দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: যশোরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৪২ মামলা, ৪২ জনের জেল       করোনা নিভিয়ে দিল ফকির আলমগীরের জীবন প্রদীপ       হল না সিরিজ জয়, পরাজয়ের কারণ জানালেন মাহমুদউল্লাহ       যশোর পৌরপার্কের পুকুরে ক্যাডেট কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্র নিখোঁজ        যশোর ঝিগরগাছায় স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান তিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা       ডুমুরিয়ায় পানিতে ডুবে 'ভাই-বোনের মৃত্যু       যশোরে জাসদ নেতার বোনের মৃত্যু : শোক       ডাক্তার এমদাদুল হক আর নেই, শোক        ১৮ হচ্ছে করোনা টিকা নেয়ার বয়সসীমা        যশোরে করোনায় আরও ৬ মৃত্যু, কমেছে পরীক্ষা ও শনাক্তের সংখ্যা       
যশোরাঞ্চলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সহস্রাধিক পুস্তক প্রতিনিধি
শত কোটি টাকার ক্ষতিতে প্রকাশকরা
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Wednesday, 16 June, 2021 at 7:37 PM, Update: 16.06.2021 11:40:27 PM, Count : 193
শত কোটি টাকার ক্ষতিতে প্রকাশকরাকরোনাকালীন সংকটে যশোর ও ঢাকার পুস্তক ব্যবসায়ীরা এখন ঘোর অমানিশায়। স্কুল কলেজ বন্ধ, তাই বেচাকেনাও বন্ধ। ফলে বই প্রকাশকরা যেমন পড়েছেন ব্যাপক আর্থিক ক্ষতিতে। তাদের দাবি শতকোটি টাকার ব্যবসায়ীক ক্ষতি হয়েছে। আবার বৃহত্তর যশোর জেলায় পুস্তক বিক্রির সাথে জড়িত সহস্রাধিক প্রতিনিধি এখন কর্মহীন সময় কাটাচ্ছেন। তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রেতাদের যাচ্ছে চরম দুর্দিন।
কর্মমুখর এবং ব্যস্ত যশোর শহরের এ এলাকায় এখন শুনশান নিরবতা। লকডাউন হোক বা না হোক বই বিক্রির এ দোকানগুলোর ঝাপ বন্ধ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। পার হয়ে গেল প্রায় দেড় বছর। অচলাবস্থার সাথে দুর্দিনের পাকে আটকে পড়েছেন শত শত মালিক কর্মচারী।
পুস্তক প্রকাশক, প্রতিনিধি, বই ব্যবসায়ী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বছরের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই সহায়ক বই বাজারজাত শুরু হয়। রেফারেন্স বইসহ অন্যসব ক্যাটাগরির বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের চাহিদা মোতাবেক প্রস্তুত করে বাজারজাত করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন প্রকাশকরা। দেশের বড় বড় পুস্তক প্রকাশকরা শুধুমাত্র যশোর অঞ্চলেই ক্ষতিতে পড়েছেন শতকোটি টাকার। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ^বিদ্যালয়সহ, নানা ভার্সনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী যে পুস্তক ছাপানো হয়েছে তার বেশিরভাগই এখনো গুদামে মজুদ। যশোর হাসান বুক ডিপো ও জননী পাবলিকেশনের গুদামে দু’কোটি টাকার বই মজুদ রয়েছে। একইভাবে ঢাকার বড় বড় কোম্পানীর যশোরের ডিপোর অবস্থা একই।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বৃহত্তর যশোরের ৪ জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, এলাকার শিক্ষক নেতা, এমনকি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা পর্যায়ে আলোচনা করে বইয়ের চাহিদা অনুযায়ী একটি টার্গেট তৈরি করেন। বিগত সময়ের মত যশোরাঞ্চলের অধিকাংশ কলেজ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুলে প্রতি বছরের শুরু থেকেই বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রায় একশ’ কোটি টাকার মত বই প্রস্তুত করে বিভিন্ন পাবলিকেশন্স। এর মধ্যে যশোরের জননী পাবলিকেশন্স, হাসান বুক ডিপো, ঢাকার পাঞ্জেরী, অনুপম প্রকাশনী, লেকচার পাবলিকেশন, পুঁথিঘর পাবলিকেশন্স, পপি পাবলিকেশন, নিউটন পাবলিকেশন, স্কয়ার, আশার আলো পাবলিকেশন, ফুলকুড়ি পাবলিকেশন, গ্যালাক্সি পাবলিকশেনসহ ডজন দেড়েক পাবলিকেশন অন্যমত। প্রত্যেক পাবলিকেশন ৪ জেলার প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি ও বিক্রির সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজন মিলিয়ে সহস্রাধিক কর্মীও নিযুক্ত থাকে। কিন্তু এই সেক্টরে চলছে অশনি সংকেত। বেশিরভাগ প্রকাশনা সংস্থা তাদের কর্মী ছাটাই করেছে। কেউ কেউ নোটিশ ছাড়াই প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। অফিস গুটিয়েও নিয়েছে কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা। সহস্রাধিক প্রতিনিধি এখন বেকার। কর্মহীন সময় কাটাচ্ছেন অনেকেই।
এ ব্যাপারে যশোর হাসান বুক ডিপো ও জননী প্রকাশনীর পরিচালক জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, সারা দেশে বই সেক্টরে করুন দশা। বিশাল ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন প্রকাশকরা। শুধু তাদের প্রকাশনীর বই যশোরের গুদামে প্রায় দুই কোটি টাকার মজুদ রয়েছে। এছাড়া যশোর জেলার ৮ উপজেলায় ৩শ’র উপরে লাইব্রেরি ও বইয়ের দোকান। সবগুলো এখন বন্ধ। এর সাথে মালিক কর্মচারী মিলিয়ে ৭ শতাধিক লোক জড়িত। সবারই করুন অবস্থা।
এ ব্যাপারে পুস্তক প্রতিনিধি সমিতি যশোর জেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুধু যশোর নয়, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইলে বই ব্যবসায়ে কর্মরত সহস্রাধিক প্রতিনিধি এখন কর্মহীন। অনুপমসহ কয়েকটি বড় প্রকাশনী যশোর থেকে অফিস গুটিয়ে নিয়েছে। চার জেলাসহ পাশের আরও কয়েকটি জেলা মিলিয়ে শত কোটি টাকার উপরে বই চলে বছরে। তাদের অনেক কর্মী ইতিমধ্যে পেশা বদলও করে ফেলেছেন। অনেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের অনেক কর্মী ইতিমধ্যে পেশা বদলও করে ফেলেছেন। অনেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। প্রতিটি পুস্তক প্রতিনিধির সাথে তাদের পরিবার পরিজন সংশ্লিষ্ট। তাদের এই দৈন্যদশার ব্যাপারে সরকারের উপর মহলের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
যশোরের পুস্তক ব্যবসায়ী পুস্তক ভবনের মালিক বসির আহমেদ জানিয়েছেন, বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা নেই বললেই চলে। দোকান ভাড়াও ওঠেনা। স্কুল কলেজ চালুর সাথে তাদের বই ব্যবসা ওতপ্রতভাবে জড়িত। করোনার আগে বইয়ের দোকানগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করতো। ছিল কর্মচাঞ্চল্য। চলতো বিক্রির হিড়িক। এখন সেগুলো  যেন কেবলই স্মৃতি।







« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft