দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: বিশ্বকাপের স্বপ্ন বেঁচে রইলো বাংলাদেশের       যশোরাঞ্চলে কঠোর নজরদারি       প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে হাজির হবার নোটিশ       যশোরে নবাগত ৩৭ জন আইনজীবীকে সংবর্ধনা       চাকরির নামে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা প্রতারণায় নারীর বিরুদ্ধে মামলা       পিচের রাস্তায় ইটের সলিং       কেশবপুরে মানববন্ধন       পরিত্যক্ত ভবনে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, দুর্ঘটনার আশংকা        কারেন্ট পোকার আক্রমণে আমন ধান নষ্ট, দিশেহারা কৃষক       তালা ভূমি অফিসের কর্মচারীরের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ       
ফায়দা লুটতেই ইমন মামলা করে চলেছে
এহসান ইস্যুতে হাফডজন মামলায় মুফতি ফুরকানসহ অনেকেই নির্দোষ প্রমাণিত
অভিজিৎ ব্যানার্জী
Published : Monday, 27 September, 2021 at 8:19 PM, Count : 155
এহসান ইস্যুতে হাফডজন মামলায় মুফতি ফুরকানসহ অনেকেই নির্দোষ প্রমাণিতএহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি এবং এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভলপমেন্ট লিমিটেডের অসাধু চক্রের প্রতারণার শিকার মানুষের পক্ষ নিয়ে মামলার নামে অর্থ বাণিজ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কথিত আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক নামধারী বারান্দীপাড়ার মফিজুল ইসলাম ইমন নিজে এবং ভুক্তভোগীদের দিয়ে একের পর এক মামলা করিয়ে চলেছেন। বিপুল অংকের ওই অর্থআত্মসাতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী প্রধানসহ ঢাকা মাগুরার ডজনখানেক প্রতারক জড়িত থাকলেও ইমন যশোরের অনেক ভুক্তভোগীর নাম জড়িয়ে মামলা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অব্যাহত মানহানি ও হয়রানীও করে চলেছে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ডজনখানেক মামলায় রামনগরের মুফতি ফুরকানসহ অনেকে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও পিছু ছাড়ছেন না ইমন। একেতে মোটা অংকের টাকা খুইয়ে তারা ধরাশায়ী, এরপর আবার ইমনের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জর্জরিত মুফতি ফুরকানসহ মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া লোকজন এই ইমনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগীদের একাধিক সূত্র থেকে তথ্য মিলেছে, ইসলামী ও ধর্মীয় লেবাসে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে যশোরে গ্রাহকদের বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছে মর্মে এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভলপমেন্ট লিমিটেড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আবু তাহের নদভী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাগুরার কাজী রবিউল ইসলামসহ কমপক্ষে ২৭ জনকেআসামি করে যশোরে দেড় ডজনের বেশি মামলা হয়েছে এ পর্যন্ত। বেশিরভাগ মামলা করেছেন বারান্দীপাড়ার মফিজুল ইসলাম ইমন। এছাড়া তিনি টাকা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে দিয়ে মামলা করিয়েছেন। আসামি করা হয়েছে, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নিশ্চিন্তপুরের মুফতি আবু তাহের নদভী, প্রধান নির্বাহী ব্যবস্থাপক মাগুরা সদর উপজেলার সাজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা কাজী রবিউল ইসলাম, ব্যবস্থাপক মাগুরা সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জুনায়েদ আলী, পরিচালক মাগুরা সদর উপজেলার রাউতলা গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর রহমান, পরিচালক কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার লক্ষীধরদিয়াড় গ্রামের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন, পরিচালক খুলনার লবনচরা হরিণটানা রিয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা মুফতি গোলাম রহমান, পরিচালক গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার চড়মাটিন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মতিন, মহাপরিচালক (প্রশাসন) সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার খুবদিপুর এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হক, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লিচুবাগান জামালকান রোডের বাসিন্দা কলিমুল্লাহ কলি, পরিচালক খুলনার খানজাহান আলী থানার শিরোমনি এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান, যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা মুফতি ইউনুস আহম্মেদ, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মরল এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম, মাগুরা সদর উপজেলার শিমুলিয়ার বাসিন্দা আইয়ুব আলী, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধান্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সামসুজ্জামান টিটু, ব্যবস্থাপক (যশোর শাখা) মাগুরা সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আতাউল্ল¬াহকে। এছাড়া ওই সব মামলায় ভুক্তভোগী ও সম্মানীত অনেক ব্যক্তিকে এফও সাজিয়ে নাম জড়িয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে যশোরের রামনগরের মুফতি ফুরকান, কেশবপুরের বেতলিখোলার আব্দুল হালিম, বিমানবন্দর রোডের এসএম সেলিমুল আজম চৌধুরী, বাঘারপাড়ার কলেজ শিক্ষক শামসুর রহমান, শেখহাটি জামরুলতলার বাবর আলী, আব্দুল হক, এইচএমএম রোডের মোকছেদ আলীসহ  নির্দোষ অনেকের নাম জড়িয়ে মামলা ঠুকেছেন ইমন। এর মধ্যে মুফতি ফুরকান এক ডজন মামলায় পিবিআই তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। অন্যরা হাফডজন করে মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। আর চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নিশ্চিন্তপুরের মুফতি আবু তাহের নদভী, প্রধান নির্বাহী ব্যবস্থাপক মাগুরা সদর উপজেলার সাজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা কাজী রবিউল ইসলামসহ ডজন দেড়েকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। গড়ে হাফ ডজন মামলায় যশোরের মুফতি ফুরকানসহ উপরে উল্লেখিত ৫/৭ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পিবিআই প্রমান না পেলেও ইমন তাদের পিছু ছাড়ছেন না। এবার ইমন ৩০ গ্রাহকের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় এহসান এসের কার্যকরি পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২১ জনের সাথে মুফতি ফুরকানসহ নির্দোষ প্রমানিত হওয়া আরো ৬ জনের নাম জুড়ে দিয়ে যশোর কেতোয়ালি থানায় মামলা ঠুকেছেন। যা খুবই দুঃখজনক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
হয়রানী ও অব্যাহত মামলার শিকার যশোরের মুফতি ফুরকান আহমেদ, আব্দুল হালিম, শামসুর রহমান ও এসএম সেলিমুল আজম চৌধুরী গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, তারা এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভলপমেন্ট এবং মাল্টিপারপাসের সদস্য মাত্র। ওই সংস্থায় তাদেরও টাকা পড়ে আছে। মূলত সব টাকা ঢাকায় কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাহী ব্যবস্থাপক কাজী রবিউলের দখলে রয়েছে। আর ভুক্তভোগীদের ভুল বুঝিয়ে মূলত ব্যবসা করছে ক্ষতিগ্রস্ত লগ্নিকারী সংগ্রাম কমিটির কথিত সাধারণ সম্পাদক নামধারী মফিজুল ইসলাম ইমন। সে লোকজনের সাথে চুক্তি করে মামলা করিয়ে সুবিধা আদায় করছে। এর আগে তাদের মত অনেক সম্মানীত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা করায়, যা পিবিআই তদন্তে প্রমাণিত। তার অপতৎপরতায় একবার বিক্ষুব্ধরা তাকে আটকে রাখে। পরে তার স্ত্রী মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন। এছাড়া অনেক ভুক্তভোগীকেও অর্থ আত্মসাতকারী সাজিয়ে মামলা ঠুকে সামাজিকভাবে হেয় করেছেন এই ইমন। তার অর্থ বাণিজ্যের ব্যাপারেও খোঁজখবর নেয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান তারা।
এ ব্যাপারে মফিজুল ইসলাম ইমন জানিয়েছেন, তিনি অসহায় মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে মামলাগুলো করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে অনেককে নির্দোষ বলতে পারে। এতে তারা নির্দোষ হয়ে যাবে না। যতক্ষন মানুষ টাকা ফেরত পাবেন না, ততক্ষন সংগ্রাম ও মামলা চলতে থাকবে। এবার তিনি থানায় মামলা করেছেন। আশা করছেন যথাযথ তদন্ত হবে। এবারের মামলাটিও তদন্ত করছে পিবিআই যশোর। তিনি কারো কাছ থেকে অর্থবাণিজ্য করে মামলা করেননি বা করছেন না। তিনি নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মামলাগুলো পরিচালনা করছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছেন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft