দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: আট বছর পর জট খুললো ভোটের        নতুন দাম কার্যকর হতে সময় লাগবে!       আগামীর সম্ভাবনা ফুটিয়ে তুললো কন্যা শিশুরা       যশোরে গ্যাসের দোকানে ভোক্তার তদারকি       অস্ত্রসহ আটক অনিক রিমান্ডে       কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, দু’জনের যাবজ্জীবন       রূপসায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ মাহাতাবের মরদেহ উদ্ধার        ভবিষ্যতে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে: খাদ্যমন্ত্রী       জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে মধুখালীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা       কারাভোগ শেষে স্বদেশের পথে ১৩৫ ভারতীয় জেলে      
দৌড়ঝাঁপ কাজে আসছেনা
করোনা টেস্টের ২২ লাখ টাকা হজমের ঘটনায় দিশেহারা ডাক্তার আব্দুল্লাহ
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Thursday, 22 September, 2022 at 8:51 PM, Count : 389
করোনা টেস্টের ২২ লাখ টাকা হজমের ঘটনায় দিশেহারা ডাক্তার আব্দুল্লাহকরোনা টেস্টের ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা ও বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ কোনো কাজে আসছেনা ডাক্তার হাসান আব্দুল্লাহর। অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের রাঘববোয়ালরা তার অপকর্ম বরদাস্ত না করায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য বিভাগীয় মামলা ফেইস করেই তাকে অবসরকালীন ছুটিতে যেতে হবে বলে পরিষ্কার জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে,প্যাথলজি বিভাগের ভয়ানক দুর্নীতি ছাড়াও ব্লাড ব্যাংক থেকেও তিনি মোটা অংকের বাণিজ্য করেছেন বলে তথ্য মিলেছে। এই হাসপাতালে কর্মজীবনের ২০ বছর খোঁজ খবর নিলে ডাক্তার আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও দুর্নীতির তথ্য মিলবে বলে একাধিক সূত্রের দাবি।
২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লম্বা ২০ বছর যশোর জেনারেল হাসপাতালে চাকরি করেন হাসান আব্দুল্লাহ। চাকরির শেষ দিন গত ২১ সেপ্টেম্বর তাকে নিয়ে তুমুল হৈচৈ শুরু হয়। মন্ত্রণালয়ের অডিটে প্যাথলজি বিভাগে ২২ লাখ টাকার ঘাপলা ধরা পড়লে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ডাক্তার আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে যায়। তিনি সরাসরি টাকা আত্মসাতে যুক্ত এমন প্রতিবেদনের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। আর তাতেই ২১ সেপ্টেম্বর আটকে যায় তার অবসরে যাওয়ার সকল কার্যক্রম। ছাড়পত্র স্বাক্ষর করাতে গেলে তত্ত্বাবধায়ক আখতারুজ্জামানের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হলে তোলপাড় শুরু হয়। বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ডাক্তার  হাসান আব্দুল্লাহর অবসর যাওয়ার সকল কার্যক্রম স্থগিত এমনকি তার পেনশনও আটকা থাকবে বলে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যবিভাগের এমন হুঁশিয়ারির পর দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। সততার লেবাসে দীর্ঘ সময় পার করা ডাক্তার আব্দুল্লাহ বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। যশোর জেনারেল হাসপাতাল এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের  ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে, তার নানামুখি দৌড়ঝাঁপ কোনো কাজে আসছেনা। প্যাথলজি বিভাগের অনেকেই তার অনিয়ম দুর্নীতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া, হিসেবের বিশাল নয়ছয় গোঁজামিল দিয়েও কাজে আসছেনা।                                
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে করোনা টেস্টের ১৯ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত চলমান। এ কারণে ২১ সেপ্টেম্বর তার অবসরজনিত কাগজপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। করোনার শুরুতে ২০২০ সালে ৮ হাজার ৯৭০, ২০২১ সালে ২৫ হাজার ৩২৩ এবং ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা হয় ৪ হাজার ২৬৩ জনের। ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে শুধুমাত্র করোনার আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা হয় ৩৮ হাজার ৫৫৬ জনের। জনপ্রতি ১০০ টাকা হিসেবে রাজস্ব আদায়ের হিসেবে ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬০০ টাকা। কিন্তু প্যাথলজি বিভাগ থেকে রাজস্ব জমা পড়েছে ১৮ লাখ ১২ হাজার ৩৮০ টাকা। বাকি ২০ লাখ ৪৩ হাজার ২২০ টাকার কোনো হিসেব কিংবা জমা দেননি ইনচার্জ ডাক্তার হাসান আব্দুল্লাহ।
সূত্রটি আরও জানায়, করোনাভাইরাস পরীক্ষার কাজে সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য সরকারি কমিশনের এক লাখ ১৫ হাজার ৪২০ টাকা বাদ দিলে ১৯ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা রাজস্ব জমা দেয়ার কথা। কিন্তু প্যাথলজি বিভাগ থেকে এখনো বাকি ১৯ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা জমা দেয়া হয়নি। এমনকি ডাক্তার আব্দুল্লাহকে সময় দেয়া হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। কোনো হিসেব দেননি তিনি বা তার প্যাথলজি বিভাগ। এরপর তিনি এখন বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিচ্ছেন। তবে, সব মহল থেকেই তাকে না করে দিয়েছে। তার পেনশনের টাকা থেকে ওইসব টাকা কেটে নেয়া হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।  
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, কোনো দৌড়ঝাঁপ কাজে আসবেনা। ডাক্তার হাসান আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে করোনা টেস্টের টাকা আত্মসাতের অডিট আপত্তি ছিল বেশ আগেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হাসান আব্দুল্লাহসহ দু’জনের নামে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এ অবস্থায় তার অবসরজনিত কোনো কাগজপত্র জমা নেয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সকল কার্যক্রমের সাথে থাকবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সব হিসেব পাওনাদি এবং মামলা মিটিয়ে অনাপত্তি সনদ আনার পর তিনি ছাড়পত্রে স্বাক্ষর পাবেন।








« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft