দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: আট বছর পর জট খুললো ভোটের        নতুন দাম কার্যকর হতে সময় লাগবে!       আগামীর সম্ভাবনা ফুটিয়ে তুললো কন্যা শিশুরা       যশোরে গ্যাসের দোকানে ভোক্তার তদারকি       অস্ত্রসহ আটক অনিক রিমান্ডে       কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, দু’জনের যাবজ্জীবন       রূপসায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ মাহাতাবের মরদেহ উদ্ধার        ভবিষ্যতে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে: খাদ্যমন্ত্রী       জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে মধুখালীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা       কারাভোগ শেষে স্বদেশের পথে ১৩৫ ভারতীয় জেলে      
বিকেলে বিষ প্রয়োগ, সকালে সবজি বাজারে
সবজির নামে বিষ খাচ্ছে মানুষ
মিজানুর রহমান, চুড়ামনকাটি
Published : Monday, 19 September, 2022 at 12:09 AM, Count : 274
সবজির নামে বিষ খাচ্ছে মানুষসবজির রাজ্য যশোরের উৎপাদিত সবজিতে বিষ! পোকা-মাকড় দমনে বেগুন, শিম, পাতাকপি, ফুলকপিসহ সকল সবজিতে অবাধে মাত্রাতিরিক্ত বিষ ছিটানো হচ্ছে। আগের দিন বিষ স্প্রে করা সবজি পরের দিন ভোরে চাষিরা বাজারজাত করছেন। বাজার থেকে সেই সবজি কিনে খাচ্ছে মানুষ। সহনীয় মাত্রায় বিষ ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট সময়ের আগে সবজি বাজারজাত করা মানেই মানুষকে বিষ খাওয়াানো হচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষকদের নানাভাবে সচেতন করা হয়। এছাড়া পোকা-মাকড় দমনে ফেরোমন ফাঁদ ও আইপিএমএর বিভিন্ন পদ্ধতিতে সবজি চাষে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তারপরেও সবজিতে অতিরিক্ত বিষ ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে বারো মাস সবজির চাষ করেন কৃষকরা। মাঠের পর মাঠ শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য সবজিতে বর্ণিল হয়ে উঠেছে। যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ করেছেন চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নের চাষিরা।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, হৈবতপুর ইউনিয়নে এক হাজার ৬শ ৩০ হেক্টর, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে ৮শ’ ২৮ হেক্টর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে ৫শ’ ৫৩ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। এখানে উৎপাদিত সবজির সুনাম দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও রয়েছে। কিন্তু আগের মতো সবজিতে সেই স্বাদ আর নেই। কারণ সবজির সাথে বিষ খাচ্ছে মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবজিতে ছিটানো বিষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রিনকর্ড, সিমবুন, সুমিসাইডিন, হেপ্টাক্লোর, থায়াডিন, ডিডিটি। এগুলো খুবই বিপদজনক। এছাড়াও নগস, সুমিথিয়ন, ডাইমেক্রন, ম্যালালাথিয়ন, অ্যারোমাল ইত্যাদি। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এসব কীটনাশক প্রয়োগের পর অপেক্ষমানকাল কোনোটির ৩ দিন, কোনোটির ৭ দিন, কোনোটির ২১ দিন এমনকী ৬ মাস পর্যন্ত হতে পারে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চাষিরা সকল বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিষ প্রয়োগের কয়েক ঘণ্টা পরেই সবজি বাজারজাত করছেন। তরতাজা সবজি বেশি দামে বিক্রির আশায় চাষিরা মানুষকে বিষ খাওয়াচ্ছেন।
চুড়ামনকাটি, আব্দুলপুর, ছাতিয়ানতলা, সানতলা, নুরপুর, বাগডাঙ্গা, দোগাছিয়া, সাজিয়ালী, শ্যামনগর, হৈবতপুর, তীরেরহাট, মানিকদিহি, মথুরাপুর, শাহাবাজপুর, মুরাদগড়, কাশিমপুর, বিজয়নগর, দৌলতদিহি, বালিয়াঘাট ললিতাদাহ, বালিয়াডাঙ্গা, বেনেয়ালী, ডহেরপাড়া, লাউখালী, নাটুয়াপাড়ার প্রতিটি মাঠে আবাদি সবজিতে মাত্রাতিরিক্ত বিষ ছিটানো হচ্ছে। কোন নিয়ম মানছেন না তারা। অনেকেই খালি শরীরে মুখে কাপড় না বেঁধে বিষ ছিটানোর কাজ করছেন। যা স্বাস্থের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
চুড়ামনকাটি এলাকার সবজি চাষি আতিকুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, মিন্টু মিয়া, জামাল উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, আশাদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, বজলু মিয়াসহ অনেকে জানান, বিষ না দিলে সবজির চেহারা ঠিক থাকেনা। ফেরোমন ফাঁদ দেয়ার পরও পোকামাকড়ের অত্যাচার আছে। ক্ষতিকর পোকা-মাকড় মরেনা। তাই বিষ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান তারা।
বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সবজিতে মাত্রাতিরিক্ত বিষ দেয়ার বিষয়ে চাষিদের বার বার নিষেধ করা হচ্ছে। তাদের সচেতন করতে মাঠ দিবস ও উঠান বৈঠকসহ বিভিন্নভাবে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার ওপর আলোচনা অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। কীটনাশক ছাড়াই উন্নত মানের সবজি কীভাবে আবাদ করা যায় তার প্রশিক্ষণও দেয়া হয় কৃষাণ, কৃষাণীদের। তবে পূর্বের তুলনায় চাষিরা এখন অনেক সচেতন। অনেকেই বিকল্প পদ্ধতিতে সবজি খেতে পোকামাকড় দমন করছেন। তবে বেগুন ও শিমে কিছু কিছু চাষি অতিরিক্ত বিষ ব্যবহার করেন।
যশোর হর্টিকালচারের উপপরিচালক দিপাঙ্কর দাস জানিয়েছেন, যশোর সবজির জেলা হিসেবে সারাদেশে পরিচিত। যে কারণে এখানে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের ব্যাপারে চাষিদের বরবরাই সচেতন করতে হয়। সবজির পোকা-মাকড় দমনে কীটনাশকের বিকল্প ব্যবস্থাপনার উপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। চাষিদের বলা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার ও নিয়ম মেনে বাজারজাত করার জন্য। তাহলে মানবদেহে এর কোন প্রভাব পড়বে না।
তিনি আরও বলেন, সবজিতে বিষ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ আইন গঠন করা উচিত। তাহলে নিয়ম না মেনে বিষ ব্যবহার করলে চাষিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে পরিবেশের জন্য উপকারী পোকা-মাকড়ও ধ্বংস হচ্ছে। আবার জমির উর্বরতা শক্তিও কমে যাচ্ছে।
কৃষককে বিষ প্রয়োগের পর থেকে নির্দিষ্ট সময়ের পর বাজারজাত করার পরার্মশ দিয়েছেন এই কৃষি বিশেষজ্ঞ।










« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft