায় না, নন্দিত হবে সারাদেশে, সারাবিশ্বে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft