দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: পদ্মা সেতুর উদ্বোধন থেকে ফেরা হলো না অহিদুল-মফিজুরের       স্বপ্ন হলো সত্যি       পদ্মাপাড়ের উৎসবের ঢেউ আছড়ে পড়ে যশোরেও       সাংবাদিক মিজানুরের পিতার ইন্তেকাল       জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের বাজেট বিষয়ক বিশেষ সাধারণ সভা       পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীকে যবিপ্রবি পরিবারের ধন্যবাদ       অনুর্ধ্ব-২০ ভলিবল দলে যশোরের দু’জন       ব্যাটিংয়ে অখুশি সিডন্স       বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখলেন যশোরবাসী       কালিয়ায় ট্রলিচাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু      
সাবেক ডিডি সকিনার বিরুদ্ধে আজ নয়া তদন্ত
মহিলা অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টার বিক্রি, কিশোরীদের টাকা আত্মসাৎ
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Thursday, 19 May, 2022 at 12:43 AM, Count : 174
মহিলা অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টার বিক্রি, কিশোরীদের টাকা আত্মসাৎ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের সাবেক বহুলালোচিত উপ পরিচালক সকিনা খাতুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে করা একটি অভিযোগ তদন্ত শুরু হচ্ছে আজ থেকে। অভিযোগের মধ্যে মহিলা অধিদপ্তরের ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার একটি সিটিজেন চার্টার চুরি করে বিক্রি, কিশোর কিশোরীদের জন্য বরাদ্দ মনিহারি সামগ্রীর টাকা আত্মাসাৎ ও অবসরে যাওয়ার সময় মাথাপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে নিয়ে ৩ দিনে ১০টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের রেজিস্ট্রিশন দেয়া। এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের কিশোর কিশোরী ক্লাব প্রকল্পের সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ তদন্ত করতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব্ দেয়া হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১০ টায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের কারবালা কার্যালয়ে এই তদন্ত কার্যক্রম চালানো হবে।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, তৃণমূলে দরিদ্র পরিবারের কিশোর কিশোরীদের জেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। সংগীত আবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে গড়ে তুলে আত্মনির্ভরশীল ও দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়। এর অংশ হিসেবে যশোরের ৮ উপজেলায় ১০১টি ক্লাব স্থাপন করা হয় প্রকল্পের আওতায়। এর মধ্যে যশোর সদরে ১৫টি ইউনিয়নে ১টি এবং পৌরসভায় ১টি ক্লাব স্থাপন করা হয়। করোনা সংকটে ক্লাব কখনও খোলা, কখনও বন্ধ রাখা হচ্ছিলো। ওই সময় মনোহারি মালামাল ক্রয়ে ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু সকিনা খাতুন মাত্র ১০ হাজার টাকার ডাস্টার খাতা কলম কিনে বাকি টাকা পকেটস্থ করেন। আবার ক্রীড়া সামগ্রী (দুটি লুডু, ১টি দাবা ও ১টি ক্যারামবোর্ড) কেনার জন্য ক্লাবপ্রতি ৩ হাজার ১শ’৬০ টাকা বরাদ্দ হলেও তিনি কোনো ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয় না করেই ১৬টি ক্লাবের বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার ৫শ’৬০ টাকা তিনি পকেটে ভরেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ক্লাব দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা ১৬ মেম্বারের ১০ মাসের সম্মানী ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা তিনি পরিশোধ নিয়েও নয় ছয় করেন।
এখানেই শেষ নয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মূল্যের স্টিল স্ট্র্যান্ড সিটিজেন চার্টার প্রদান করা হলেও সেটি এখন আর শোভা পাচ্ছে না মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের কোথায়ও। সাবেক উপ-পরিচালক সকিনা খাতুনের কথা মত তার স্বামী মনোয়ার হোসেন সেটি বিক্রি করে দিয়ে অর্থআত্মসাৎ করেন বলে জোর অভিযোগ ওঠে। সিটিজেন চার্টারটি লোকজন দিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন অফিস সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। আর বিক্রি করে দেয়ার তথ্যও নিশ্চিত করেছেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের একাধিক সূত্র।
ক্রীড়া সামগ্রীর টাকাসহ মোটা অংকের টাকা পকেটস্থ করে যশোর জেলা অফিস থেকে গত ৬ জুন অবসর উত্তর ছুটিতে যান সাবেক উপপরিচালক সকিনা খাতুন। ওই সময় এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করে ব্যর্থ হয়ে ওই কিশোর ক্লাব প্রকল্পের সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন সকিনা খাতুনের বিরুদ্ধে।
তিনি অভিযোগে বলেন, মনোহারি মালামাল কেনায় ৫০ হাজার ৫শ’৬০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সকিনা খাতুন মাত্র ১০ হাজার টাকার মাল কিনে বকেয়া ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি অবসরে যাওয়ার প্রাক্কালেও ওই টাকা বর্তমান অফিস প্রধান কিংবা সংশ্লিষ্টদের কাছে দিয়ে যাননি। অর্থ বছর শেষ হয়ে গেলে ওই টাকা হযম করে ফেলা সহজ হবে এই অভিপ্রায়ে তিনি অফিসের স্বাগতিকদের টাকা দিয়ে যাওয়ার দাবিকে কর্ণপাত করেননি। মেম্বার সম্মানি এক লাখ ৬০ হাজার টাকাও তিনি দেননি বলে দুদকে দেয়া অভিযোগে বলা হয়। অবসরে যাওয়ার মাসে ১ থেকে ৩ জুন মাত্র তিন দিনে ১০টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন দিয়ে যান। ভুয়া সিল স্বাক্ষর দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই নিবন্ধন দিয়ে  মাথা প্রতি ৩০ হাজার টাকা নেয়া হয় বলে দুদকে দেয়া অভিযোগে বলা হয়। এই প্রেক্ষিতে আজ নয়া তদন্ত হচ্ছে।
মহিলা অধিদপ্তরের বর্তমান উপ পরিচালক আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, ডিডি ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম আজ যশোর জেলা কার্যালয়ে আসবেন। অভিযুক্ত সকিনা খাতুন ও বাদী আলমগীর হোসেনসহ অফিস সংশ্লিষ্ট ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আজ ডাক হয়েছে।  এর আগে ১৫ মে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত্ হয়েছে, আর দুদকে দেয়া অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে আজ।   
এ ব্যাপারে কিশোর ক্লাব প্রকল্পের সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, তিনি ফিল্ড ভিজিট গিয়ে হতবাক হয়েছিলেন। ক্লাবে গিয়ে দেখেন কোনো ক্লাবেই ক্রিড়া সামগ্রী কেনা হয়নি। ওই বরাদ্দের অর্ধ লাখ টাকাও রয়েছে তার কাছে। এছাড়া মেম্বারদের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়নি এমন তথ্য রয়েছে তার কাছে। আর ৪৮ হাজার টাকার যে মনোহরি সরবরাহ করা হয়েছে তার বাজার দর ৮ হাজার টাকার মত। আরো নানা অভিযোগ রয়েছে সকিনা খাতুনের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেন যথাযথ তদন্ত হলে সব প্রমাণিত হবে। কঠিন শাস্তির আওতায় আসবেন সাবেক ডিডি সকিনা খাতুন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft