দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: বিশ্বকাপের স্বপ্ন বেঁচে রইলো বাংলাদেশের       যশোরাঞ্চলে কঠোর নজরদারি       প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে হাজির হবার নোটিশ       যশোরে নবাগত ৩৭ জন আইনজীবীকে সংবর্ধনা       চাকরির নামে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা প্রতারণায় নারীর বিরুদ্ধে মামলা       পিচের রাস্তায় ইটের সলিং       কেশবপুরে মানববন্ধন       পরিত্যক্ত ভবনে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, দুর্ঘটনার আশংকা        কারেন্ট পোকার আক্রমণে আমন ধান নষ্ট, দিশেহারা কৃষক       তালা ভূমি অফিসের কর্মচারীরের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ       
চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বেড়েছে
করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা
চৌগাছা (যশোর) অফিস
Published : Saturday, 18 September, 2021 at 9:13 PM, Count : 699
করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকাযশোর জেলার চৌগাছা সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালিত হলেও থেমে নেই অনুপ্রবেশ। সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে ‘ধুড়’ পাচারের ব্যবসা। প্রতিমাসে চোরাচালন ও আইন শৃংখলা সভায় ভয়াবহ মাদক ব্যবসা, চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। অন্যান্য উপজেলার তুলনায় শুধুমাত্র সীমান্তবর্তী চৌগাছা উপজেলায় এখন দেদারছে চলছে ধুড় পাচার। অভিযোগ রয়েছে বিজিবির কতিপয় সদস্য ধুড় পাচারের সহযোগিতা করছেন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ধুড় পাচার চলতে থাকলে মহামারি করোনা এ অঞ্চলে নতুনমাত্রায় ছড়িয়ে যেতে পারে।
সীমান্তবর্তী একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার মাশিলা, হিজলী, আন্দুলিয়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে মানুষ ঢুকছে। যাদেরকে এলাকায় ধুড় বলা হয়। এলাকার কতিপয় ব্যক্তি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ধুড় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, গদাধরপুর সর্বনন্দহুদা গ্রামের মালিপাড়ার বাসিন্দা আখের আলীর নেতৃত্বে গয়ড়া গ্রামের রমজান আলী, হিজলী গ্রামের শহর আলী, হানি মিয়া, ইন্দেরপুরের ফারুক হোসেন ধুড় পাচারের সাথে যুক্ত। সীমান্তবর্তী প্রশাসনের কড়াকড়ি নজর থাকলেও কতিপয় বিজিবি জোয়ানের সহযোগিতায় চালিয়ে যাচ্ছে ধুড় পাচার।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভারতের উত্তর বয়রা থেকে সীমান্ত পার হয়ে প্রতিদিনই বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ধুড়। সূত্র বলছে, প্রতিদিনই সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যে গয়ড়া ও গদাধরপুর হয়ে মালিপাড়ার মাঠ দিয়ে প্রবেশ করছে ধুড়। এই ধুড় পাচারের সাথে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় নাগরিকরাও যুক্ত রয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় মোবাইলের মাধ্যমে এদেশের সিন্ডিকেটের সদস্যরা ওপারে যোগাযোগ করে। এরপর চুক্তি মোতাবেক তাদেরকে আনা হচ্ছে। কখনো বাংলাদেশ থেকেও অবৈধ পথে লোকজন ভারতে যাচ্ছে এদের সহযোগিতায়। তবে স্থানীয়রা জানান, ভারত থেকে (অনুপ্রবেশকারী) ধুড় আসছে সবচেয়ে বেশি। ধুড় প্রতি দাললরা এক হাজার থেকে দু’হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন বলে সূত্রের দাবি।
সূত্র জানিয়েছে, সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যে ধুড় প্রথমে সিন্ডিকেট প্রধান আখের আলীর বাড়িতে রাখা হয়। ধুড়দের নিরাপত্তা দেয়াসহ খাবার ও থাকারও ব্যবস্থা করা হয় বলে সূত্রের দাবি। রাত শেষ হবার সাথেসাথে আখের আলীর ছেলে সুমন ও শ্যালক মহেশপুরের খোকন ধুড়দের ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলারে যাত্রী হিসাবে পুড়াপাড়া, চৌগাছা বাজারস্থ যশোর বাসস্ট্যান্ড, মহেশপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে যাত্রীবাহি বাসে পৌঁছে দেয় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে। কিন্তু এই ধুড় নেয়ার জন্য তিনটি সংযোগ সড়ক রয়েছে চৌগাছা পৌর সদরের সাথে। একটি হচ্ছে হিজলী বিজিপি ক্যাম্পের সামনের সড়ক দিয়ে মাকাপুর হয়ে পুড়াপাড়া বাজার থেকে চৌগাছা বাজার। অন্যটি হচ্ছে মাশিলা গ্রামের সড়ক দিয়ে মাশিলা বিজিপি ক্যাম্পের সামনে দিয়ে কংশারীপুর। আর একটি মাশিলা ক্যাম্পের সামনে দিয়ে দীঘলসিংগা হয়ে কুঠিপাড়া মোড়। অথচ বিজিবি ক্যাম্পের সামনে চেক পোস্ট থাকলেও রহস্যজনক কারণে এদেরকে থামানো হয় না বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর প্রশ্ন বিজিবি ক্যাম্পের সামনে দিয়ে কীভাবে ভারত থেকে অনুপ্রবেশকারী অবাধে দেশের মধ্যে নির্বিঘ্নে চলে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক, সীমান্তবর্তী কৃষক ও এলাকার কয়েকজন জানান, সীমান্তে মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, অনুপ্রবেশ বন্ধ নেই। প্রতিদিনই ধুড় চোখের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে। এদেরকে থামানো না হলে করোনার নতুনমাত্র ছড়িয়ে যেতে পারে।
মাশিলা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের কাছে সরকারি মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সীমান্তের ৩৯ এর ১২ এস হচ্ছে মাশিলা ক্যাম্পের আওতাধীন। এলাকাটি প্রায় বাওড়ে ঘেরা। সেকারণে চোরাচালান বা ধুড় পাচার হয় না। অন্যপাশ দিয়ে ধুড় এসে মাশিলা ক্যাম্পের সামনে পাকা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, চেকপোস্টে সব সময় সতর্কতার সাথে বিজিবি জোয়ানরা অবস্থান করেন। আমরা সব সময় তল্লাশি চালাই।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft