মতামত
শিরোনাম: যশোরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৪২ মামলা, ৪২ জনের জেল       করোনা নিভিয়ে দিল ফকির আলমগীরের জীবন প্রদীপ       হল না সিরিজ জয়, পরাজয়ের কারণ জানালেন মাহমুদউল্লাহ       যশোর পৌরপার্কের পুকুরে ক্যাডেট কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্র নিখোঁজ        যশোর ঝিগরগাছায় স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান তিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা       ডুমুরিয়ায় পানিতে ডুবে 'ভাই-বোনের মৃত্যু       যশোরে জাসদ নেতার বোনের মৃত্যু : শোক       ডাক্তার এমদাদুল হক আর নেই, শোক        ১৮ হচ্ছে করোনা টিকা নেয়ার বয়সসীমা        যশোরে করোনায় আরও ৬ মৃত্যু, কমেছে পরীক্ষা ও শনাক্তের সংখ্যা       
পানি যখন নাক বরাবর
Published : Monday, 21 June, 2021 at 8:29 PM, Count : 141
পানি যখন নাক বরাবর গত দেড় বছর ধরে আমরা করোনা ভাইরাস নামক  অদৃশ্য জীবানুর সাথে যুদ্ধ করছি। এতদিন এর প্রকোপ রাজধানী কেন্দ্রিক বেশি থাকলেও বর্তমানে জেলা শহর গুলোতে মারাত্মক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যশোর খুলনা অঞ্চলে। শিয়রে মৃত্যু নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ চলাফেরা করছে, তবু মৃত্যু ভয় যেন তাদের একপ্রকার গা-সওয়া হয়ে গেছে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে মৃত্যু ভয়ে মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়োজন থেমে থাকে না। যে অপূরণীয় এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন মানুষ  এককথায় তার হিসেব করে মেলানো যাবে না। একটা নিন্ম আয়ের জনবহুল দেশের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা যদি হুমকির সম্মুখীন হয়, শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয় তাহলে যে দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতি হয় তার সার্বিক হিসাব হয়তো আমরা সাধারণ মানুষ করে উঠতে পারবো না কিন্তু সেই সুদূরপ্রসারী এবং অপূরনীয় ক্ষতির যে মাত্রা তা আমাদের ভীত সন্ত্রস্ত  করে তোলে। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় জানা যায় এই করোনা পরিস্থিতির শিকার হয়ে প্রায়  আড়াই কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। এই নতুন আড়াই কোটি মর্মস্পর্শী জীবন যুদ্ধের গল্প যা শুধু ভুক্তভোগী হিসাবে তারাই অনুভব করছে। স্বচ্ছল একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনের পথ যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই মানুষ গুলো হঠাৎ করেই বোবা, অসহায় হয়ে পড়ে। তারা কাওকে কিছু বলতেও পারে না, কোথাও হাত পাতাও তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। করোনা কাল আমাদেরকে এমন অনেক ভয়াবহ পরিস্থিতির ভিতরে এনে ফেলেছে যা লিখে বোঝানো সম্ভব না। কর্মহীন এই মানুষগুলোর তালিকায় আছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের এর চাকুরীজীবি থেকে শুরু করে সাধারণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শ্রমজীবী মানুষ। দীর্ঘ দেড়বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষা সংক্রান্ত ও প্রকাশনা বিভাগের সাথে জড়িত সকল ব্যবসায়ী মহল সর্বশান্ত হতে বসেছে। এরকম আরো অসংখ্য কারবারি, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ নিঃস্ব হবার উপক্রম।
উল্লেখ করতেই হয় এই ক্রান্তিকালে বিগত শতবছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান নারী আন্দোলনের যতটুকু সাফল্য আমরা অর্জন করতে পেরেছি তা থমকে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বরং তা আবার পশ্চাৎমুখী হতে শুরু করেছে। শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হওয়ার কারণে বাল্যবিবাহের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে আশঙ্কাজনক হারে। নারী শিক্ষার অগ্রগতি বিগত সময়ে যতদূর অগ্রসর হয়েছিল তা এখন চরম বিপর্যয়ের সম্মুখে। স্কুল কলেজ বন্ধ বিধায় সাধারণ মধ্যবিত্ত, নিন্মবিত্ত পরিবারের অভিভাবকগন এই অলস সময়ে ছেলেদের ভার বহন করতে পারলেও মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দিয়ে ভারমুক্ত হতে চাইছেন। এর পক্ষে অনেক যুক্তিও আছে। আমরা বাল্যবিবাহ নারীর শরীর, মন এবং সমাজের জন্য যথেষ্ট ক্ষতির কারণ বলে যত কথাই বলি না কেন এই দুঃসময়ে দরিদ্র পরিবারে মেয়েটির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে আমরা কেউই পারি না। যদিও সরকার থেকে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য পাঠানো বৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ঠিকমত পৌঁছে যায়। এবছর থেকে তাদের স্কুল ড্রেস তৈরির টাকাও বৃত্তিতে যোগ হবে।  তারপরও মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দেখতে অভিভাবকরা সাহস পান না। তাদের সাথে কথা বলতে গেলেও তারা ঐ একই কথা বলেন "দিনকাল ভালো না, কখন কি ঘটে যায়!" তার থেকে পরের হাতে দিয়ে দিতে পারলেই যেন ঘাড় থেকে বোঝা নেমে গেল। এরপর মেয়েটির জীবনে যে অভিশাপ নেমে আসে, অনেক ক্ষেত্রে জীবনও চলে যায় তার দায় কেউ নেয় না। এভাবেই অপরিকল্পিত সংসার বাড়তে থাকে এবং অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। যার ফলশ্রুতিতে সমাজে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অনাচার, অপরাধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।  আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি কিভাবে দিন দিন  সহিংসতা, খুন, ধর্ষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশ পরিস্থিতির যে কোন প্রতিকূল অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয় নারী। যুদ্ধাবস্থা থেকে শুরু করে যে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় সবক্ষেত্রেই নারীকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। একজন নারী ছোট থেকে মানুষ হিসাবে বড় হয়ে সমাজের বা দেশের উচ্চ পর্যায়ে পৌছাক আমাদের এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো তা মেনে নিতে নারাজ। মুষ্টিমেয় কিছু নারী আপন যোগ্যতায় পুরুষের পাশাপাশি শিক্ষায়, দক্ষতায় উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছলেও কর্মক্ষেত্রে সম-অধিকারের লড়াই এখনো চলমান। অর্থাৎ এখনো যে আন্দোলন চলমান  এমতাবস্থায় মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে যাওয়া বা বাল্যবিবাহ হয়ে যাওয়া মানে সুদূরপ্রসারী পিছিয়ে যাওয়া। এটা ঠিক যে এই সংকট শুধু নারীর জন্য নয়, এই সময়ে প্রতিটি শিশুর মানসিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যে বাসায় ছোট শিশু আছে তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই ভাষ্য যে শিশুরা অস্থির হয়ে উঠছে। খারাপ আচরণ করছে, অকারণ ভাঙচুর করছে। যতই আমরা অভিভাবকদের বলি শিশুদের সময় দিতে, কিন্তু সমস্যা যখন দীর্ঘমেয়াদি হয়ে যায় তখন তারাও একসময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। অনেক সময় সচেতন পরিবারও বাধ্য হচ্ছেন শিশুদের শান্ত করতে তাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিতে। সংসার সামলে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করে শিশুকে পর্যাপ্ত সময় বা তাদের মনোযোগ বা বিনোদনের জন্য সময় অনেক মায়েরই থাকে না। এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে বা করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে না পারলে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে আমাদের আগামী প্রজন্মের শিক্ষা, সংস্কৃতি, মেধা- মনন, কর্মসংস্থান  সবকিছুতেই বহুযুগ পিছিয়ে পড়তে হবে।
সবমিলিয়ে করোনা ভাইরাস এর প্রভাবে যে অন্তহীন ক্ষতি আমাদের হচ্ছে তা অকল্পনীয়। তবু আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। সচেতন হতে হবে। সময় আমাদের সঠিক পথ দেখাক তেমনি প্রার্থনা আমাদের সকলের।
মাহমুদা রিনি





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft