দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: পদ্মা সেতুর উদ্বোধন থেকে ফেরা হলো না অহিদুল-মফিজুরের       স্বপ্ন হলো সত্যি       পদ্মাপাড়ের উৎসবের ঢেউ আছড়ে পড়ে যশোরেও       সাংবাদিক মিজানুরের পিতার ইন্তেকাল       জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের বাজেট বিষয়ক বিশেষ সাধারণ সভা       পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীকে যবিপ্রবি পরিবারের ধন্যবাদ       অনুর্ধ্ব-২০ ভলিবল দলে যশোরের দু’জন       ব্যাটিংয়ে অখুশি সিডন্স       বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখলেন যশোরবাসী       কালিয়ায় ট্রলিচাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু      
ওএমএসের আটা বিক্রি বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্নবিত্তরা
প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে ২২ টাকা
এম. আইউব
Published : Tuesday, 24 May, 2022 at 1:22 AM, Count : 309
প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে ২২ টাকাওএমএসের মাধ্যমে খোলাবাজারে আটা বিক্রি বন্ধ করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্নবিত্ত মানুষ। তাদেরকে প্রতি কেজি আটায় ২২ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ফলে, অন্যান্য পণ্যের সাথে আটার কারণে ব্যয় বেড়েছে। যা মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।
যশোরে ১৪ জন ওএমএস ডিলার রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে সপ্তাহের ছয়দিন ১১ মেট্রিকটন আটা বিক্রি করা হতো। সরকার ওএমএসের আটার দাম নির্ধারণ করে ১৮ টাকা কেজি। বাজারে চাল ও আটার দাম বেশি থাকায় শ’শ’ মানুষ ওএমএসের দোকানে ভিড় করতো। একজন প্রতিদিন পাঁচ কেজি করে আটা নিতে পারতেন। এই পরিমাণ আটা নিতে তাকে খরচ হতো মাত্র ৯০ টাকা। যেসব পরিবারে ডায়াবেটিক রোগী রয়েছে মূলত ওইসব পরিবারের লোকজন আটা কিনতে দৌড়ঝাঁপ করেন। ভোরবেলা থেকে প্রতিটি ওএমএস দোকানে মানুষ আটা নেয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা সংগ্রহ করতেন আটা।
কিন্তু হঠাৎ করে গত ১৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ওএমএসের আটা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। এ কারণে হা-হুতাশ করছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ। বিশেষ করে যাদের রুটি খাওয়া জরুরি তারাই বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে বাজারে আটার দাম অনেক বেশি। খোলা আটা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একজন মানুষ ৯০ টাকায় যে পাঁচ কেজি আটা কিনতেন সেই একই পরিমাণ আটা কিনতে এখন ২শ’ টাকা লাগছে।
যারা প্রতিদিন ওএমএস থেকে পাঁচ কেজি করে আটা কিনতেন তাদের মাসে খরচ হতো ২ হাজার ১শ’ ৬০ টাকা। এখন বাইরের দোকান থেকে কিনতে খরচ হচ্ছে ৪ হাজার ৮শ’ টাকা। অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে ২ হাজার ৬শ’ ৪০ টাকা।
যশোরে প্রতিদিন ১১ মেট্রিকটন আটা বিক্রি হতো ওএমএসের মাধ্যমে। সেই হিসেবে ২৪ দিনে বিক্রি হতো ২শ’ ৬৪ মেট্রিকটন অর্থাৎ ২ লাখ ৬৪ হাজার কেজি। প্রত্যেকে পাঁচ কেজি করে কিনতে পারলে জেলায় ৫২ হাজার ৮শ’ মানুষ স্বল্পমূল্যের এই সুবিধা পেতেন। সেই সুবিধা আপাতত আর পাচ্ছেন না। ফলে, অর্ধলক্ষাধিক নিম্ন আয়ের মানুষ অর্থনৈতিক চাপে পড়েছেন। যে কারণে তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
আব্দুস সাত্তার নামে একব্যক্তি শহরতলির ধর্মতলার একটি ওএমএস দোকান থেকে পাঁচ কেজি করে আটা নিয়ে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ভাগ করে দিতেন। তিনি বলেন, ‘আগে ১৮ টাকা কেজি আটা কিনতাম। প্রতিদিন ৯০ টাকা করে লাগতো। বর্তমানে সেই আটা কিনতে লাগছে ২শ’ টাকা। জন খেটে এই পরিমাণ আটা কেনা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ পরিবারে তিনজন ডায়াবেটিকের রোগী।’
একই কথা বলেন আখিরননেছা নামে এক বৃদ্ধা। তিনি বলেন, ‘মেয়ের সংসারে থাকি। জামাই নেই। মেয়ে পরের বাড়ি কাজ করে সংসার চালায়। এ কারণে প্রতিদিন পাঁচ কেজি করে আটা কিনতাম ৯০ টাকা দিয়ে। এখন আর আটা বিক্রি হচ্ছে না। এ কারণে দোকান থেকে বেশি দামে আটা কিনতে না পেরে ৩০ টাকা করে চাল কিনছি।’
আব্দুস সাত্তার ও আখিরননেছার মতো যশোরের হাজার হাজার নিম্ন আয়ের মানুষ বর্তমানে হতাশায় ভুগছেন। তারা ওএমএস চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, খাদ্যবিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গমের মজুত তলানিতে যাওয়ায় ওএমএসের আটা বিক্রি বন্ধ করেছে অধিদপ্তর।
যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু বলেন, ১৬ মে থেকে ওএমএসে আটা বিক্রি বন্ধ করেছে অধিদপ্তর। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ থাকবে।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft