দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: যশোরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৪২ মামলা, ৪২ জনের জেল       করোনা নিভিয়ে দিল ফকির আলমগীরের জীবন প্রদীপ       হল না সিরিজ জয়, পরাজয়ের কারণ জানালেন মাহমুদউল্লাহ       যশোর পৌরপার্কের পুকুরে ক্যাডেট কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্র নিখোঁজ        যশোর ঝিগরগাছায় স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান তিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা       ডুমুরিয়ায় পানিতে ডুবে 'ভাই-বোনের মৃত্যু       যশোরে জাসদ নেতার বোনের মৃত্যু : শোক       ডাক্তার এমদাদুল হক আর নেই, শোক        ১৮ হচ্ছে করোনা টিকা নেয়ার বয়সসীমা        যশোরে করোনায় আরও ৬ মৃত্যু, কমেছে পরীক্ষা ও শনাক্তের সংখ্যা       
উপকূলের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি
এসএম আলাউদ্দীন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা):
Published : Wednesday, 16 June, 2021 at 9:04 PM, Count : 123
উপকূলের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবিঅনলাইন সেমিনারে সংসদ সদস্যসহ নাগরিক সংগঠন ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে একের পর এক দুর্যোগ আঘাত হানছে। ফলে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তাই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে সরকারের সকল উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়বে। এজন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সংস্থা কেএনএইচ জার্মানী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন একশন আয়োজিত এই সেমিনার সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। আলোচনায় অংশ নেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, কেএনএইচ জার্মানীর প্রতিনিধি মাটিলদা টিনা বৈদ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম-সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, পার্লামেন্ট নিউজ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ইমাম হাসান, স্ক্যান সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল, লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা, সচেতন সংস্থার সানজিদুল হাসান, সাংবাদিক আব্দুল আজিজ, রিয়াদ হোসেন, উন্নয়ন কর্মী কামাল হোসেন, শ্যামনগরের হাফিজুর রহমান, সুষমা হালদার, কয়রার শামীমা আক্তার। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন ফেইথ ইন একশনের নির্বাহী পরিচালক নৃপেন বৈদ্য।
নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই উন্নয়নের ঢেউ উপকূলীয় অঞ্চলেও পৌঁছেছে। কিন্তু ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে সেই উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়েছে। এর কারণ ষাটের দশকে নির্মিত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ভরাটসহ নানান কারণে বর্তমানে দীর্ঘ দিনের পুরাতন এই বেড়িবাঁধ উপকূলের সুরক্ষা দিতে পারছে না। এখন পরিকল্পিতভাবে নতুন বাঁধ তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে স্থায়ী ড্রেজিং-এর ব্যবস্থা যেমন রাখতে হবে, পর্যায়ক্রমে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আর উপকূলের সব ধরণের সমস্যা সংকট নিয়ে কাজ করার জন্য পৃথক একটি বোর্ড বা সংস্থা গঠন করা দরকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, প্রতি বছর কোন না কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে এই অঞ্চল। এবছর ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সরাসরি আঘাত না করলেও উপকূলের বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। অসংখ্য মানুষ এলাকা ছাড়া হতে বাধ্য হচ্ছে। উপকূল অঞ্চল থেকে আদায় হওয়া রাজস্বের একটি অংশ উপকূলের জনপদ সুরক্ষায় ব্যয় করার আহ্বান জানান তিনি।
উপকূলের ঝুঁকি মোকাবেলায় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মাটিলদা টিনা বৈদ্য বলেন, বাঁধ ব্যবস্থাপনার অভাবে এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় অঞ্চল এখন ভয়াবহ সংকটের মুখে। এই সংকট মোকাবেলায় সস্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সেমিনারে উত্থাপিত মূল প্রবন্ধে উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নে পৃথক বোর্ড গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ঝুঁকিতে থাকা বেড়িবাঁধগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে নির্মাণ করতে হবে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় সরকার ও জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেল্টারসহ প্রতিরোধক ব্যবস্থা। উপকূলীয় জনগণের নিরাপদ খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, প্রকল্প গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিতে হবে দূর্যোগ ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের। লবণাক্ত ও খরা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, লবণ সহনশীল কৃষিকাজ ও বিকল্প জীবিকায়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। এসকল কাজের জন্য জাতীয় বাজেটে সুনির্দ্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft