সারাদেশ
শিরোনাম: কুমিল্লার ঘটনার মূল অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী       জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে : স্পিকার       কারাগার থেকে কয়েক হাজার মানুষকে মুক্তি দিলো জান্তা সরকার       স্থায়ী হিসেবে শপথ নিলেন ৯ বিচারপতি       চবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু       মিছিল নিয়ে নয়, গদি ছেড়ে রাস্তায় নামেন : মির্জা আব্বাস       করোনায় ৭ জনের মৃত্যু       আবারও বাড়লো তেলের দাম       সীমান্তে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত, ইসরায়েলি ড্রোনে চলছে নজরদারি       ২০০১ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নতুন করে ঘটছে : কাদের      
অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ
সংকুচিত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্প কাজ
কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) :
Published : Monday, 27 September, 2021 at 5:45 PM, Count : 59
সংকুচিত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্প কাজনওগাঁর রাণীনগর উপজেলাজুরে প্রতিটি গ্রামে অপরিকল্পিতভাবে নানা রকম স্থাপনা নির্মাণ করার ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে গ্রামের মধ্যে বয়ে চলা রান্তাগুলো। ফলে জরুরী প্রয়োজনে এ্যম্বুলেন্স  বা ফায়ার সার্ভিসের  গাড়ি কিংবা  মালামাল পরিবহন নিয়ে নিত্য দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামের সাধারন জনগন। এছাড়া রাস্তাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন অধিকাংশ গ্রামেই সামাজিক ভাবে দ্বন্দ্ব বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের  যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলায় দুই শতাধিক গ্রাম রয়েছে ৮টি ইউনিয়নে । এসব গ্রামে বসতি গড়ে ওঠার শুরু থেকেই অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন রকম স্থাপনা নির্মাণ চলমান রয়েছে। গ্রামের মধ্যে চলাচলের জন্য রাস্তার জায়গা রেখে বসতি বা স্থাপনা নির্মাণের নিয়মনীতি থাকলেও  তা তোয়াক্কা না করে গ্রামের মধ্যে প্রবেশ কিংবা এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে চলাচলের কোনমতে পায়ে হেঁটে চলার রাস্তা রেখে যে যার মতো বসতবাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। কিন্তু ভ্যানগাড়ি  বা জরুরী প্রয়োজনে  এ্যম্বুলেন্স অথবা কোন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে  ফায়ার সার্ভিসে গাড়ি চলাচলের রাস্তা রাখা হচ্ছেনা। ফলে অগ্নিকান্ড বা যে কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক  দুর্যোগ হলে  উদ্ধারকার্মীরা  ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে কিংবা এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পৌঁছাতে পারবেনা।
এছাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা প্রধান প্রধান সড়ক , শাখা সড়ক থেকে কাঁদে করে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও কৃষিপণ্য উৎপাদনে মালামাল  এবং স্থাপনা নিমাণে ব্যবহৃত ইট,বালি, সিমেন্ট রডসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহণ করতে হচ্ছে গ্রামের বসবসকারীদের। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত শ্রম, অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে,অন্য দিকে নানাভাবে ক্ষতির সম্বুখিন হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া অধিকাংশ গ্রামে চলাচলের রাস্তাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন সামাজিক বা পারিবারিকভাবে মারা-মারিতে আইন শৃংখলার অবনতি ঘটছে। অন্যদিকে মামলা মকদ্দমায় জড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লোকজন। ফলে দিনদিন বেড়েই চলেছে রাস্তা কেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব। এছাড়া গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করতে সরকারের যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ধাপে ধপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালীগ্রাম বড়িয়াপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেন মৃধা বলেন, আমাদেও গ্রাম প্রায় দেড় কিলোমিটার এরিয়া। কিন্ত এতো বড় গ্রামের মধ্যে বয়ে চলা রাস্তা দিয়ে কোন মতে ভ্যানগাড়ি চলাচল করতে পারে। গ্রামের মধে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে পুরো গ্রাম ভস্মীভূত হলেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আর এ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে পারবেনা। সংকুচিত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্প কাজ
শিম্বা গ্রামের সাইদুজ্জামান সাগর বলেন, আমাদের গ্রামে প্রায় সাড়ে তিন হাজার লোকের বসবাস। কিন্ত গ্রামের মধ্যে চলাচলের রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় প্রায় এক কিলোমিটার দুরে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা প্রধান সড়ক থেকে কখনো কাঁধে কখনো ভ্যানগাড়ী দিয়ে বিভিন্ন মালামাল পরিবহণ করতে হয়। তিনি আরো বলেন, শুধু অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণে উপজেলার প্রায় অধিকাংশ গ্রামেই রাস্তা নিয়ে সবচাইতে বেশী দ্বন্দ্ব চলছে। সরকারের নিয়মনীতি মেনে স্থাপনা নির্মাণ করলে বা স্থাপনা নির্মাণে  সংশ্লিষ্টরা নজরদারি করলে এমন সমস্যা হত না। ফলে গ্রাম এলাকা দ্বন্দ্বও কমে যেন। এতে সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারতো।
সংকুচিত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্প কাজরানীনগর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস লিডার খন্দকার দেলোয়ার হোসেন নতুন যোগদান করেছেন জানিয়ে বলেন, রাস্তাগুলো খুবই সংকীর্ণ এই উপজেলার গ্রামের । গত কয়েক দিনে ২টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা পেয়েছি এবং রাস্তা সংলগ্ন হওয়ায় কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এসব অগ্নিকান্ডের ঘটনা গ্রামের মধ্যে হলে  কাজ করা মস্কিল হতো।  এসব অধিকাংশ গ্রামই ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাণীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, গ্রামীণ রাস্তা-খাট নির্মাণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় রাস্তার জায়গায় সংকুলান না হওয়ায় কাজই করা যাচ্ছেনা।  সরকার যে ভাবেই যোগাযোগ খাতে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার চেষ্টা করেছেন কিন্ত রাস্তার জায়গা সংকুচিত হওয়ায় তা অনেকাংশেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলার একডালা ইউনিয়নের বড়িয়াপাড়া মানিপুকুওে গুচ্ছ গ্রামে কাজ পরিদর্শনে গেলে মেইন রাস্তায় গাড়ি রেখে গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে যেতে হয়। এত বড় একটি গ্রাম অথচ অপরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ে ওঠায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে পরেছে। ফলে গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। আগে থেকেই নিয়মনীতি মেনে  স্থাপনা নির্মাণ করলে এমন জটিলতার সৃষ্টি হতো না। তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রামে কিভাবে রাস্তা প্রশস্ত করে গ্রামের লোকজন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে এবং এ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচল করতে পারে সে ব্যপারে জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গন্যমান্য লোকজনদের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্ট করবো।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft