দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: আট বছর পর জট খুললো ভোটের        নতুন দাম কার্যকর হতে সময় লাগবে!       আগামীর সম্ভাবনা ফুটিয়ে তুললো কন্যা শিশুরা       যশোরে গ্যাসের দোকানে ভোক্তার তদারকি       অস্ত্রসহ আটক অনিক রিমান্ডে       কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, দু’জনের যাবজ্জীবন       রূপসায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ মাহাতাবের মরদেহ উদ্ধার        ভবিষ্যতে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে: খাদ্যমন্ত্রী       জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে মধুখালীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা       কারাভোগ শেষে স্বদেশের পথে ১৩৫ ভারতীয় জেলে      
চুরি উল্লেখ করে উদ্ধার ও আটক সাফল্য নিয়ে ব্রিফিং গোয়েন্দা পুলিশের
আফিল ট্রেডের ২ কোটি টাকার সার লুট
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Wednesday, 21 September, 2022 at 1:32 AM, Count : 432
আফিল ট্রেডের ২ কোটি টাকার সার লুটযশোরের নওয়াপাড়ায় জাহাজ থেকে আফিল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের আমদানি করা বিএডিসির দুই কোটি টাকার সার ডাকাতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। যদিও এটিকে একটি বড় ধরনের চুরি উল্লেখ করে ব্রিফিং করেছে যশোর জেলা গায়েন্দা শাখা। এ ঘটনায় জোরালো আটক ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় কোটি টাকার সার উদ্ধার ছাড়াও গত দু’দিনে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন এই ঘটনাই প্রথম নয়, প্রায়ই জাহাজ থেকে অপরাধী সিন্ডিকেট চুরি করে আমদানি কারকদের চরম ক্ষতি করে আসছে। বিগত ৩০ বছরে শতকোটি টাকার মাল চুরি হয়েছে।  
গোয়েন্দা শাখা ও আফিল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে, চায়না থেকে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিকটন সার আমদানি করে বিএডিসি কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়ার টেন্ডার পায় মেসার্স আফিল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। সে মোতাবেক চায়না থেকে বড় জাহাজে আনা হয় মোংলা নদী বন্দরে। আর সেখান থেকে ছোট জাহাজযোগে নওয়াপাড়া নদী বন্দরে আনার কার্যক্রম করে যাচ্ছে আফিল ট্রেড। এরমধ্যে সম্প্রতি এক হাজার ৩শ’ মেট্রিকটন ডিএপি সারের একটি আমদানি চালান পৌঁছায় মোংলা বন্দরে। গত ১০ সেপ্টেম্বর দুটি লাইটার জাহাজযোগে নওয়াপাড়া নদী বন্দরে আনা হচ্ছিল ডিএপি সার। এদিন রাত আনুমানিক ১ টার দিকে নওয়াপাড়া নদী বন্দরের অদূরে দু’টি জায়গায় লাইটার জাহাজ দুটি নোঙর করা হয়। এসময় দুটি জাহাজ থেকে ২০ টন ও ৮০ টন সার নামিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় লাইটারের মাস্টার স্কটের সহযোগিতায় সংঘবদ্ধ চক্রটি এ অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটায়। এ ব্যাপারে অভয়নগর থানায় মামলা হয়। নৌপথের এই দুর্ধর্ষ ঘটনা তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দাশাখা ডিবি।  সহযোগিতায় সাথে থাকে অভয়নগর থানা পুলিশ। তদন্তের এক পর্যােেয় ডিবির তথ্য প্রযুক্তিক্ততে এক্সপার্ট এসআই মফিজুল ইসলাম, এসআই শামীমসহ একটি চৌকস টিম জড়িতদের শনাক্ত করেন। অভিযান চালিয়ে নওয়াপাড়া, বাগেরহাট, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ ও ঝিনাইদহ শেখপাড়া থেকে ঘটনায় জড়িত ৯ জনকে আটক করেন। লাইটার জাহাজ থেকে যে ১শ’২০ টন ডিএপি সার নামিয়ে নেয়া হয়েছিল তার দাম প্রায় দুই কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন আফিল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তারা।
আফিল গ্রুপের পরিচালক মাহাবুব আলম লাভলু গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, ওই সার চুরি নয়, বরং ডাকাতি হয়েছে। ৩০/৪০ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাতদল আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই ডাকাতি ঘটনা ঘটিয়েছে। রীতিমত ট্রলার, নৌকা ও ছোট একটি হাজাজে হানা দিয়ে ডাকাতি করে চলে যায় রাতে। পুলিশ তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া শুরু করলে জড়িতদের মধ্যে একটি অংশ আটক হয়েছে। একারনে পুলিশের প্রতি সাধুবাদ জানান তিনি।
এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি সরদার ও সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, দুর্ধর্ষ ঘটনাটিকে চুরি বলা যাবে না, এটা ডাকাতি, সংঘবদ্ধ দল বিশাল বহর জাহাজে হামলা করে সার লুাট করেছে। শুধু আফিল ট্রেডের সার নয়, গত ৩০ বছরে নওয়াপাড়া নদী পথে জাহাজ থেকে প্রায় শতকোটি টাকার মাল চুরি হয়েছে।
নওয়াপাড়ায় অভিযানিক টিমের সদস্যরা, অভয়নগরের ওসি শামীম আহমেদ, জেলা গোয়েন্দার ওসি রুপন কুমার সরকার ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, আফিল ট্রেডের সার চুরির ঘটনায় পুলিশ ঘটনার দিন থেকেই মাঠে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর তাদের আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরো আটক ও উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। চুরি যাওয়া সারের মধ্যে ৭৯ টন উদ্ধার হয়েছে। বাকি ৪১ টন সার কোথায় বিক্রি করেছে চক্রটি সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। বিএডিসি সরকারি সার যেখানে সেখানে বিক্রি করতে পারবে না। কাজেই দ্রুত ওই সার উদ্ধার হবে।
আটককৃতরা হচ্ছে, অভয়নগরের বাহিরঘাট এলাকার নবাব আলীর ছেলে হুমায়ুন কবীর, তেঁতুলতলার বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহাগ হেসেন, পিরোজপুরের মাাছিমপুর গ্রামের অমল শিকদারের ছেলে অনিমেশ শিকদার, পশ্চিম শিকারপুরের মোশররফের ছেলে ফয়সল মোর্শেদ সজীব, ঝালকাটির মৃত বিমল সরকারের ছেলে লিখন সরকার, পিরোজপুরের মৃত মোকাররমের ছেলে আক্কাস আলী শিকদার, অভয়নগরের ধোপাদী গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম মোড়লের ছেলে তরিকুল ইসলাম, বাগেরহাটের মেছের শাহ সড়কের আবুল কালমের ছেলে পারভেজ আহমেদ ও খুলনা পাইকগাছার কলমি গুনিয়া গ্রামের সুদান্য সরকারের ছেলে ভুপাল সরকার। আটককৃতদের মধ্যে আগে দু’জনকে আদালতে চালান দেয়া হয়। আর ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২০ সেপ্টেম্বরই আদালতে চালান দেয়া হয়েছে।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft