দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: ৬ রানের হার দিয়েই বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের       ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, শান্তসহ নবনির্বাচিতদের শপথ       বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৪৯ লাখ পার       খালী কলসি বাজে বেশী ভরা কলসী বাজে না       কোচিং থেকে ছেলে নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না শাহাজানের       দুই মাদক কারবারীকে আটক করেছে র‌্যাব       ষষ্টিতলা ও খড়কির দুটি চক্রে উত্তেজনা        বেজপাড়ায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ        কুয়াদা থেকে ভুয়া কবিরাজ আটক       যবিপ্রবিতে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন      
যশোর জেনারেল হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়
টিকার অপেক্ষায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ
আশিকুর রহমান শিমুল
Published : Monday, 11 October, 2021 at 8:53 PM, Count : 425
টিকার অপেক্ষায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে করোনার টিকা গ্রহণকারী মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এদিনে, সদর উপজেলায় চার হাজার ছয়শ’ ৩৫ জন টিকা নিয়েছেন। যা এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জেলায় টিকার জন্যে রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১০ লাখ ৭২ হাজার তিনশ’ ৮০ জন। এর মধ্যে টিকা নিয়েছেন ছয় লাখ ৩৭ হাজার ২৩ জন। প্রথম ডোজ নিয়েছেন চার লাখ’ ৬০ হাজার তিনশ’ ৪৩ এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ছয়শ’ ৮০ জন। টিকা নেয়ার অপেক্ষায় আছেন চার লাখ ৩৫ হাজার তিনশ’ ৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় টিকা নিয়েছেন নয় হাজার সাতশ’ ৯৫ জন।
করোনার টিকা নিতে দিন দিন মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। জীবন রক্ষায় সবাই ছুটছেন টিকা কেন্দ্রে। শুরুর দিকে টিকাকেন্দ্রে ভিড় কম ছিল। মানুষের উপস্থিতি, ভিড় ও শারীরিক দূরত্ব মানাতে টিকা কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সোমবার টিকাদান কেন্দ্রের সামনে নারী ও পুরুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
এদিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে টিকা নেয়ার জন্যে নারী ও পুরুষের দীর্ঘ লাইন। আগত লোকজনকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। টিকা নিতে আসা সাইমুন আহমেদ জানান, গত দু’মাস আগে তিনি টিকার জন্যে নিবন্ধন করেছেন। রোববার তিনি এসএমএস পেয়েছেন। এ কারণে টিকা নিতে যান। সকাল ১০ টা থেকে বেলা সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও টিকা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মানুষের মুখে মাস্ক ছিল না।
গুলশান আরা বেগম নামে একজন টিকা গ্রহীতা জানান, তিনি আগেভাগে টিকা নিয়ে বাড়ির কাজ করবেন বলে সকাল আটটায় আসেন। কিন্তু এতো ভিড় দু’ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও টিকা নিতে পারেননি। প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে এ লাইন। টিকা কেন্দ্রে কোনো মহিলা স্বেচ্ছাসেবক নেই। এ কারণে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নারীদের। গত দু’দিন আগে টিকা নিতে এসে তার এক স্বজন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন খুঁইয়েছেন বলে অভিযোগ করেন গুলশান আরা বেগম।
ফারুক হোসেন নামে একজন টিকা গ্রহীতা জানান, টিকা নিতে আসার মেসেজ পাওয়ার পর টিকা নিতে গিয়ে দেখি মেসেজ ছাড়াও অসংখ্য মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। আর এতে স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে লম্বা লাইনে ঘন্টাখানেকের বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, ভিড়ে ধাক্কা খেতে হয়েছে। সবমিলিয়ে খুবই উদ্বেগজনক অবস্থা।
অখিল কান্তি মন্ডল নামে একজন বৃদ্ধা টিকা গ্রহীতা জানান, সরকার থেকে বলা হয়েছে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের জন্য কোনো লাইন দরকার নেই। কেন্দ্রে গেলেই টিকা দেয়া হবে। কিন্তু তিনি টিকা কেন্দ্রে গেলে সামনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কেউ তাকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। খোলা আকাশের নিচে দু’ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ছাউনি দিলে সকলে উপকৃত হতো।
সোমবার যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নয় হাজার সাতশ’ ৯৫ জন টিকা নিয়েছেন। যার মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন সাত হাজার সাতশ’ ৯৫ জন ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন দু’ হাজার একশ’  জন।
এদিনে সদর উপজেলায় প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন চার হাজার একশ’ ১৭ জন ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন পাঁচশ’ ১৮ জন। অভয়নগরে প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন চারশ’ ২৬ জন ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৪০ জন। বাঘারপাড়ায় প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন চারশ’ ৪৩ জন ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ১২ জন। চৌগাছায় প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন দুশ’ ৬২ ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন দুইশ’ ৪৮ জন। ঝিকরগাছায় প্রথম ডোজের একশ’ ৬০ ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন সাতশ’ ৬০ জন। কেশবপুরে প্রথম ডোজের এক হাজার একশ’ ৮৭ ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৮৩ জন। মণিরামপুরে প্রথম ডোজের চারশ’ ৩০ ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন চারশ’ ছয়জন এবং শার্শায় প্রথম ডোজের সাতশ’ ৭১ জন ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৩৪ জন।  
সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন আরও জানান, যশোরে সকলে টিকা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন টিকা গ্রহীতাদের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। যারা নিবন্ধন করেছেন সকলেই টিকা পাবেন। টিকাদান কেন্দ্রে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মানতে হবে। বর্তমান হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রে ছয়টি বুথে টিকা দেয়া হচ্ছে। তারমধ্যে চারটি সকলের জন্যে, একটি ভিআইপি ও একটি গর্ভবতী মায়েদের জন্যে। এ সকল টিকা কেন্দ্রের ভিতরে সেবিকাদের সাথে ১৭ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।
ভিড়ের রেকর্ড
সোমবার যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে টিকার জন্য কমপক্ষে এক হাজার নারী ও পুরুষ সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যা পূর্বের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। প্রথম থেকেই যশোরে উৎসব মুখর পরিবেশে টিকা দান কার্যক্রম চললেও হাসপাতালে এর আগে কখনো এতো ভিড় দেখা যায়নি।
প্রতিদিন হাসপাতালে সকাল নয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে টিকা দেয়া হয়। কিন্তু টিকাগ্রহীতারা সকাল সাতটা থেকেই টিকা কেন্দ্রের সামনে এসে ভিড় করতে থাকে। এ টিকা কার্যক্রম বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলমান ছিলো।
কোনো প্রকার অভিযোগ ছাড়ায় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিয়েছেন।
মেসেজ না পেয়েও ছুটছেন টিকা কেন্দ্রে
মহামারি করোনায় চলছে টিকা গ্রহণের লড়াই। এই অবস্থায় প্রতিদিন টিকা কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে। শুধু শহর নয়, গ্রাম এলাকার মানুষও টিকায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। মেসেজ পেতে দেরি হওয়ায় শত শত মানুষ ভিড় করছেন টিকা কেন্দ্রে। নিতে চাচ্ছেন টিকা। এ বিষয়টিকে পজিটিভ হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
সোমবার যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে একাধিক ব্যক্তি মেসেজ না পেয়ে টিকা নিতে এসে ফিরে গেছেন। সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি দু’মাস আগে টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। কিন্তু এখানো পর্যন্ত কোনো মেসেজ পাননি। তাই টিকা কেন্দ্রে এসেছিলেন মেসেজ ছাড়া টিকা নিতে। তবে, দু’ঘন্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও টিকা কেন্দ্রে যাবার সুযোগ হলেও সেখান থেকে জানানো হয়েছে, মেসেজ ছাড়া টিকার কোনো সুযোগ নেই।
সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, পর্যাপ্ত টিকা মজুদ আছে। জেলায় সকলে টিকা পাবেন। যাদের এসএমএস এখনো আসেনি তাদের অপেক্ষা করতে হবে। তারা অবশ্যই এসএমএস ও টিকা পাবেন।
টিকা কেন্দ্রে নেই নারীদের জন্য টয়লেট
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শাতাধিক মানুষ আসেন টিকার নিতে। কাঙ্খিত টিকার জন্য তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় লাইনে। কিন্তু তাদের জন্য টিকা কেন্দ্রের আশেপাশে কোনো টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। যশোর পৌরসভা থেকে হাসপাতাল চত্বরে দু’টি গণটয়লেট স্থাপন করা হয়। কিন্তু করোনা মহামাটিতে নারীদের জন্য তৈরি টয়লেটটি ভেঙে অক্সিজেন রাখার ঘর করা হয়েছে। পুরুষদের জন্য সু-ব্যবস্থা থাকলেও নারীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে।
টিকা নিতে আসা একাধিক নারী জানান, তাদের টিকা নিতে এসে দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার তাদের কোনো সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক কাজে যেতে তাদের চরম  ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মাখার উপর ছাউনি চান টিকা গ্রহীতারা
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে টিকা গ্রহীতাদের জন্য নেই কোনো ছাউনি। ঘন্টার পর ঘন্টা রোদ-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের টিকা নিতে হচ্ছে। অনেক মায়ের কোলে সন্তান নিয়ে রোদে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, অনেক বয়স্ক মানুষ অধিক সময় রোদে দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আখতারুজ্জামান জানান, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ টিকা নিতে আসছেন। তাদের রোদ ও বৃষ্টিতে কষ্ট হচ্ছে সত্যি। হাসপাতালের পক্ষথেকে এ বিষয়ে সমাজের উচ্চবিত্তদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। অতিদ্রুত বিষয়টির সমাধানে তিনি আশাবাদি।
টিকা কেন্দ্রে নেই বিশুদ্ধ খাবার পানি
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে নেই কোনো বিশুদ্ধ খাবার পানি। একাধিক শিশু ও বয়স্ক মানুষের বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য ছুটাছুটি করতে দেখা যায়।
এ বিশাল আয়তনের হাসপাতালে মাত্র একটি টিউবয়েল সচল আছে। যা হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও স্বজনদের চাহিদা মেটাতেই ব্যর্থ। এরমধ্যে যোগ হয়েছেন টিকা গ্রহীতারা।
একাধিক টিকা গ্রহীতা জানান, ঘন্টার পর ঘন্টা টিকার জন্য রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সকলের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখানে পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি তাদের জন্য কোনো ভ্রাম্যমান পানির ব্যবস্থা করতেন, তাহলে সকলে উপকৃত হতেন।   




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft