সারাদেশ
শিরোনাম: বিশ্বকাপের স্বপ্ন বেঁচে রইলো বাংলাদেশের       যশোরাঞ্চলে কঠোর নজরদারি       প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে হাজির হবার নোটিশ       যশোরে নবাগত ৩৭ জন আইনজীবীকে সংবর্ধনা       চাকরির নামে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা প্রতারণায় নারীর বিরুদ্ধে মামলা       পিচের রাস্তায় ইটের সলিং       কেশবপুরে মানববন্ধন       পরিত্যক্ত ভবনে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, দুর্ঘটনার আশংকা        কারেন্ট পোকার আক্রমণে আমন ধান নষ্ট, দিশেহারা কৃষক       তালা ভূমি অফিসের কর্মচারীরের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ       
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল
চট্টগ্রাম হবে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’
মুহাম্মদ দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
Published : Sunday, 26 September, 2021 at 7:00 PM, Count : 58
চট্টগ্রাম হবে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম। বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে শিল্প-কারখানা ও পর্যটন শিল্পের। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে টানেল বা সুড়ঙ্গপথ। দেশের প্রথম টানেল হিসেবে সেই পথ দিয়ে চলবে সব ধরনের যানবাহন। নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরেই চালু হবে সেই স্বপ্নের টানেল।
দেশে প্রথমবারের মতো কোনো নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন এই টানেলের নাম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’। এতে খরচ হচ্ছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।
এ টানেল চালু হলে বদলে যাবে চিরচেনা চট্টগ্রাম। নদী-পাহাড় আর সাগর-মোহনার চট্টগ্রাম পাবে নবরূপ। নদীর ওপারে গড়ে উঠবে আরেক চট্টগ্রাম। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আবাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে। চীনের সাংহাই নগরীর মতো চট্টগ্রাম হবে ওয়ান সিটি-টু টাউন।
টানেলের এক মাথা শুরু হয়েছে পতেঙ্গার নেভাল একাডেমির পাশ থেকে। নদীর তলদেশ দিয়ে তা চলে গেছে আনোয়ারার দিকে। নদীর তলের এই পথের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। পুরো পথেই আপনি থাকবেন পানির অনেক নিচে। এখন যে পথ পেরোতে এক ঘণ্টা সময় লাগে, টানেল হলে লাগবে মাত্র পাঁচ মিনিট। এ টানেল ধরে চলে যাওয়া যাবে পর্যটননগরী কক্সবাজার ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর অবধি।
এ ছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী এলাকায় দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে। বাঁশখালীতে হচ্ছে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। মহেশখালীতে হয়েছে এলএনজি স্টেশন। আনোয়ারায় হচ্ছে বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এসব মেগা প্রজেক্টের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু টানেল।
২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর এই টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই পুরোদমে চলে প্রকল্পের কাজ। প্রকল্প পরিচালক হারনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (২০২২ সালের ডিসেম্বর) আমরা এই মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’
টানেল নির্মাণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সেতু মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম শহরকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছে। এক ভাগে রয়েছে নগর ও বন্দর এবং অপর ভাগে রয়েছে ভারি শিল্প এলাকা।
কর্ণফুলী নদীর ওপর ইতোমধ্যে ৩টি সেতু নির্মিত হয়েছে, যা বিদ্যমান বিপুলসংখ্যক যানবাহনের জন্য যথেষ্ট নয়। নদীর মরফলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর তলদেশে পলি জমা একটি বড় সমস্যা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারিতার জন্য বড় হুমকি। এই পলি সমস্যার মোকাবেলায় কর্ণফুলী নদীর ওপর আর কোনো সেতু নির্মাণ না করে এর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা প্রয়োজন। এজন্য সরকার জেলার দুই অংশকে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই টানেল দিয়ে বছরে ৬৩ লাখ যানবাহন চলাচল করবে।
সূত্র জানায়, টানেল সাইটে নদীর প্রস্থ ৭শ মিটার এবং পানির গভীরতা ৯-১১ মিটার। টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৪শ মিটার। টানেলের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৪ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা দিচ্ছে। বাকি ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা চীন সরকার ব্যয় করছে।
নগরীর পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। টানেলটি হচ্ছে দুটি টিউবে চার লেনবিশিষ্ট। এ ছাড়া টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড এবং ৭২৭ মিটার ওভারব্রিজ রয়েছে। চীনের কমিউনিকেশন এবং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) টানেল নির্মাণের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
এটি পুরোদমে চালু হলে বছরে প্রায় ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু হলে পাল্টে যাবে চট্টগ্রাম তথা দেশের অর্থনীতি। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে শিল্পকারখানা ও পর্যটন শিল্পের।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft