ওপার বাংলা
শিরোনাম: পদ্মা সেতুর উদ্বোধন থেকে ফেরা হলো না অহিদুল-মফিজুরের       স্বপ্ন হলো সত্যি       পদ্মাপাড়ের উৎসবের ঢেউ আছড়ে পড়ে যশোরেও       সাংবাদিক মিজানুরের পিতার ইন্তেকাল       জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের বাজেট বিষয়ক বিশেষ সাধারণ সভা       পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীকে যবিপ্রবি পরিবারের ধন্যবাদ       অনুর্ধ্ব-২০ ভলিবল দলে যশোরের দু’জন       ব্যাটিংয়ে অখুশি সিডন্স       বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখলেন যশোরবাসী       কালিয়ায় ট্রলিচাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু      
বৃষ্টিতে ভিজে কলকাতায় ঈদের নামাজ আদায়
কাগজ ডেস্ক
Published : Tuesday, 3 May, 2022 at 5:54 PM, Count : 239
বৃষ্টিতে ভিজে কলকাতায় ঈদের নামাজ আদায়পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শহর কলকাতার রাজপথে বিভিন্ন অস্থায়ী ঈদগাহে নামাজের জন্য জড়ো হচ্ছিলেন মুসল্লিরা। ছুটির দিন তাই সকালে যানবাহনের সংখ্যা কম। তারই মধ্যে আকাশের মুখ ভার।
পার্ক সার্কাস ময়দানের ঈদগাহে তখন হিন্দিতে মাইকে প্রচার হচ্ছে, আপনারা নিয়ম মেনে দাঁড়ান। নামাজ এখুনি শুরু হবে। বৃষ্টি আসছে। ইমাম সাহেব যদি বৃষ্টির মধ্যে নামাজ পড়াতে পারেন। আপনারাও পারবেন। তাই বৃষ্টি এলে লাইন ভঙ্গ করবেন না। যে যেভাবে আছেন সেভাবেই দাঁড়াবেন। নামাজ শুরু হতে তখনও মিনিট দুয়েক বাকি। হঠাৎ আকাশ ভেঙে ঝমঝমিয়ে নেমে এলো বৃষ্টি। সঙ্গে চলল ঝড়ো হাওয়া। কলকাতা পুলিশ থেকে পথিক, মাথা ঢাকবে বলে বিভিন্ন দিকে ছুট লাগালো। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মুসল্লিরা শুরু করলেন নামাজ। বছরে একটাই তো খুশির ঈদের নামাজ। বৃষ্টির জন্য তা থেমে থাকতে পারে?
পার্ক সার্কাস অঞ্চল থেকে সম্প্রতি বিধায়ক হয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়ো। ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। এ রকম বৃষ্টিতে অন্য সময় হলে সম্ভবত নিজের গাড়িতে গিয়ে বসতেন। কিন্তু, আজ হয়তো দৃষ্টিকটু লাগবে। মুসল্লিরা ভিজছেন, সাংবাদিকরা ভিজছেন। তিনি নেতা হয়ে কী না ভিজে থাকতে পারেন? ছাতা হাতে এগিয়ে এলেন তার দেহরক্ষী। কিন্তু এমন ঝড়-বৃষ্টি, ছাতায় ঠেকানো যাচ্ছে না বৃষ্টির পানি। ভিজলেন বাবুলও।
নামাজ শেষে বাবুল বলেন, ‘আপনারা জানেন আমি বিজেপিতে ছিলাম। তাই এই ধরনের অনুষ্ঠানে আমার আগে কোনো দিন থাকা হয়নি। মমতা দিদি আমরা ওপর ভরসা রেখেছিলেন। তাই আমি বালিগঞ্জের বিধায়ক। এখানে এসে আমার নতুন উপলব্দি হচ্ছে। বেশ ভালো লাগছে। আজ যেমন একদিকে ঈদ পালন হচ্ছে অপরদিকে হিন্দুরা পালন করছেন অক্ষয় তৃতীয়া। কলকাতার সংস্কৃতি তো এটাই। একসঙ্গে মিলেমিশে থাকা। আমরা এক হয়ে থাকব। বাংলায় সম্প্রীতি কখন ভাঙতে দেবো না। ’ তখন সবাই একসঙ্গে বলে উঠলেন ‘আমিন’।
মঙ্গলবার (৩ মে) ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে কলকাতার ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায় সকালে নামাজ পাঠের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন। শহরের নিরিখে সবচেয়ে বড় অস্থায়ী ঈদগাহ হলো কলকাতা ফোর্ট উইলিয়াম সংলগ্ন রেড রোড। এরপরই আছে কলকাতার বাংলাদেশ লাইব্রেরি সংলগ্ন পার্ক সার্কাস, নাখোদা মসজিদ সংলগ্ন জাকারিয়া স্ট্রিট এবং এসপ্ল্যান্ডে ও টালিগঞ্জে অবিস্থিত টিপু সুলতান মসজিদ। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে নাখোদা মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর টিপু সুলতান মসজিদে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে, পার্ক সার্কাস ও রেড রোড নামাজ অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায়। নামাজ শেষে সকাল ৯টা নাগাদ রেড রোডে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার চিন্তা হচ্ছিল, এত বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে আপনারা নামাজ পড়বেন সবাই। আল্লাহর কাছে বলছিলাম, এমন বৃষ্টি দিও না, যাতে ওরা নামাজ না পড়তে পারে। একমাস রোজ রেখে আমার ভাইয়েরা নামাজ পড়বেন, ওদের একটু শান্তি দিন। কিন্তু আপনাদের ইচ্ছাশক্তি এবং উদ্যম দেখে আমি অভিভূত। এমন দৃশ্য ভারতের কোথাও দেখা যায় না। এটা বাংলাতেই সম্ভব, এটাই বাংলার সংস্কৃতি। এদিন হিন্দু-মুসলিমের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘সম্প্রীতি বজায় রাখুন। আমাদের এক থাকতে হবে। বাংলার বাইরের শক্তি আমাদের সম্প্রীতি ভাঙার চেষ্টা করছে। তাদের কথায় কান দেবেন না। সবসময় এক হয়ে থাকবেন। দেখুন, সূর্যও উঠে গেল। সূর্য হাসছে। ওরা আমাদের সম্প্রীতি দেখে হিংসে করে। ওরা এই শান্তি-সম্প্রীতি দেখতে পারে না। ওদের মনোবাঞ্ছা বাংলা পূরণ হবে না। ’ তখনও সমস্বরে সবাই বলে উঠলেন আমিন।
প্রসঙ্গত, গত দুই বছর করোনার কারণে রেড রোডসহ কোনো সড়কে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে কলকাতায় করোনা কমতেই শহরের প্রতিটি রাজপথে ঈদের নামাজের অনুমতি দিয়েছে মমতা সরকার। ফলে বিগত বছরগুলোর মতন স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের উপস্থিতি ছিল কলকাতার প্রতিটি ইদগাহে। ঈদ উপলক্ষে ভারতে আজ সরকারি ছুটি। একদিকে ঈদ অন্যদিকে অক্ষয় তৃতীয়া। ফলে সম্প্রীতির কলকাতায় উৎসবের আমেজ উদযাপন করছেন শহরবাসী।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft