দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: আট বছর পর জট খুললো ভোটের        নতুন দাম কার্যকর হতে সময় লাগবে!       আগামীর সম্ভাবনা ফুটিয়ে তুললো কন্যা শিশুরা       যশোরে গ্যাসের দোকানে ভোক্তার তদারকি       অস্ত্রসহ আটক অনিক রিমান্ডে       কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, দু’জনের যাবজ্জীবন       রূপসায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ মাহাতাবের মরদেহ উদ্ধার        ভবিষ্যতে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে: খাদ্যমন্ত্রী       জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে মধুখালীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা       কারাভোগ শেষে স্বদেশের পথে ১৩৫ ভারতীয় জেলে      
টার্গেট কোচিংয়ের মেধাবী ও সুশ্রী শিক্ষার্থীরা
সাবেক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ
অভিজিৎ ব্যানার্জী
Published : Sunday, 18 September, 2022 at 6:49 PM, Count : 1095
সাবেক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগযশোরের পুরাতনকসবা কাজীপাড়া আজিজ সিটিতে বসবাসকারী বিতর্কিত সাবেক কলেজ শিক্ষক গোবিন্দ ভট্টাচার্য্যরে বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ছাত্রী। নিজ বাড়ির নিচ তলায় পরিচালিত কোচিংয়ের মেধাবী ও সুশ্রী নারী শিক্ষার্থীরা তার লালসার শিকার হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
তার প্রস্তাবে রাজি না হলেও সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর সাথে চরম অশালীন আচরণ, এমনকি তার নামে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার কয়েক শিক্ষার্থী তার কাছে পড়া ছেড়ে দিয়েছে। আর কোনো ছাত্রী যেনো ওই গোবিন্দের লালসার শিকার না হন সে জন্য তারা ওই শিক্ষকের মুখোশ উন্মোচন করতে মাঠে নেমেছেন বলে দাবি কয়েক ছাত্রীর। তারা এ ব্যাপারে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দারস্ত হবেন বলেও জানিয়েছেন।
একাধিক সূত্রের দাবি, যশোরের একটি স্বনামধন্য কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক ছিলেন গোবিন্দ ভট্টাচার্য্য। ৬/৭ বছর আগে চাকরি করা অবস্থায় একটি বিশেষ দলে ভিড়ে দলবাজি করা ও একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই সব ঘটনা জোরেসোরে প্রচার হলে এবং তদন্ত কমিটি গঠন হলে ওই কলেজে তার আর চাকরি করা হয়নি। অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে অবশ্য তার ভাল নাম থাকায় আজিজ সিটিতে বাড়ি করে শুরু করেন কোচিং বাণিজ্য। তবে তার স্বভাব চরিত্র ও ছাত্রীদের প্রতি অনৈতিক আচরণ একই থেকে যায়। তিনি তার কোচিং ব্যাচের সুশ্রী ও মেধাবী ছাত্রীদের টার্গেট করে পৃথকভাবে অনৈতিকতা শুরু করেন।
সম্প্রতি ৩ শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে যৌনহয়রানী ও এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। দৈনিক গ্রামের কাগজ দপ্তরে এসে তারা অভিযোগ করেছেন, গোবিন্দ ভট্টাচার্য্য একজন মুখোশধারী। তার লালসার শিকার হলেও অনেক শিক্ষার্থী মুখ খুলতে পারছেন না লজ্জায়। তবে সেখান থেকে কৌশলে নিজেদের সেইফ করে এসে পড়া ছেড়ে দিয়েছেন অনেকে। তারা জানিয়েছেন, গোবিন্দ ভট্টাচার্য্য পড়ানোর সময় প্রথমে সুশ্রী ও মেধাবী ছাত্রীদের পৃথকভাবে ফোনে প্রথমে জানায় তুমি ভাল পড়াশুনা করছো। আরো ভাল রেজাল্ট হবে যদি স্যারকে চুমু খেতে দেয়া হয়। এছাড়া জড়িয়ে ধরে আদর দিতে দিলে তোমাদের মেধার ব্যাপ্তি ঘটবে। এভাবে আরো কয়েক শিক্ষার্থীর উপর যৌন হয়রানী করেছেন গোবিন্দ ভট্টাচার্য্য। তিনি রাত ৯ টার পরে কয়েক শিক্ষার্থীকে হোয়াটসঅ্যাপে আসতে বলেন। সেখানে গোবিন্দ ভট্টাচার্য্য পর্ণগ্রাফি ভিডিও সরবরাহ করেন এবং নোংরা নোংরা প্রস্তাব দেন। এছাড়া ক্লাস শেষে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে জানায় ছুটির পরে অপেক্ষা করে যেতে বলে বিশেষ নোট দেয়া হবে। প্রলোভনে পড়ে গোবিন্দের ছকে পা দিয়ে সতিত্ব হারানোর শংকায় পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী।
ইতিমধ্যে এক শিক্ষার্থীকে তিনি ধর্ষণ চেষ্টাও করেছেন। ওই ছাত্রী তার কাছে পড়া ছেড়ে দেন। তিনি এখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। এছাড়া যশোরের আরবপুর ও পোস্ট অফিসপাড়ায়  বসবাস করা দুই ছাত্রীকে কৌশলে ফেলে যৌনহয়রানী করেছেন।  তারা জানায়, বাড়ির নিচ তলায় গোবিন্দ ভট্টাচার্য্যরে কোচিং ডেরা। যেদিন বাড়িতে স্ত্রী সন্তান থাকে না, সেদিন গোবিন্দ তার নোংরামি শুরু করে। পড়ানোর সময় টেবিলের নিচ দিয়ে নারী শিক্ষার্থীর পায়ের সাথে পা চেপে ধরে প্রথম ধাপ শুরু করে। এরপর কৌশলে যৌনহয়রানী করতে থাকেন।
ওইসব ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর একটি অংশ দৈনিক গ্রামের কাগজ দপ্তরে এসে জানান, তাদের উপর দিয়ে যা হয়েছে সেটাতো হয়্ েগেছে, আর যেনো কোনো নারী শিক্ষার্থী যৌন হয়রানীর শিকার না হন। তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে, গোবিন্দ ভট্টাচার্য্যরে সাবেক কয়েক সহকর্মী জানিয়েছেন দুঃশ্চরিত্রের লোক এই গোবিন্দ। তাকে নিয়ে কলেজে শালিশ বিচার লেগেই থাকতো। তদন্ত কমিটি গঠন হলে দোষী সাবস্ত হয় কয়েকবার। যে কারণে তিনি আর চাকরিতে এখন বহাল নেই। এর আগে একজন ডাক্তারের মেয়ের সাথে তিনি নোংরামি করেন। যে কারণে তার নিকট আত্মীয়রাও তার খোঁজখবর নিতে অনীহা প্রকাশ করেন বলেও জানান তারা। নিজের মেয়ে সম ছাত্রীদের ঘিরে তার যৌন লালসা একটি রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ব্যাপারে গোবিন্দ ভট্টাচার্য্যরে সাথে কথা বললে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। জানান, তার সামাজিক ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই ওই সব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভাল শিক্ষক হিসেবে তার নাম আছে সেটা কলংকিত করতেই কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে বিপথগামী কিছু ছাত্রী ওই অভিযোগ করতে পারে। যে অভিযোগুলো করা হচ্ছে তার সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট নন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft