অর্থকড়ি
শিরোনাম: পিএইচডি ইনক্রিমেন্ট স্থগিতের প্রতিবাদ ইবি শিক্ষকদের       জুনে ১০ খালের স্লুইচ গেইট খুলে দিতে চায় সিডিএ        দৌলতদিয়ায় জেলের জালে ২০ কেজির পাঙ্গাস       বোয়ালমারীতে গ্রাম পুলিশের মধ্যে ইউনিফরম বিতরণ        আলীকদমে বিজিবির অভিযানে ৪০টি বিদেশি গরু আটক       বোয়ালমারীতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত        দীপিকার এই টি-শার্টের দাম ৮৪ লাখ টাকা       ওজন কমাতে কোন রঙের প্লেটে খাবার খাবেন?       উপাদানের দাম বাড়ায় অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জে বেকারি শিল্প       মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের রূপান্তরিত হওয়ার প্রমাণ নেই: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা      
যশোরে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ৩০ টাকা
এবার চোখ রাঙাচ্ছে পেঁয়াজ-রসুন
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Saturday, 14 May, 2022 at 9:35 PM, Count : 193
এবার চোখ রাঙাচ্ছে পেঁয়াজ-রসুনসয়াবিনের পর এবার বাজারে চোখ রাঙাচ্ছে পেঁয়াজ-রসুন। গত পাঁচ দিনে যশোরের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ থেকে ৩০ টাকা। এ কারণে বর্তমানে অস্থির বাজারদর নিয়ে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এ অস্থিরতার সাথে মানুষ পাল্লা দিয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে এ পণ্য দুটি কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।   
সূত্র জানায়, চলতি বছরের গত মার্চ মাস থেকে দেশে সয়াবিন তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। যা থেকে যশোর জেলাও বাদ পড়েনি। ঈদের আগে রমজান মাসে বাজারে সয়াবিন তেলের চরম সঙ্কট শুরু হয়। এতে ঈদের রান্না নিয়ে মানুষ পড়ে বিপাকে। অতিরিক্ত দাম দিয়ে বাজার ঘুরে তাদেরকে সয়াবিন তেল সংগ্রহ করতে হয়। সরকার ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে সেই পরিস্থিতি বর্তমানে কিঞ্চিত স্বাভাবিক হলেও মানুষকে অতিরিক্ত দামেই তেল কিনতে হচ্ছে। সরকারের বেধে দেয়া দামে বর্তমানে বাজারে খোলা ব্যারেলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, দেশে তেল নিয়ে উত্যপ্ত পরিস্থিতি কাটতে না কাটতেই এবার গরম হয়ে উঠেছে পেঁয়াজ ও রসুনের বাজার। গত পাঁচ দিনের ব্যবধানে যশোরের বাজারে এ দুটি নিত্যপণ্যের কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ৩০ টাকা। শনিবার শহরের বড়বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজিতে। এর আগে গত সপ্তাহে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজি। এ হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ টাকা। অথচ এবার দেশে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ও বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। অজ্ঞাত কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটছে বলে সাধারণ মানুষ মন্তব্য করেছে। এক্ষেত্রে তারা বাজার তদারকি ব্যবস্থাকে দায়ী করেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলেছে, গত ৯ মে থেকে সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ বর্তমানে ভারতেও পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ জন্য তারা সঙ্কট মোকাবেলায় রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর প্রভাব সাথে সাথেই দেশের বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
এছাড়া, বর্তমানে বাজারে রসুনও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে বাজারে রসুনের কেজি ৬০ টাকা থাকলেও বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। সাধারণ মানুষ বলেছে, বর্তমানে রসুনের দাম বৃদ্ধির কোন কারণ নেই। বাজারে পর্যাপ্ত রসুন রয়েছে। কী কারণে দাম বৃদ্ধি সেটাও কেউ জানাতে পারছে না। এ অস্থিরতার সাথে মানুষ পাল্লা দিয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে এ পণ্য দুটি কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।
শহরের বারান্দিপাড়ার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, যেহেতু ঈদের আগে সয়াবিন তেল নিয়ে ব্যাপক সমস্যায় ভুগেছি, এ কারণে পেঁয়াজ রসুন নিয়ে সমস্যায় পড়তে চাইনা। তাই সঙ্কট শুরু হবার আগেই একমাসের পেঁয়াজ ২ কেজি ও রসুন ১০ কেজি কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। এ কাজে বেশি খরচ ও বাজারে ঘোরার তার সময় নেই।
যশোর বড়বাজারের খুচরো বিক্রেতা গোলাম মোস্তফা বলেন, তারা আড়ৎ থেকে যে দামে পেঁয়াজ-রসুন কিনে থাকেন, তার থেকে কেজিতে দু’এক টাকা বেশি দামে বিক্রি করেন। বর্তমানে বেশি দামে পেঁয়াজ-রসুন কিনে তাদের বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে কী কারণে এ দুটি পণ্যের হঠাৎ করেই দাম বেড়েছে, সেটা আড়তদাররা জানাতে পারছেন না। শুধুই বলছেন ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ায় দেশে পেঁয়াজ রসুনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, ভারতীয় পেঁয়াজ সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় দর্শনার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। এরপর বেনাপোল ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়ে থাকে। এসব বন্দর গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত ঈদের ছুটিতে বন্ধ থাকে। ফলে পেঁয়াজ আমদানিতে কোন সমস্যা না থাকলেও ছুটির ফাঁদে পড়ে যান আমদানিকারকরা। এরপর ৭ মে একদিন ভারত থেকে পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করে। ৯ মে থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর কোন পেঁয়াজ ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করেনি। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দেশের ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধের অজুহাতে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
পেঁয়াজ আমদানিকারক শাহরিয়ার আলম বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য তাদের যে ইমপোর্ট পারমিট নেয়া ছিল, সেগুলোর মেয়াদ ছিল ৫ মে পর্যন্ত। এরপর তাদের পেঁয়াজ আমদানির ইচ্ছা থাকলেও সেটি সম্ভব হয়নি। ৯ মে থেকে গোটা প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, বিষয়টি তারা অবগত রয়েছেন। ইতিমধ্যে তারা খোঁজ খবর নিয়েছেন। তারা দ্রুতই অভিযানে নামবেন ও পেঁয়াজ রসুনের আড়তদারসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন জানান।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft