দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নজর দিতে হবে নাস্তায়        যশোরের দু’ নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিকদের স্মারকলিপি প্রদান       সাতটি বোমাসহ একজন আটক       রাজারহাটে এমপি নাবিলের পক্ষে কম্বল বিতরণ       মাকে চেতনানাশক খাইয়ে সোনা ও টাকা চুরি        বান্ধবীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কিশোরকে ছুরিকাঘাত        চট্টগ্রামকে হারাল খুলনা       প্রথম জয় সূর্য সংঘের       বিএনপি-জামায়াত দেশের উন্নয়নে ভীত : তথ্যমন্ত্রী       রোহিঙ্গাদের জন্য জাপান ২০ লাখ মার্কিন ডলার দেবে      
যশোর জেনারেল হাসপাতাল
রোগীর গোপনীয় তথ্য ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধির হাতে
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Thursday, 13 January, 2022 at 12:09 AM, Count : 340
রোগীর গোপনীয় তথ্য ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধির হাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ) কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই তাদের ওপর হামলে পড়ছেন বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি। তারা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র এক প্রকার কেড়ে নিয়ে ছবি তুলতে শুরু করেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তাদের এ অবৈধ উৎপাত চলে আসছে।
এ ঘটনায় রোগীরা যেমন বিরক্ত হচ্ছেন তেমনি তাদের রোগ সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য চলে যাচ্ছে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাতে। যা নিয়ে অনেক রোগীকে লজ্জাজনক পরিস্থিতিরও শিকার হতে হয়। বিষয়টি আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেছেন আইনজীবী কাজী ফরিদুল ইসলাম।  
যশোর জেনারেল হাসপাতালে আগত রোগীদের চাপ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ বহির্বিভাগে দুটি ইউনিট চালু করেছে। একটি হাসপাতালের মূল ভবনের সামনে ও অপরটি করোনারি কেয়ার ইউনিটের নীচতলার পশ্চিম দিকের অংশ। এ দুটি বিভাগে ডাক্তারদের মূলত সকাল ৮টা থেকে রোগী দেখা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৯টা থেকে এ কর্যক্রম শুরু করেন চিকিৎসকরা। এসময় হাসপাতালের বহির্বিভাগের দুটি ইউনিটে বিপুল সংখ্যক রোগীর ভিড় জমে যায়। সেই সাথে ভিড় জমান দেশের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির দু’ডজন প্রতিনিধি। তারা মূলত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসেন না। তারা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই চলে আসেন হাসপাতালে। এ কাজের মাধ্যমে তারা রোগীদের নাজেহাল করে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ প্রকাশ্যে হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে এ জাতীয় ঘটনা ঘটলেও কর্মকর্তা, কর্মচারী এমনকি ডাক্তাররাও তাদের বাধা দিচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে এসব রিপ্রেজেন্টেটিভের সাথে হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তারদের সুসম্পর্ক রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে তাদের কোম্পানির ওষুধ লেখার মত চুক্তিও রয়েছে। এমনকী কয়েকজন ডাক্তারের হাসপাতালের ডিউটি শেষ হলে তাদের নির্দিষ্ট চেম্বার বা ক্লিনিকে পৌঁছে দেন ওইসব প্রতিনিধি। এ জাতীয় সখ্যতার কারণে চিকিৎসকরা সবকিছু জেনেও নীরবতা পালন করেন। বিষয়টি জেনে কর্মচারীরাও তাদেরকে কিছু বলতে সাহস পান না।
হাসপাতাল চত্বরে গত একমাস যাবৎ বহির্বিভাগের সামনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গিয়ে দেখা যায়, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রতিদিন সকাল থেকে শুধুই ফটোসেশনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বহির্বিভাগের দুটি ইউনিটের সামনে ও বারান্দায় তারা দল বেধে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসময় রোগীরা ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসাপত্র নিয়ে বেরিয়ে এলেই বারান্দায় বা বহির্বিভাগের সামনে তাদেরকে ঘিরে ধরছেন এক থেকে দু’ডজন প্রতিনিধি। তারা ওই ব্যবস্থাপত্র কেড়ে নিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে থাকেন। তাদের এ উৎপাত চলতে থাকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। তাদের এ কর্মকান্ডে অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করলেও তারা থেমে থাকেন না। চালিয়ে যান একের পর এক ছবি তোলার কাজ। এসময় কোন রোগী তাদের কাছে ছবি তোলার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, এটি তাদের কোম্পানির কাজ। রোগীর কোন সমস্যা নেই। এতে রোগীর কোন কাজ না হলেও, তাদের সুবিধা হচ্ছে।
হাসপাতালে আগত বেশিরভাগ রোগী নিম্ন আয়ের ও গ্রামাঞ্চলের হওয়ায় এ অবৈধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অথচ অসুস্থ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত রোগের তথ্য জেনে নিচ্ছেন। যা নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। রোগীসহ হাসপাতালে আগতরা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকরী পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
বুধবার হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসা শহরতলীর নওয়াপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি কয়েকদিন হাড়ক্ষয় জনিত ব্যাথায় ভূগছেন। বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখিয়ে বেরিয়ে আসলেই কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাকে ঘিরে ধরেন। এরপর তার ব্যবস্থাপত্র নিয়ে একের পর এক ছবি তুলতে থাকেন। তার বোকার মত দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। ছবি তোলার ব্যাপারে তাদেরকে প্রশ্ন করা হলে, কেউ সদুত্তর দিতে না পেরে এদিক ওদিক চলে যান। তিনি বলেন, প্রতিদিনই এ জাতীয় ঘটনা ঘটছে।
বিষয়টি নিয়ে ওষুধ কোম্পানির একজন প্রতিনিধি বলেন, এ কাজের জন্য কোম্পানির যশোর জোনাল কর্মকর্তা তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলে নিদির্ষ্ট স্থানে মেইল করা বা হোয়াটসঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জারে পৌঁছে দেয়া তার দায়িত্ব। ফলে নৈতিকতা বির্বজিত হলেও এ কাজ করা ছাড়া তার কোন উপায় নেই। এটা তার পেশাগত দায়িত্ব। তবে কাজটি সঠিক হচ্ছে না বলে তিনিও মনে করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী ফরিদুল ইসলাম গ্রামের কাগজকে বলেন, এ ঘটনা ফৌজদারি কার্যবিধিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইনের ২৯০ ধারা অনুযায়ী এই ঘটনাকে জনউপদ্রব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি কারাদন্ড ও জরিমানার সম্মুখিন হতে পারেন।  
এ ব্যাপারে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক আখতারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে তিনিও জানতে পেরেছেন রিপ্রেজেনটেটিভরা হাসপাতালে আগত রোগীদের বিরক্ত করছে। এ বিষয়ে তিনি দু’একদিনের মধ্যে মিটিং করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
তিনি আরও জানান, যশোরে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সংগঠন ফারিয়া’র নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করবেন তিনি। যাতে তারা হাসপাতালে এসে রোগীদের বিরক্ত না করেন।         





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft