দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: ফেসবুক লাইভে পণ্য বিক্রি বন্ধের সিদ্বান্ত নিয়েছে       তেল বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ        ফজিলাতুননেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা        চায় চালাক হলিই নাই চচ্চড়ায় উন্নতি!       জ্বালানি তেল ও সারের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাসদের মানববন্ধন       যশোরে পাশবিক নির্যাতন করে স্ত্রী হত্যার মামলায় স্বামীর ফাঁসির আদেশ       বেশি দামে কেরোসিন বিক্রি করায় ভোক্তার জরিমানা       ‘আইনি প্রক্রিয়ায় র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কাজ করছি’       আশা করছি আইজিপি যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন: পররাষ্ট্র সচিব       ‘বাংলাদেশের জলবায়ু বিপজ্জনক হয়ে উঠছে’      
মেহেরপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ
কাগজ ডেস্ক :
Published : Monday, 6 December, 2021 at 11:49 AM, Count : 176
মেহেরপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজআজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর সকাল থেকেই মেহেরপুর হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়। ২ ডিসেম্বর জেলার গাংনী উপজেলা হানাদার মুক্ত হলে ভারতের শিকারপুরে অবস্থিত মুক্তিবাহিনীর অ্যাকশন ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন তৌফিক এলাহী চৌধুরী চুয়াডাংগা জেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামে এসে মুক্তি বাহিনীর ঘাটি স্থাপন করে। মিত্রবাহিনী ও মুক্তি বাহিনী সম্মিলিতভাবে ৫ ডিসেম্বর মেহেরপুরে প্রবেশ করে।
১ ডিসেম্বর মেহেরপুর মুক্ত হলেও সীমান্তে পাকবাহিনীর পুঁতে রাখা অসংখ্য মাইন অপসারণের মধ্য দিয়ে মেহেরপুর হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয় ৬ ডিসেম্বর। সেই থেকে ৬ ডিসেম্বর পালিত হয়ে আসছে মেহেরপুর মুক্ত দিবস।
মেহেরপুরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল দুপুরে প্রথম পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মেহেরপুরে প্রবেশ করে। হানাদার বাহিনীরা সড়কপথে চুয়াডাঙ্গা থেকে মেহেরপুরে আসার পথে আমঝুপিতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হত্যা করে ৮ জন গ্রামবাসীকে। পরবর্তীতে তারা মেহেরপুর প্রবেশ করে একের পর এক হামলা চালায় কাঁচাবাজার পট্রিতে, মহাকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে ও বড় বাজারের সবজি পট্রিতে।
১৮ এপ্রিল পাকবাহিনী কোনো প্রতিরোধের সম্মুখীন না হওয়ায় তারা তাদের অকুন্ঠ বিজয় ভেবে ক্যাপ্টেন মো. আব্দুল লতিবের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে লুটপাট চালায়। ২০ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সৈন্যেরা মেহেরপুরের থানা কাউন্সিলে স্থায়ী ক্যাম্প গড়ে তোলে। স্থায়ী ক্যাম্প করার কিছুদিনের মধ্যেই সৈন্যের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে মেহেরপুরের ভকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, কালাচাঁদপুর, কামদেবপুর ও সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পাকবাহিনীর ওপর মুক্তি বাহিনীর গেরিলারা বিরামহীন আক্রমণ চালাতে থাকে।
১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল রাতে মুক্তি বাহিনীর ঘাটি থাকার অজুহাত এনে যাদবপুর গ্রামকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় পাকিস্তানি নরপশুরা। পরের দিন ৩১ মে হানাদার বাহিনীর সদস্যেরা রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব দিয়ে মেহেরপুর সরকারি কলেজে একটি অভ্যর্থনা কক্ষ নামধারী বাঙালি নির্যাতন কেন্দ্র খুললেও মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধের মুখে এই পক্ষ কোনো সফলতা বয়ে আনতে পারেনি।
১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে মুক্তি বাহিনী পাক বাহিনীর ওপরে আক্রমণ চালাতে শুরু করলে অবস্থা বেগতিক দেখে তারা যুদ্ধ সরঞ্জাম গুটোতে থাকে। ওই দিনেই মুক্তি বাহিনী সকাল থেকে মেহেরপুরের পাক বাহিনীর আস্তানা লক্ষ্য করে চারদিক থেকে অবিরাম গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এতে আহতও হয় বেশ কয়েকজন। ২৮ এবং ২৯ নভেম্বর মুক্তি বাহিনীর একের পর এক হামলায় হানাদার বাহিনী মেহেরপুরে কোনঠাসা হয়ে পড়ে। পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে পাক বাহিনী ৩০ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে গোপনে পিছু হটতে থাকে। বিতাড়িত হয়ে যাওয়ার পথে হানাদার বাহিনী আমঝুপি ব্রিজ, দিনদত্ত ব্রিজের কিছু অংশ বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়ে যায়। একই রাতে পালানোর সময় মুক্তিবাহিনীর মর্টার হামলায় কুলপালা নামক স্থানে বেশ কয়েকজন পাকসেনা নিহত হয়।
১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর সকাল থেকেই মেহেরপুর হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়। ২ ডিসেম্বর গাংনী হানাদার মুক্ত হলে শিকারপুরে অবস্থিত মুক্তি বাহিনীর অ্যাকশন ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন তৌফিক এলাহী চৌধুরী হাটবোয়ালিয়ায় এসে মুক্তি বাহিনীর ঘাটি স্থাপন করে। মিত্র বাহিনী ও মুক্তি বাহিনী সম্মিলিতভাবে ৫ ডিসেম্বর মেহেরপুরে প্রবেশ করে। ১ ডিসেম্বর মেহেরপুর বিমুক্ত হলেও সীমান্তে পাক বাহিনীর পুঁতে রাখা অসংখ্য মাইন অপসারণের মধ্য দিয়ে মেহেরপুর পুরোপুরিভাবে হানাদার মুক্ত হয় ৬ ডিসেম্বর।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft