দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: পিএইচডি ইনক্রিমেন্ট স্থগিতের প্রতিবাদ ইবি শিক্ষকদের       জুনে ১০ খালের স্লুইচ গেইট খুলে দিতে চায় সিডিএ        দৌলতদিয়ায় জেলের জালে ২০ কেজির পাঙ্গাস       বোয়ালমারীতে গ্রাম পুলিশের মধ্যে ইউনিফরম বিতরণ        আলীকদমে বিজিবির অভিযানে ৪০টি বিদেশি গরু আটক       বোয়ালমারীতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত        দীপিকার এই টি-শার্টের দাম ৮৪ লাখ টাকা       ওজন কমাতে কোন রঙের প্লেটে খাবার খাবেন?       উপাদানের দাম বাড়ায় অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জে বেকারি শিল্প       মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের রূপান্তরিত হওয়ার প্রমাণ নেই: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা      
সাবেক উপপরিচালক সকিনার ভাগ্য নির্ধারন আজ
আসবাবপত্র কেনার ১০ লাখ টাকা আত্মসাত ঘটনা তদন্ত
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Sunday, 15 May, 2022 at 12:48 AM, Count : 187
আসবাবপত্র কেনার ১০ লাখ টাকা আত্মসাত ঘটনা তদন্তযশোর সরকারি মহিলা কর্মজীবী হোস্টেলের আসবাবপত্র কেনার ১৭ লাখের ১০ লাখই পকেটস্থ করার অভিযোগ্ েসাবেক উপ পরিচালক সকিনা খাতুরের বিরুদ্ধে আজ থেকে তদন্ত শুরু হচেছ। যশোর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক সকিনা খাতুনকে নিয়ে তুমুল হৈচৈয়ের পর এবার শক্তিশালী তদন্ত টিম যশোরে এসেছে। সস্তা কাঠের ৩ হাজার টাকার সিঙ্গেল খাটের দাম ১২ হাজার ৮শ টাকা ও নন ব্রান্ডের স্থানীয় ফিটিং একটি টিভির দাম এক লাখ টাকা ধরে ( লাগানোর দুই সপ্তাহ পরে নষ্ট) ভুয়া ভাউচার করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। আজ মহিলা অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয় ও  মহিলা হোস্টেলে অবস্থান নিয়ে তদন্ত করবেন  অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ডক্টর শেখ মুসলিমা মুন।
আসবাপত্রহীন স্যাঁতসেঁতে পান্তাপড়া যশোর কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে আসবাবপত্র কেনার জন্য ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ১৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়  মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে যশোর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যালয়ে। কিন্তু নামমাত্র কেনাকাটা করে পুরো টাকাটাই তসরুপ করারর অভিযোগ ওঠে সকিনা খাতুনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। লেখালেখিও হয়।  
কেনাকাটার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তথ্য মেলে এই বরাদ্দের টাকায় যশোর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সখিনা খাতুন ২০টি সিঙ্গেল তোষকের ক্রয় মূল্য দেখান ৬৬ হাজার টাকা। যার প্রতিটি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার ৩০০ টাকা। যা যশোরের স্থানীয় বাজার মূল্যে প্রতিটি ৬শ থেকে সাড়ে ৭শ টাকা। অথচ সকিনা খাতুন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেই এ দাম নির্ধারণ করেন। সিঙ্গেল চৌকি খাট ২৬টি, ২৬ টির ক্রয় মূল্য দেখান ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতিটি চৌকি খাটের  মূল্য দেখান ১২ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতিটি খাটের স্থানীয় বাজার মূল্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। দুটি ছোট স্টিল আলমারি ক্রয়ের মূল্য দেখান ৪৭ হাজার টাকা। প্রতিটির দাম নির্ধারণ করা হয় ২৩ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ স্থানীয় বাজারে এ আলমারির দাম ৯ হাজার টাকা। একটি ছোট স্টীল ফাইল কেবিনেট দাম দেখানো হয় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। এ ধরনের স্টিল ফাইল ক্যাবিনেটের যশোরের বাজার মূল্য ৮ হাজার টাকা।
১৭ হাজার টাকা মূল্য দেখান ড্রেসিং টেবিলের। ১২ টি ড্রেসিং টেবিলের ক্রয় মূল্য দেখানো হয় ২ লাখ ৪ হাজার টাকা। যার প্রতিটি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৭ হাজার টাকা। বাজারে এ ধরনের ড্রেসিং টেবিলের দাম সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। দুটি ডাইনিং টেবিলের ক্রয় মূল্য দেখানো হয় ৫০ হাজার টাকা। প্রতিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৫ হাজার টাকা করে। স্থানীয় বাজারে এধরনের ডাইনিং টেবিলের দাম ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। হাতলযুক্ত সাধারণ সোফা সেট একটি ৩৫ হাজার পাঁচশ টাকা মূল্য দেখানো হয়। যার প্রকৃত বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ৬৪টি পণ্যের মূল্য দেখানো হয় ৭ লাখ ৭০ হাজার ২৫০ টাকা। ৭ শতাংশ ভ্যাটসহ দাম দেখানো হয় ৮ লাখ ২৪ হাজার ১৬৭ টাকা। একটি ৫৬ সেফটি ডীপ ফ্রিজের মূল্য দেখানো হয় এক লক্ষ টাকা, প্রকৃতপক্ষে এটির বাজার মূল্য ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। একটি ফটোগ্রফি মেশিন দাম দেখানো হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এটির প্রকৃত বাজার মূল্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা, একটি চায়না ব্রান্ডের ৫৬ ইঞ্চি টেলিভিশন দাম দেখানো এক লাখ টাকা (নন-ব্রান্ড), এটির প্রকৃত বাজার মূল্য ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। একটি ডেক্সটপ কম্পিউটারের মূল্য দেখানো হয় ৮০ হাজার টাকা, যার প্রকৃত বাজার মূল্য ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা। একটি প্রিন্টার দাম দেখানো হয় ২৫ হাজার টাকা, যার বাজারমূল্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। একটি স্ক্যানার মেশিন মূল্য দেখানো হয় ১০ হাজার টাকা, তবে অফিসে কোন স্ক্যানার মেশিন পাওয়া যায়নি। একটা ফ্যাক্স মেশিন মূল্য দেখানো হয় ১৫ হাজার টাকা। অফিসে গিয়ে কোন ফ্যাক্স মেশিন পাওয়া যায়নি। সাতটি পণ্যের মোট দাম দেখানো হয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া বাকি অবশিষ্ট ৪ লাখ ৭১ হাজার ৮৩৩ টাকায় ক্রয় দেখানো হয়েছে ১২ টি স্টিলের আলনা, একটি কম্পিউটার টেবিল, একটি চেয়ার, হাতলযুক্ত দশটি গদিওয়ালা চেয়ার, দুটি জুনিয়র এক্সিকিউটিভ টেবিল, একটি এক্সিকিউটিভ টেবিল, একটি মিটসেফ, হাতলযুক্ত কাঠের চেয়ার তিনটি, রিডিং টেবিল ৩৬ টি, সাধারণ চেয়ার ২৬ টি।
ওই কেনাকাটায় যশোর কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের দায়িত্বে থাকা নাসরিন আক্তার মালাকে কেনা কাটার  সময় না রেখে নিজেই কেনাকাটা করে ১৭ লাখের মধ্যে ১০ লাখই পকেটস্থ করেন বলে তথ্য মেলে। নামসর্বস্ব মালামাল ক্রয় করে হোস্টেলে সরবরাহ করেন। আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য একটি কমিটি থাকলেও কমিটির কারো কোন মূল্যায়ন না করে তিনি নিজের ইচ্ছামত নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের প্যাডে বিল ভাউচার করে মালামালগুলো সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এবসব বিষয়ে অধিদপ্তর অভিযোগ  পেয়ে তদন্ত টিম গঠন করে। টিমের প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক ডক্টর  শেখ মুসলিমা মুন আজ যশোরে আসছেন। তিনি প্রথমে জেলা অফিসে ও পরে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে যাবেন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft