সারাদেশ
শিরোনাম: পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৩ কিলোমিটার যানজট       পদ্মা সেতুর উদ্বোধন থেকে ফেরা হলো না অহিদুল-মফিজুরের       স্বপ্ন হলো সত্যি       পদ্মাপাড়ের উৎসবের ঢেউ আছড়ে পড়ে যশোরেও       সাংবাদিক মিজানুরের পিতার ইন্তেকাল       জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের বাজেট বিষয়ক বিশেষ সাধারণ সভা       পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীকে যবিপ্রবি পরিবারের ধন্যবাদ       অনুর্ধ্ব-২০ ভলিবল দলে যশোরের দু’জন       ব্যাটিংয়ে অখুশি সিডন্স       বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখলেন যশোরবাসী      
নওগাঁয় এ বছর দেড় হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা
নওগাঁ প্রতিনিধি
Published : Thursday, 19 May, 2022 at 3:22 PM, Count : 65
নওগাঁয় এ বছর দেড় হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্যের সম্ভাবনানওগাঁয় এ বছর মৌসুমী ফল আমের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা বেড়েছে। ভালো ফলন ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলগুলোতে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোতে রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ীরা। শেষ সময়ে এসে গাছ পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আম চাষিরা।
গেলও বছর জেলায় ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হলেও এ বছর ৩ হাজার ৬২৫ হেক্টর বেড়ে ২৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। ২০২১ সালে যার উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৫ টন হলেও ২০২২ এ এসে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ টন আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি বিভাগ। আর গেলও বছর জেলায় ১২শ কোটি টাকার আমের ব্যবসা হলেও এ বছর তার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫শ কোটি টাকাতে।
ধান উৎপাদনের পাশাপাশি আম উৎপাদনে বেশি মনোযোগী হচ্ছেন নওগাঁর চাষিরা। জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর, বদলগাছি এবং পত্নীতলা উপজেলায় এ বছর বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন করছেন চাষিরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ১৬ জাতের আম উৎপাদন করছেন চাষিরা।
এদের মধ্যে নওগাঁ সদরে ৪৪৫ হেক্টর, রানীনগরে ১১০ হেক্টর, আত্রাই- ১২০ হেক্টর, বদলগাছি- ৫২৫ হেক্টর, মহাদেবপুর- ৬৮০ হেক্টর, পত্নীতলা- ৪৮৬৫ হেক্টর, ধামুরহাট- ৬৭৫ হেক্টর, সাপাহার- ১০০০০ হেক্টর, পোরশা- ১০৫২০ হেক্টর, মান্দা- ৪০০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে- ১১৩৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদন করছেন চাষিরা। ফলন ভালো হওয়ায় চাষিরা দামও ভালো পাবেন বলে আশা করছে জেলা কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামসুল ওয়াদুদ জানান- আম চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। তাই নওগাঁর কৃষকরা ধানের পাশাপাশি আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের লাল মাটি আম চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় চাষিরা এর পেছনে ঝুকছেন বেশি। তিনি জানান, আগামী ২৫ মে থেকে গুটি আম বা স্থানীয় জাতের আম পাড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বছরের আম সংরক্ষণের কাজ। এ মধ্যে ১০ -১৫ দিন পর পর বিভিন্ন জাতের আম পাড়া হবে। যা ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা-বারী-৪ এবং গৌড়মতি আম পাড়ার মধ্যদিয়ে শেষ হবে এ বছরের আম সংরক্ষণ যা অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় চলমান থাকবে।
এদিকে সাপাহারের আম চাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর গাছে আমের ফলন ভালো হয়েছে। গেলও বছর যে আম ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা মণ তারা বিক্রি করেছেন এ বছর তা ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। সাপাহার বরেন্দ্র এগ্রোর আম চাষি সোহেল রানা এ বছর ৭০ বিঘা জমিতে আমের চাষ করছেন তিনি। আমরুপালী, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো, কাটিমন, ল্যাংড়া, হিমসাগর,ফজলি, মিয়াজিকিসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ১০০ জাতের আম চাষ করছেন তিনি।গত বছর দেশে বিদেশে আম রপ্তানি করে বেশ লাভবান হয়েছেন তিনি।
তিনি জানান- গতবছর তার এই বাগান থেকে ৮ টন আম রপ্তানি করেছেন তিনি। ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচের দেশ কাতারে তিনি এই রপ্তানি করেছিলেন। এবছর জার্মানি, ফিনল্যান্ড, দুবাইসহ বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। এ বছর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আধুনিক ফ্রুট ব্যগিং পদ্ধতিতে আম উৎপাদন করায় এ বছর প্রায় ৫০ টন আম রপ্তানি করতে পারবেন বলেন জানান এই আম চাষি।
এদিকে, আম বাগানে কাজ করা শ্রমিকদের বাড়িত উপার্জনে উন্নত হয়েছে তাদের জীবনযাত্রা। পড়াশুনার পাশাপাশি পরিবারকে সহযোগিতা করতে পেরে বেশি খুশি তাঁরা। এ ছাড়া আম গাছ পরিচর্যা এবং এর পদ্ধতি সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তারা নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানান। এ ছাড়া বাগানে আম দেখতে আশা মানুষেরা বিভিন্ন জাতের আমের বাগান দেখে নিজেকে আম ব্যবসায় স্বাবলম্বী করার প্রত্যয় নিয়ে ফিরছেন।
আম আড়তদাররা জানান, গত বছর ব্যবসায় তার লাভবান হয়েছেন। তাই এ বছর ব্যবসার সকল প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া ২৫ মে আম সংরক্ষণ শুরুর তারিখ দেওয়ায় এখন থেকেই তারা ব্যবসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যান্য মোকামে আম কম হওয়ায় এবার বেশি লাভের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তিনি জানান ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আম সংরক্ষণের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উৎপাদিত আম সুষ্ঠুভাবে বিপননের লক্ষে প্রশাসন কাজ করে যাবে সব সময়। আম ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিগত সময়ে যেমন যানযট সৃষ্টি হত এবার তা অপেক্ষাকৃত কম হয় তার জন্য জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
ঝড় বৃষ্টি ও শুস্ক আবহাওয়া উপেক্ষা করে চাষিদের স্বপ্ন দুলছে এখন আম গাছের ডালে ডালে। এ বছর নওগাঁর আম চাষিরা এবং ব্যবসায়ীরা দেশের পাশাপাশি বিদেশেও আম রপ্তানিতে এগিয়ে থাকবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft