জাতীয়
শিরোনাম: বিশ্বকাপের স্বপ্ন বেঁচে রইলো বাংলাদেশের       যশোরাঞ্চলে কঠোর নজরদারি       প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে হাজির হবার নোটিশ       যশোরে নবাগত ৩৭ জন আইনজীবীকে সংবর্ধনা       চাকরির নামে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা প্রতারণায় নারীর বিরুদ্ধে মামলা       পিচের রাস্তায় ইটের সলিং       কেশবপুরে মানববন্ধন       পরিত্যক্ত ভবনে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, দুর্ঘটনার আশংকা        কারেন্ট পোকার আক্রমণে আমন ধান নষ্ট, দিশেহারা কৃষক       তালা ভূমি অফিসের কর্মচারীরের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ       
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ
আসাদ আসাদুজ্জামান
Published : Monday, 27 September, 2021 at 8:01 PM, Update: 28.09.2021 12:03:14 AM, Count : 272
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজবাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন কাল মঙ্গলবার। ফেলে আসা ৭৪ বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি জনগণের এ আস্থা এবং নিজের বিচক্ষণতার কারণে সর্বশেষ জাতিসংঘের এসডিজি প্রোগ্রেস এওয়ার্ডসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, শেখ হাসিনা তার বাবার মতোই গণমানুষের নেতা। তিনি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, গতিশীল নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে শুধু দেশেই নন, বহির্বিশ্বেও অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জাতির পিতার আদর্শকে বুকে ধারণ করে তার নেতৃত্বে আজ বাঙালি জাতি এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার পথে।   
বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে দিশাহারা ও বহুধাবিভক্ত দলের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। শুরু হয় রাজনৈতিক প্রতিকূল স্রোতে তাঁর নৌকা বাওয়া। মৃত্যুশঙ্কা পায়ে ঠেলে, বহু ঝড়ঝাপটা সামলে, বিপদসংকুল সমুদ্র পেরিয়ে বারবার নৌকাকে সফলতার সঙ্গে তীরে ভিড়িয়েছেন এই কান্ডারি। এভাবেই তিনি হয়ে উঠেছেন দলে পরম নির্ভরতার প্রতীক। শুধু দল নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও দেখিয়েছেন বহু চমকপ্রদ সাফল্য। অর্জন করেছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মধুমতী নদী বিধৌত গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর জন্ম। সেখানেই শৈশব-কৈশোর কাটে। বাংলার মাটির নিবিড় সংস্পর্শে বেড়ে ওঠার কারণেই পরবর্তী সময়ে এ দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগসূত্র গড়ে ওঠে। শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবনের শুরু টুঙ্গিপাড়াতেই। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকায় টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে (শেরে বাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ) ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ওই কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। কলেজ জীবন শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় শেখ হাসিনার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিপথগামী একদল সেনা সদস্য যখন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে, তখন শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে ছিলেন ড. ওয়াজেদ মিয়ার বাসায়। মা-বাবাসহ স্বজনদের হারিয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার এক অবর্ণনীয় দুঃসহ জীবন শুরু হয়। নানা দেশ ঘুরে তাঁদের আশ্রয় মেলে প্রতিবেশী দেশ ভারতে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে যায় আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি হয়ে পড়ে বিভক্ত। এই বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ওই বছরই তিনি তৎকালীন শাসকদের বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের মতো একটি প্রাচীন দলের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁকে দলের অভ্যন্তরেও নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ অনেক নেতা সে সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ভালোভাবে নেননি। একদিকে সামরিক স্বৈরাচার শাসককে মোকাবেলা, অন্যদিকে দলে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, এ দুটো চ্যালেঞ্জই একসঙ্গে তাঁকে সামাল দিতে হয়েছে।
নিজের বিচক্ষণতা, ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার বলে শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে দলের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন। শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। মাঝে একবার বিরতি দিয়ে ২০০৯ সালে আবারও প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তখন থেকে এখন পর্যন্ত টানা তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে। এ দেশে এখন পর্যন্ত তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এই পদে রয়েছেন। তবে রাজনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনার এই অঙ্গনটি শেখ হাসিনার জন্য কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। বারবার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। ১৯ বার তিনি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বর্বরোচিত হামলাটি হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ওই দিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ও গুলি চালানো হয়। দলের নেতা ও দেহরক্ষীরা সেদিন মানবঢাল তৈরি করে তাঁকে রক্ষা করলেও মারা যান ১৯ জন। পঙ্গুত্ব বরণ করেন অসংখ্য নেতাকর্মী। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন শেখ হাসিনা।
তিনি আজ শুধু দেশের নেতা নন, তিনি এখন বিশ্ব নেতাদের একজন। তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী ‘মানবতার মা’ উপাধীতে ভূষিত হয়েছেন। আজ তাঁর জন্মদিন। আজ যশোরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন নানারকম কর্মসূচি উদযাপন করবে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft