মতামত
শিরোনাম: আট বছর পর জট খুললো ভোটের        নতুন দাম কার্যকর হতে সময় লাগবে!       আগামীর সম্ভাবনা ফুটিয়ে তুললো কন্যা শিশুরা       যশোরে গ্যাসের দোকানে ভোক্তার তদারকি       অস্ত্রসহ আটক অনিক রিমান্ডে       কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, দু’জনের যাবজ্জীবন       রূপসায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ মাহাতাবের মরদেহ উদ্ধার        ভবিষ্যতে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে: খাদ্যমন্ত্রী       জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে মধুখালীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা       কারাভোগ শেষে স্বদেশের পথে ১৩৫ ভারতীয় জেলে      
‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ শ্রীলংকা নয় নাউরু হতো’
কাজী বর্ণ উত্তম
Published : Monday, 5 September, 2022 at 12:38 AM, Count : 544

‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ শ্রীলংকা নয় নাউরু হতো’দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে যে কোন দল তাঁর জনপ্রিয়তা কিছুটা ভাটার দিকে যায় তা সে যত ভালো কাজই করুক। তার মধ্যে বৈশ্বয়িক কারনে সরকার অজনপ্রিয়তা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে দেশের মানুষের মাথায় হাত। একে করোনার ধাক্কা কাটতে না কাটতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারনে মোটামুটি সকল জিনিসের দাম উর্দ্ধোগতি।
আমার এক বন্ধু যশোরের নামকরা সাংবাদিক স্থানীয় জনপ্রিয় পত্রিকায় আছে আগষ্ট মাসে বললো লেখা দিতে। আমি বললাম লেখা আসছে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এত সংকট হৃদয়টা এত ব্যথিত এখন লিখবো না। ১৫ই আগষ্ট'২২ আমার স্নেহ ভাজন এক যুবলীগ কর্মির আক্ষেপ- এটা কি হল ভাই?  আপনি বাজারের খবর রাখেন, সাধারন মানুষের কি বেহাল দশা। আমি তাকে বোঝাতে চেষ্টা করতে কিছুক্ষন শোনার পর বললো ভাই এতো কথা মানুষ শুনবেও না বুঝবেও না। আমি তাকে একটু ধমকের সুরে আরও কিছু ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলাম। বুঝলাম আমার কথা বোঝার মত ধৈয্য এ মুহূর্তে তার নেই, বললাম বাসায় এসো ঠান্ডা মাথায় শুনবা তখন।
গ্রামের কাগজের অনলাইনে ১৫ই আগষ্ট '২২ কে ঘিরে বিশেষ অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারন করে যা ১৫ই আগষ্ট প্রচারও করা হয়। শ্রমিক লীগের এক নেতাকে বললাম আমার বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশ শুনেছিলে?  সে বললো না ভাই, আমি বললাম বর্তমান নিয়ে কিছু কথা আছে শুনো এখন। শুনার পর সে বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বভাবে বললো ভাই আসলেই কি সত্য? বাহিরের (গ্লোবাল ভিলেজ) কারনে দেশের এই সংকট হচ্ছে? বিএনপি'র ঢোলতো বেশ জোড়েসরে বাঁজতে শুরু করেছে। এই বুঝি গেলো আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে। তাঁর সাথে গুনি বাপের ভ্রষ্ট সন্তান রেজা কিবরিয়া দীর্ঘ সময় আই এম এফ এ চাকরি করেছেন, এখন তাঁরাই (আইএমএফ) বোধহয় দ্বায়িত্ব দিয়েছে যাও বাংলাদেশে রাজনীতি শুরু করো, তিনিও বাংলাদেশ তো শ্রীলংকা হবে বলে ঢোলের আওয়াজ আরও বাড়িয়ে দিল। বামেদের একটি হরতালও হল।
পশ্চিমা মিডিয়ার মিথ্যার মুখোশে অনেক সত্য সামনেই আসেনা, আবার কখনো কখনো সময়মত আসে না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের একেবারে শুরুতেই মারিউপোলের মেয়র ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে হাজার মাইল দূরে গিয়ে বসে আছেন এবং সেখান থেকে অসম্ভব শক্তিশালী কোনো দুরবিন চোখে লাগিয়ে পরিষ্কার দেখছেন কী ঘটে চলেছে সেসব জায়গায়। আর সেই বার্তাই সিএনএন, বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান ও অন্যরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়ে রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধের ‘প্রামাণ্য’ দলিল আমাদের সামনে হাজির করছে।বরংআলিনা লিপ জার্মানির একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। ইউক্রেনের দনবাসে অবস্থান করে সেখানকার পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন জার্মানিসহ অন্য কয়েকটি দেশের মূলধারার বাইরের কিছু সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা ছাড়াও নিজের ইউটিউব চ্যানেলেও তা তিনি সংযুক্ত করছেন।ইউক্রেনের যুদ্ধ আমাদের অনেকের চোখে ‘দেবতা’ হিসেবে গণ্য মূলধারার সংবাদমাধ্যমের আসল চেহারা উন্মোচন করে দিয়ে রীতিমতো নগ্ন অবস্থায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।যার পুরস্কার হিসাবে পেয়েছেন- জার্মানির একটি আদালত সম্প্রতি আলিনা লিপকে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করে তার সব রকম সম্পদ জব্দের ঘোষণা দিয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার দোহাই দিয়ে আমাদের মতো দেশে নিজেদের পোষ্য তৈরি করে নেওয়ার খেলায় দুই হাতে অর্থ বিলিয়ে যাওয়া দেশটি নিজের দেশের একজন সত্যভাষী নাগরিকের কণ্ঠ রোধ করতে এমন কোনো পদক্ষেপ নেই, যা কাজে লাগাচ্ছে না। আলিনার অনুপস্থিত বিচার যেভাবে করা হয়, ইংরেজি ভাষায় সেই প্রক্রিয়ার একটি নামকরণ করা আছে ‘স্টার চেম্বারের’ রায়। অভিযুক্ত ব্যক্তির কথা বলা কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ সেখানে নেই এবং অভিযোগ, বিচার ও রায়ম্ভবই হচ্ছে একতরফা। গ্রাহাম ফিলিপস হলেন ব্রিটিশ নাগরিক, ইউক্রেনের মারিউপোল থেকে যিনি নিয়মিতভাবে যুদ্ধের বাস্তব অবস্থার সচিত্র প্রতিবেদন ইউটিউবে সংযুক্ত করা ছাড়াও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রচার করছেন। গ্রাহাম ফিলিপসকে নিয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পার্লামেন্টে রাখা বক্তব্যে তাঁকে দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করেছেন এবং একহাত দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
আমরা পশ্চিমা মিডিয়ার উল্লাস দেখেছি গত মার্চে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার কারনে রুবলের দরপতনের সময়। রুবল যখন ঘুরে দাড়ালো তখন কিন্তু চুপ পশ্চিমা মিডিয়া। বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ এমন সংকেটে (খাদ্য,জ্বালানি তেল, গ্যাস ইত্যাদি) আর পড়েনি। ইউরোপের দেশে দেশে তাঁর নাগরিকদের বলা হচ্ছে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ,পানির ব্যবহার কমাতে। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (এখন কি বলবেন পশ্চিমাদের দোসর বাংলাদেশের পরিবেশবাদিরা), যুক্তরাজ্যে শ্রমিক আন্দোলন ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে বার্ষিক জ্বালানি বিল ( গ্যাস,বিদ্যুৎ) গত এপ্রিলে ৫৬২ পাউন্ড থেকে বেড়ে বর্তমানে হয়েছে ১২৭৭ পাউন্ড যা অক্টোবর থেকে হবে ৩৫০০ পাউন্ড। ইউরোপে ১৫ ইউরোর গ্যাস এখন ৪০০ ইউরো, ৫০ ইউরোর বিদ্যুৎ এখন ১০০০ ইউরো। ক্রমেই মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে, আগামীতে এমনও হতে পারে টাকা থাকলেও গ্যাস- বিদ্যুৎ পাবে না।  জার্মানিতে নাগরিকদের বলা হচ্ছে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ওয়াই-ফাই ও বন্ধ করে আসতে, গোসলের সময় কম নিতে যাতে গরম পানি কম ব্যবহার হয়, বিদ্যুৎ/গ্যাস খরচ যাতে কম হয়। গ্যাস ব্যবহার করে সুইমিংপুল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি অফিস বাসা থেকে করার জন্য বলা হচ্ছে, বার্লিনের দুই হাজার ঐতিহাসিক ভবন যা রাতে আলোকসজ্জিত থাকতো তা এখন বন্ধ। (আমাদের ঐতিহাসিক সক্ষমতার প্রতিক পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের সময় আলোক সজ্জা নিয়ে কত মশকরা যারা করেছিলেন এখন কি বলবেন?)। সরকারি ভবন-রেল-বিমান বন্দর ইত্যাদিতে এসির তাপমাত্রা নির্ধারন করে দিয়েছে ইউরোপের সরকার গুলো যাতে খরচ কম হয়। ফ্রান্সে দোকান এর আলোকসজ্জা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দোকানের দরজা খোলা রেখে এসির বাতাস বের হলে ৭৫০ ইউরো বা সত্তর হাজার টাকা জরিমান দিতে হচ্ছে। বাসা বাড়িতে সন্ধ্যা ৬ থেকে রাত ৯ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে বলেছে। বাড়ির সামনের আলোকসজ্জা বন্ধ করতে বলা হচ্ছে। সবাই একরুমে এসে পড়া লেখা বা একরুমে এসি/ হিটার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এ সব নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়া কিন্তু চুপ।
মূল্যস্ফীতি বলতে সাধারণভাবে কোন নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়। এর মানে হচ্ছে অর্থনীতিতে যখন মূদ্রার সরবরাহ বেড়ে যায় কিন্তু পণ্য বা সেবার পরিমাণ একই থাকে তখনই মূল্যস্ফীতি হয়। অর্থাৎ বেশি টাকা দিয়ে কম পণ্য বা সেবা কিনতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার কেবল বাড়ছেই। বলা যায়, মূল্যস্ফীতি যেন পাগলা ঘোড়ায় সওয়ার হয়েছে। প্রতি মাসেই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে অর্থনীতির অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। মূল্যস্ফীতির হার ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক ‘উন্নয়নের’ অগ্রগামী হিসেবে প্রচার করে, কিন্তু তাঁর দেশের স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য এবং অন্য সূচকগুলো প্রতি-উন্নয়নের আভাস দেয়।চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং একক অন্যান্য বৃহৎ শক্তির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘জাতীয় প্রতিরক্ষার’ পেছনে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করলেও বাস্তবতা হলো সেখানে চার কোটি মানুষ দরিদ্র দশায় আছে। ২০১৭ সালে জাতিসংঘের চরম দারিদ্র এবং মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফিলিপ অ্যালস্টনের বিবৃতিতে ‘অস্বাভাবিক উপায়ে বিপুল সম্পদ থাকা দেশটিতে মানবাধিকারের প্রতি প্রতিষ্ঠিত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিস্ময়করভাবে বিরোধপূর্ণ’ অবস্থা খুঁজে পেয়েছেন তা দেখিয়েছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিশুমৃত্যুর হার ৬০ বছরেরও বেশি সময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে কাটানো দ্বীপ রাষ্ট্র কিউবার চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র নামের এই ‘মুক্ত দেশে’ গৃহহীনতার মাত্রা এমন ভয়ংকর জায়গায় গেছে যা অনেক ‘অনুন্নত’ দেশেও দেখা যায়নি।বিশ্ব মোড়লকে তার নিজ জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে তৃতীয় বিশ্বের নাগরিকদের মত জীবন দশা।যুক্তরাষ্ট্র নামক এই দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের সর্বোচ্চ বন্দিত্বের হার ধরে রেখেছে।
২০০৮ সাল থেকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নতির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মানদন্ডের অনেকগুলো সূচক অতিক্রম করতে পেরেছে এরই মধ্যে। আমরা অনেকটা দুর্ভাগ্য। একে করোনার জন্য বিশ্বব্যাপি অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব কাটতে না কাটতে বিশ্বমোড়লদের নতুন খেলা শুরু হল, রাশিয়া আক্রমন করে বসলো ইউক্রাইনে। শুরু হল রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার খেলা। নতুন সংকটে পড়লো বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। যার প্রভাব এরই মধ্যে আলোচলা করে এসেছি। বাংলাদেশ তার সমৃদ্ধির গতিপথ তৈরিতে প্রথমেই যে কোন মূল্যে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় স্বল্প মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় অগ্রসর হয়। স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনায় ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলো ছিল। যার জন্য সরকারকে যথেষ্ট ভর্তুকি দিতে হয়েছে। বর্তমান সংকটের শুরুতেই সংকট সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে কিছু ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করেছে। দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসাবে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে, অর্থাৎ ভর্তুকি কমিয়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করেছে। দেশের সাধারন মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার ইতোমধ্যেই সয়াবিন তেল আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে। এক কোটি পরিবারের মধ্যে সুলভ মূল্যে পণ্য বিতরণ করছে। ছয়টি পণ্য টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সক্রিয় করা হয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থাকে। সাধারন মানুষের কষ্ট বেড়েছে, তবে বাংলাদেশ এই সংকটকালে কিছুটা রক্ষণশীল ভূমিকায় পদক্ষেপ নিয়েছে, অর্থনৈতিক দূর্বল জায়গায় ঔষধ লাগিয়ে শ্রীলংকা হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বেজায় অখুশি অনেকে। তাই সারা পৃথিবীর অর্থনৈতিক অবস্থা জানার পরও দ্রব্যমূল্য নিয়ে অপপ্রচারে আছে।
বিএনপির আমলে শুধু খাম্বা বসিয়ে- হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের কাহিনী, বিদেশে টাকা পাচারের কাহিনী বলে দেয় তারা ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ এতোদিনে নাউরু মত নিজেই নিজের পায়ে কুড়াল মারা এক রাষ্ট্রে পরিণত হতো। নাউরু বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দ্বীপ রাষ্ট্র, যার ক্ষেত্রফল মাত্র ২১ বর্গ কিলোমিটার। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র নাউরু। ১৯৬৮ সালে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। নাউরুর জনসংখ্যা মাত্র ১৩,০৪৮ জন। অর্থনীতির প্রধান আয় ছিলো ফসফেট খনিজ আহরণের মাধ্যমে। ফসফেটের টিলা নাউরুর জন্য ‘স্বর্ণের খনি’ ধরা হতো। নাউরুতে যে ফসফেট পাওয়া যেত, সেগুলো ছিল পুরো পৃথিবীতে সর্বোৎকৃষ্ট মানের। ১৯৭৫ সালে নাউরুর সরকারি ব্যাংকে জমা ছিল ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা স্বল্প সময়ে স্বাধীন কোনো রাষ্টের এত বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়া বিরল ঘটনা। নাউরুর জনগণের মাথাপিছু আয় এত বেশি ছিল যে, তাদের সামনে একমাত্র ধনী রাষ্ট্র ছিল কুয়েত। নাউরুর এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে তাদের পরবর্তী কয়েক প্রজন্মকে আরামেই খাইয়ে-পরিয়ে রাখা যেত। কিন্তু তাদের এই অর্থ দেশের উন্নয়নের জন্য খরচ করা ছিল অত্যন্ত জরুরি। উন্নত চিকিৎসা, উচ্চ শিক্ষা, মানসম্মত বাসস্থান- এসব কাজে খরচ করার জন্য এই অর্থ ছিল যথেষ্ট। কিন্তু নাউরু কর্তৃপক্ষ তা না করে দামি বাড়ি, বিলাসবহুল হোটেল এবং গলফ কোর্ট বানায়। তারা একটি বিমানবন্দর বানায়, যার উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমা দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা। নিজেদের দেশে খাদ্য উৎপাদন করার চেয়ে তারা বহির্দেশ থেকে খাবার আনার দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে থাকে।তারা সাতটি বোয়িং বিমান কেনে, যা একসঙ্গে নাউরুর ১০ শতাংশ জনগণ বহন করতে সক্ষম। রাষ্ট্রের টাকায় বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে শুরু করে। অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, লন্ডন এবং ফিজির মতো দেশগুলোতে তৈরি করে নিজেদের বিলাসবহুল হোটেল। এর ফলে তারা প্রচুর পরিমাণ অর্থ পাচার করতে থাকে। নাউরু কর্তৃপক্ষ এমনভাবে টাকা উড়াচ্ছিল, যেন তা কোনোদিনই শেষ হবে না। কিন্তু তাদের এই ফসফেটের সম্পদ তো একসময় ফুরিয়ে আসলো। ফসফেট রপ্তানি ছাড়া নাউরুর যেহেতু আর কোনো রাষ্ট্রীয় উপার্জন নেই এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারও বলতে গেলে ফাঁকা হয়ে পড়লো। বর্তমান নাউরুর দিকে তাকালে দেখা যাবে, সেখানে ৭০ শতাংশ জমি আছে যাতে কোনোপ্রকার চাষাবাদ সম্ভব না ফসফেট উত্তলোনের কারনে, নিম্নমানের খাবার এবং নানা রোগে ভুগতে থাকা জনগণ। নাউরুর ৯৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৯৩ শতাংশ নারী স্থূলতার শিকার। মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ নাগরিকের রয়েছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস। কিডনি বিকল এবং হৃদরোগ সেখানে খুবই স্বাভাবিক। সেই সাথে নাউরুর ৯০ শতাংশ নাগরিকই বেকার।
# লেখকঃ সাংস্কৃতিক সম্পাদক, যশোর জেলা আওয়ামী লীগ।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft