দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: চুড়ামনকাটিতে আ’লীগের প্রতিপক্ষ থাকতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী       উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে ভালোর আশায় শেষ হলো টাউনহল মাঠের গণসংগীত উৎসব       জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে চাকরির নামে প্রতারণা       খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠালে পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না       কেশবপুরে শিশু রত্না হত্যা মামলায় দাদার বিরুদ্ধে চার্জশিট       ঘের থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার       যশোরের ৩৫ ইউনিয়নে ভোট রোববার       স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক       ফরিদপুরে গ্রাম্য ডাক্তারকে মারপিট        জয়তী সোসাইটির মানববন্ধন       
৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে নতুন খয়েরতলা অংশে নকশা পরিবর্তনের দাবি
যশোর-ঝিনাইদহ রাস্তা হচ্ছে ৬ লেন
# প্রাথমিক নকশা নিয়ে কর্মকর্তারা মাঠে # চাঁচড়া অংশে হবে রেলওয়ে ওভারপাস # প্রকল্প পরিচালক ও ব্যবস্থাপক নিযুক্ত # দ্রুতই উচ্ছেদ ও জমি অধিগ্রহণ
দেওয়ান মোর্শেদ আলম/ জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Sunday, 17 October, 2021 at 9:05 PM, Update: 18.10.2021 12:32:52 AM, Count : 4085
যশোর-ঝিনাইদহ রাস্তা হচ্ছে ৬ লেনযশোরের চাঁচড়া থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত রাস্তা ছয় লেইন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সড়কের উভয় পাশে সার্ভিস লেন রাখা হবে। ৬ লেনে উন্নীত করা ৪ হাজার কোটি টাকার কর্মযজ্ঞের প্রাথমিক কার্যক্রম হিসেবে সম্ভাব্য রাস্তার নকশা নিয়ে যশোরে অবস্থান করছেন কর্মকর্তারা।
যশোরে প্রকল্পের অফিস নেয়াসহ নিযুক্ত করা হয়েছে পরিচালক ও ব্যবস্থাপকসহ একটি অভিজ্ঞ প্রকৌশলী সেট আপ। তবে প্রকল্পের প্রাথমিক নকশাটি পরিবর্তনের জোর দাবি জানিয়েছেন নতুন খয়েরতলা এলাকার মানুষ। ৫ শতাধিক মানুষের ক্ষতি বাঁচাতে পূর্ব সীমানা সমান্তরালভাবে পশ্চিমে ১৩০ ফিট সরানোর দাবি তাদের।
ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর ফেইজ ১ এর আওতায় ঝিনাইদহ যশোর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি (এন-৭) বাংলাদেশ ও বিশ^ উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়কের প্রতি কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে খরচ টার্গেট ৮৬ কোটি টাকা।
সড়ক ও জনপথ সূত্র জানিয়েছে, যশোরের চাঁচড়া থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত ছয় লেইন প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সাথে বন্দরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে বেনাপোল, ভোমড়া স্থলবন্দর ও মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ এশিয়ান হাইওয়ে, সার্ক হাইওয়ে করিডোর, বিমসটেক রোড করিডোর ও সাউথ এশিয়ান সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কোঅপারেশন (সাসেক) রোড করিডোরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই কর্মযজ্ঞটি একটি সময় উপযোগী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে। ধীরগতিসম্পন্ন যানবাহনের জন্য পৃথক লেন এবং ব্যস্ততম স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং ‘স্মার্ট হাইওয়ে’ নির্মাণের জন্য অপটিক ফাইবার ক্যাবল (ওএফসি) এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার জন্য ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমস (আইটিএস) স্থাপন করার টার্গেট রয়েছে এই উন্নয়ন প্রকল্পে।
ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডরের যশোর-ঝিনাইদহ অংশের ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ ৬ লেনে উন্নীত করার টার্গেট। এতে খরচ করার টার্গেট রয়েছে ৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ১৭ হাজার টাকা। যা প্রতি কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে খরচ দাঁড়াবে ৮৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪৯ টাকা।
এই বিশাল অর্থের জোগান আসবে সরকারের অনুদান ও বিদেশি ঋণ থেকে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৪৮২ কোটি ৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং বিশ্বব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে ২ হাজার ৭শ’৫ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা। উইকেয়ার ফেজ ১ এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) উন্নয়ন প্রকল্পটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ/সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। চলতি অক্টোবর মাসে প্রকল্পের একটি অফিস নেয়া হয়েছে যশোরের কারবালার বৃষ্টি মহলে। এছাড়া প্রকল্পে পরিচালক ও ম্যানেজার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে মাপজোক। প্রাথমিক নকশা নিয়ে কর্মকর্তাগণ যশোর এলাকায় কাজও শুরু করেছেন।
গত ১০ ও ১১ অক্টোবর প্রকল্প ব্যবস্থাপক সড়ক ও জনপথ তেঁজগাওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুল বারী যশোরে আসেন। তিনি নকশা অনুযায়ী বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া নকশা অনুযায়ী পালবাড়ি এলাকায় সম্ভাব্য বর্গাকৃতির সংযোগ টার্মিনালটি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি পালবাড়ি এলাকার লোকজনের সাথেও কথা বলেন।   
এদিকে, যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটির নতুন খয়েরতলা অংশের নকশা নিয়ে ঘোর আপত্তি তুলেছেন ওই এলাকার মানুষ। বিশেষ করে ওই এলাকার মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সভাপতি মাস্টার নূর জালাল। তিনি দীর্ঘদিন গণমানুষের যৌক্তিক অধিকার বাস্তবায়নে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। আজ তিনিই এই প্রকল্পের কারণে বিশাল ক্ষতির সম্মুখিন হতে যাচ্ছেন। শুধু তিনি নন, এই নকশা বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট ৫ শতাধিক মানুষ পথে বসবে। নকশার সামান্য পরিবর্তন চেয়েছেন তিনি।
তিনি গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, প্রকল্পের নকশায় নতুন খয়েরতলা অংশে ভাস্কর্যের মোড়ে যে স্কয়ার দেখানো হয়েছে তার পূর্ব সীমানা সমান্তরালভাবে পশ্চিমে ১৩০ ফিট সরালে পশ্চিমের সীমানা একইভবে ১৩০ ফিট সরকারি জমিতে সরে যাবে। এতে করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জমি প্রয়োজন হবে না। এছাড়া প্রজেক্টের নকশায় উত্তর-দক্ষিণ সীমানায় কোনো পরিবর্তন হবে না।  আবার ওই সীমানার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জমি স্পর্শ করবে না। বর্তমানে যে নকশা রয়েছে তাতে ২৫/৩০ জন ব্যবসায়ী ও বসবাসকারী সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন। বিশেষ করে তিনি নিজেসহ ১শ’ জন লোক কর্মহীন হয়ে পড়বেন। ওই অংশের স্থাপনায় ৫টি ব্যাংক, বড় বড় কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে। যেখানে শ’ শ’ লোক কাজ করেন, যারা বেকার হয়ে পড়বেন। যদি নকশায় পূর্ব সীমানা ১৩০ ফিট সমান্তরালভাবে পশ্চিমে সরিয়ে নেয়া হয় তবে অনেক লোক উপকৃত হবে। আবার ওই অংশটি সরকারি জমিতে পড়বে। এ কারণে সরকারের আনুমানিক শতকোটি টাকার খরচ সাশ্রয় হবে। আবার ওই অংশে পাবলিক জমি অধিগ্রহণও করতে হবে না।
পূরাতনকসবা মৌজার ৪০০৪ আর এস দাগের ১১৩ ও ১১৪ এসএ দাগের ওই জমি থেকে ১৩০ ফিট পশ্চিমে সরিয়ে নির্মাণ করার দাবি নুর জালাল মাস্টারের। তিনি জানান, সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন। নিজের টাকা খরচ করে সংগ্রাম করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর আজ তিনি নিজেই ভুক্তভোগী। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের উপর মহলের দৃষ্টি কামনা করেছেন।
প্রজেক্ট ম্যানেজার নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুল বারী গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, সরকারের নন্দিত উদ্যোগ এই ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর ফেইজ ১ এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি (এন-৭)। এর প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার, জমি অধিগ্রহণ প্রস্তুতি, উচ্ছেদ এবং বাধাহীন নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিতে পূর্ব কাজগুলো শুরু হয়েছে। সম্প্রতি যশোরে অফিস নেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে জুন ২২ সরাসরি নির্মাণে যাওয়া সম্ভব হবে।   
এদিকে, প্রজেক্ট অফিসের দায়িত্ব পালন করা সাব এসিন্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, চাঁচড়া থেকে পালবাড়িমুখি বর্তমান সড়কের পূর্ব পাশ ধরেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি বেশি আছে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের কাছ থেকে বর্তমান সড়কটি হ্যান্ডঅভার নিয়ে কাজ শুরু হবে দুই পাশ ধরেই। প্রকল্প অফিসটি গোছানোর কাজ চলছে। দু’ একের মধ্যে ফার্নিচার ও আরো জনবল চলে আসবে। প্রকল্প পরিচালক জাবিদ হাসান স্যার ও  প্রকল্প ম্যানেজার নকিবুল বারী স্যারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিশাল এই গণমুখি প্রজেক্টের কাজ এগুবে। কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে বলতে পারেন। তিনি এ ব্যাপারে মিডিয়ার বেশি বেশি প্রতিবেদন আশা করেন। একই সাথে প্রকল্পটি শেষ হলে উন্নয়ন ও সুবিধা পাবে এ অঞ্চলের মানুষ। যোগাযোগ ব্যবসা বাণিজ্যসহ সব সেক্টরকে টাচ করবে এর সুফল।
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এটি একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্প। সরকারের নীতি নির্ধারকরা এর সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। ব্যক্তি স্বার্থে নকশা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫১ দশমিক ৪ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ লাগতে পারে। ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণ (এসএমভিটি লেনসহ ৬ লেন), ৬৩ দশমিক ৪২ লাখ ঘনমিটার সড়কে মাটির কাজ, ১ হাজার ৬৪৭ দশমিক ২৯ মিটারের একটি ফ্লাইওভার, ১৯৮ দশমিক ১২ মিটারের চারটি ব্রিজ, ৫৫টি ১৯৮ দশমিক ১০ মিটারের কালভার্ট, ১২টি ৪৩৮ দশমিক ৯১২ মিটারের পথচারী ওভারব্রিজ, ১০ মিটারের একটি আন্ডারপাস এই প্রকল্পে রয়েছে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft