শিক্ষা বার্তা
শিরোনাম: আট বছর পর জট খুললো ভোটের        নতুন দাম কার্যকর হতে সময় লাগবে!       আগামীর সম্ভাবনা ফুটিয়ে তুললো কন্যা শিশুরা       যশোরে গ্যাসের দোকানে ভোক্তার তদারকি       অস্ত্রসহ আটক অনিক রিমান্ডে       কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, দু’জনের যাবজ্জীবন       রূপসায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ মাহাতাবের মরদেহ উদ্ধার        ভবিষ্যতে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে: খাদ্যমন্ত্রী       জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে মধুখালীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা       কারাভোগ শেষে স্বদেশের পথে ১৩৫ ভারতীয় জেলে      
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি নিয়ে চরম অস্থিরতা
হতাশায় যশোরের পাঁচ হাজার শিক্ষক
এম. আইউব
Published : Monday, 19 September, 2022 at 8:56 PM, Count : 198
হতাশায় যশোরের পাঁচ হাজার শিক্ষকদীর্ঘদিন পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলির দ্বার উন্মোচন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি করতে সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। আর এই নির্দেশিকা সারাদেশে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। হতাশার সৃষ্টি করেছে লাখ লাখ শিক্ষকের মধ্যে। এই হতাশার তালিকায় যশোরে রয়েছেন পাঁচ হাজার ১৩৪ জন শিক্ষক।
এরমধ্যে প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ১ হাজার ২৮৯ জন। যশোরে সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪ হাজার ৮৯ টি। এরমধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৩ হাজার ৮৪৫। নতুন জাতীয়করণ শিক্ষক ২ হাজার ৫৭১ জন। এদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২ হাজার ৪১৪ জন।
একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি বছরের পর বছর বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে করোনার কয়েক বছর বদলি একেবারেই হয়নি। এসব বদলি বঞ্চিত শিক্ষকদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা’ ২২ তৈরি করা হয়েছে। এখানে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে তা শিক্ষকদের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছে বলে ভুক্তভোগীরা বলছেন। বদলি নির্দেশিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বার্থ পরিপন্থি বলে অসংখ্য শিক্ষক অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগ মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদেরও। শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের দাবি, অবিলম্বে বদলি নির্দেশিকা সংশোধন করার।
মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, অনেক স্কুলে বছরের পর বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন বহু শিক্ষক। ইতিমধ্যে তাদের বাড়িঘর বদল হয়েছে। অনেকেই কর্মস্থল থেকে বহুদূরে আবাস গড়েছেন। এসব শিক্ষক এতদিন আশায় বুক বেধেছিলেন বদলি চালু হলে তারা বাড়ির কাছে আসবেন। কিন্তু সে গুড়ে বালি! কারণ বদলি নির্দেশিকায় বেশকিছু ‘অবান্তর’ শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। যা পূরণ করা অনেক শিক্ষকের পক্ষে অসম্ভব। ফলে, আপাতত তারা বদলি হতে পারছেন না। এ কারণে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
বদলি নির্দেশিকায় যেসব শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, কোনো বিদ্যালয়ে চারজন বা তার কম সংখ্যক শিক্ষক কর্মরত থাকলে এবং শিক্ষক ছাত্র অনুপাত ১ঃ ৪০ এর বেশি হলে সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাধারণভাবে বদলি করা যাবে না। এ কারণে অনলাইনে বহু শিক্ষক বদলির আবেদনই করতে পারছেন না।
মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, বেশিরভাগ স্কুল দু’ শিফটের। এসব স্কুলে শিক্ষক ছাত্রের অনুপাত করতে হবে পৃথক শিফট ধরে। এটি হলে অনেক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। কিন্তু সেটি না করে দু’ শিফট একসাথে হিসেব করে অনুপাত করা হয়েছে। আবার চারজন বা তার কম সংখ্যক শিক্ষক যেসব বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন তারা বদলি হতে পারবেন না বলে সফটওয়্যার করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, যেসব শিক্ষক ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত একই বিদ্যালয়ে কর্মরত তাহলে তারা কি কখনই বদলি হতে পারবেন না। সফটওয়্যার থেকে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা এখন তুলে দেয়ার দাবি শিক্ষকদের।
কেবল এই শর্ত দিয়ে ক্ষ্যান্ত হয়নি অধিদপ্তর। এরসাথে দূরত্ব ও যাতায়াত, বৈবাহিক অবস্থা, জ্যেষ্ঠতা ও প্রতিবন্ধিতা নিয়ে গ্রেডিং করা হবে। সেই গ্রেডিংয়ে যারা বেশি পয়েন্ট পাবেন তারাই বদলির যোগ্য হবেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি হলে সিনিয়র অনেক শিক্ষক বদলি হতে পারবেন না। তারা বলছেন সিনিয়রিটিকে বেজ করে বদলি নীতিমালা চূড়ান্ত করা উচিত।
এদিকে, নানা শর্তের বেড়াজালে বদলি আটকে যাওয়ায় লাখ লাখ শিক্ষকের মধ্যে যেমন অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে হতাশার। শিক্ষকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা। পড়ছেন বিব্রতকর অবস্থায়। কর্মকর্তাদের বক্তব্য, শিক্ষকদের অভিযোগ যৌক্তিক। শিক্ষকদের হতাশা দূর করতে না পারলে পাঠদানে প্রভাব পড়তে পারে বলে কর্মকর্তাদের মন্তব্য।
শিক্ষকদের অস্থিরতা ও হতাশা দূর করতে রোববার অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও নির্বাচিত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের নিয়ে জুমে মিটিং করেছেন। ওই মিটিংয়ে পরিচালক (প্লানিং ও অপারেশন) ও পরিচালক (অ্যাডমিন) উপস্থিত ছিলেন। মিটিং থেকে সবকিছু শোনার পর অধিদপ্তরের ওই দু’কর্মকর্তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাঠের অবস্থা প্রস্তাব আকারে পাঠাতে বলেছেন। প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের মতামত নিয়ে নতুন নীতিমালা করা হতে পারে বলে সভায় অংশ নেয়া একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft