মতামত
শিরোনাম: উন্নয়ন ও সম্প্রীতি ধরে রাখতে নৌকায় ভোট দিন : এমপি নাবিল       ইছালীতে যুবককে কুপিয়ে জখম        যশোরে ইচ্ছেমতো দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা        মোংলাসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি, সুন্দরবনে কমেছে পর্যটক       তোয়াব খানের মৃত্যু সংবাদপত্র জগতে বটবৃক্ষের পতন : কাদের       আদালত মামুনুল, এখনো দেখাতে পারেননি কাবিননামা       যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেন পূজা চেরি       চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পেলেন ভান্তে পাঁবো       মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা সম্ভব হয়েছে : পরিকল্পনামন্ত্রী       তিনদিন বাড়লো প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকার ক্যাম্পেইন      
প্রসঙ্গ ডিভোর্স: প্রভাব পড়ছে সন্তানের উপর
নাজমুল হক :
Published : Thursday, 2 December, 2021 at 6:09 PM, Count : 1096
প্রসঙ্গ ডিভোর্স: প্রভাব পড়ছে সন্তানের উপরসংসার জীবনে সাফল্যের চালিকাশক্তি হলো স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, আস্থা ও বিশ্বাস। অনেক স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্খা নিয়ে নারী-পুরুষ সংসার সাজাতে ব্যস্ত হয়। কিন্তু জীবনের বাস্তবতায় সময়ের পরিক্রমায় সেই সংসারে বাঁজতে থাকে ভাঙ্গনের সুর। অতিরিক্ত চাহিদা, মোহ, পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধের অভাবে এক সময়ে বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে সন্তানের উপরে যুগের পর যুগ। বিবাহ বিচ্ছেদ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে শিক্ষিত উচ্চবিত্ত সমাজে; কিন্তু কেন?
সময়ের প্ররিবর্তনে মানুষের চাহিদা, আশা-আকাঙ্খা বেড়েই চলেছে। একজন শিক্ষিত পুরুষ শিক্ষিত নারী বিয়ে করবে এটাই স্বাভাবিক। একজন শিক্ষিত নারীর চাওয়া তার স্বামী যেন চাকুরিজীবী হয়। চাকুরিজীবী পুরুষের ইচ্ছা স্ত্রীও হোক চাকুরিজীবী। দুই জনের চাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিপত্তি হচ্ছে এখানেই। আমাদের সমাজে স্বাভাবিকভাবেই এখনও হয়ে আসছে স্বামী রোজগার করবে আর স্ত্রী সংসার সামলাবে। স্বামীর যেমন বাইরে হাজারো কাজ থাকে, রোজগার করার চিন্তা থাকে ঠিক স্ত্রীরও তেমনি সংসারে হাজারো কাজ থাকে। সংসারের কাজ, রান্না, সন্তান পরিজন সামলাতে হয় তাদের। আবার যদি অফিস থাকে তাহলে তো কথাই নেই। অফিসে তো নারীকে কোন কাজের জন্য তেমন ছাড় দেয়া হয় না। অর্থাৎ পুরুষের সমকক্ষ কাজ করতে হয়। আবার অনেক অফিসে তো প্রধান কর্তাই নারী। কিন্তু নারী যখন অফিসে পুরুষকে চালিত করে বা সমান কাজ করে ঠিক তখনই স্বামীর প্রতিশ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কমে যায়। বাড়িতে রান্না পর্যন্ত করতে চায় না অনেকেই। স্বামীর উপর কর্তৃত্ব ফলায়, শ্বশুর-শাশুড়িতে তুচ্ছ করে, যা অনেক পুরুষই পছন্দ করে না, শুরু হয় বিপত্তি, শেষ হয় বিচ্ছেদে।
ঢাকায়ই দিনে ৩৮টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। এ হিসাবে প্রতি ৩৮ মিনিটে একটি দাম্পত্যে দাঁড়ি পড়ছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রতি মাসে ৯৯টি বিচ্ছেদ বেড়েছে। ঢাকার দুই সিটির তথ্য বলছে, ৭৫ শতাংশ ডিভোর্সই দিচ্ছেন নারী। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে ৪ হাজার ৫৬৫টি বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে, অর্থাৎ প্রতি মাসে ১ হাজার ১৪১টি। ২০২০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪২। এই হিসাবে চলতি বছর প্রতি মাসে বেড়েছে ৯৯টি বিচ্ছেদ। গত বছরও নারীদের তরফে ডিভোর্স বেশি দেওয়া হয়েছে, ৭০ শতাংশ। করোনায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক চাপের কারণে সৃষ্ট পারিবারিক কলহ ডিভোর্স বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতের অমিল, পারস্পরিক বোঝাপড়া না হওয়াও বড় কারণ। নারীদের পক্ষ থেকে বেশি ডিভোর্স দেওয়ার পেছনে করোনাকালে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধিকেই প্রধানত দায়ী করছেন তাঁরা। বিচ্ছেদের প্রবণতা শুধু ঢাকায়ই নয়, সারা দেশেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ১৭ শতাংশ বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, পুরুষরা বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে মূলত তাঁদের প্রতি স্ত্রীর সন্দেহ প্রবণতা, সংসারের প্রতি  স্ত্রীর উদাসিনতা, বদমেজাজ, ইত্যাদি তুলে ধরেছেন। নারীরা কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন পরকীয়া প্রেম, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, মাদকাসক্তি ইত্যাদি। গত বছর দুই সিটিতে ১২ হাজার ৫১৩টি ডিভোর্সের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪৮১টি আবেদন করেছিলেন নারী, বাকি ৪ হাজার ৩২টি বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন পুরুষ।
সাংসারিক জীবনে সমস্যার সৃষ্টি হলে তা উদ্ভবের কারণ চিহ্নিত করতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বাসের ভিত গড়ে তুলতে হবে। উভয়কেই ছেড়ে দিতে হবে সন্দেহ প্রবণতা, দিতে হবে ছাড়। সমঝোতা ও সহনশীলতাকে বেছে নিতে হবে। থাকতে হবে কাঁচের মতো স্বচ্ছ চিন্তাধারা; যা বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ ও সুখময় জীবনের। ঘরে শান্তি না থাকলে মানুষতো বাইরে সুখ-শান্তি খোঁজার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই ঘরের সুখ দুই জনকেই ফিরিয়ে আনতেই হবে।
লেখক: নাজমুল হক, আহবায়ক, স্বপ্নসিঁড়ি (সাতক্ষীরা জেলার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের একটি সামাজিক সংগঠন), সাতক্ষীরা।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft