দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: আট বছর পর জট খুললো ভোটের        নতুন দাম কার্যকর হতে সময় লাগবে!       আগামীর সম্ভাবনা ফুটিয়ে তুললো কন্যা শিশুরা       যশোরে গ্যাসের দোকানে ভোক্তার তদারকি       অস্ত্রসহ আটক অনিক রিমান্ডে       কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, দু’জনের যাবজ্জীবন       রূপসায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ মাহাতাবের মরদেহ উদ্ধার        ভবিষ্যতে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে: খাদ্যমন্ত্রী       জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে মধুখালীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা       কারাভোগ শেষে স্বদেশের পথে ১৩৫ ভারতীয় জেলে      
স্ত্রীর স্বজনদের ডেকে ভালো মানুষ সাজার চেষ্টা
অর্ধকোটি টাকা হাতানো প্রতারক তারাজুলকে খুঁজছে পুলিশ
অভিজিৎ ব্যানার্জী
Published : Thursday, 22 September, 2022 at 9:08 PM, Count : 454

অর্ধকোটি টাকা হাতানো প্রতারক তারাজুলকে খুঁজছে পুলিশকখনো এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার ভাগ্নে, কখনো এনটিআরসি-এর কর্মকর্তা সেজে যশোরাঞ্চলে ভয়ানক সব প্রতারণা করে বেড়ানো বহুরূপী প্রতারক তারাজুল ইসলাম ওরফে তারাজুল আকন্দকে খুঁজছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। চাকরি দেয়া, ভালো স্কুলে পোস্টিং করিয়ে দেয়া এবং স্কুল নিবন্ধন করিয়ে দেয়ার নামে যশোরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তালবাহানা করায় তাকে খোঁজা হচ্ছে বলে তথ্য মিলেছে। একইসাথে তার বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার তদন্ত এগিয়ে চলেছে। যদিও প্রতারক তারাজুল নিজেকে ভালো মানুষ সাজতে স্ত্রী পক্ষের আত্মীয়স্বজনদের বাসায় ডেকে খাওয়া দাওয়ার আয়োজনও করেছেন। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে খোঁজায় তিনি তার এক আত্মীয়কে দুষছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
কার্যত কোনো কাজ না থাকলেও ঠাঁটেবাটে চলা যশোরের আলোচিত প্রতারকের নাম তারাজুল ইসলাম। চাঁচড়া রায়পাড়ার হারুন অর রশিদের বাড়ির পাশে শ্বশুর আব্দুল ওয়াহাবকে বোকা বানিয়ে   বসবাস করছে এই প্রতারক। সম্প্রতি তার  বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এসেছে দৈনিক গ্রামের কাগজ দপ্তরে। মূলত বগুড়া থেকে যশোরে এসে আস্তানা গাড়া তারাজুল ইসলাম নিজেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবীর রিজভীর ভাগ্নে বলে পরিচয় দিয়ে যশোরে প্রতারণা শুরু করেন। তার বাড়ি বগুড়ার গাবতলী মোকামতলা এলাকার পাচপাইকা গ্রামে। তার বাবা মৃত দেলোয়ার হোসেন আকন্দ। বিগত কয়েক বছর ধরে নিজেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেন তিনি। নিবন্ধনে পাস করিয়ে দেয়া, পছন্দের স্কুলে চাকরি দিয়ে দেয়াসহ নানা প্রলোভনে অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি। সম্প্রতি দৈনিক গ্রামের কাগজ দপ্তরে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ভুক্তভোগীদের একজন ছিলেন উত্তম কুমার। পেশায় শিক্ষক, নেশায় কবি তিনি। বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়ায়। বাগেরহাটের বালিপাড়া স্কুলে পোস্টিং তার। তিনি জনান, তিনিসহ তার পরিচিতজনদের কাছ থেকে প্রতারণা করে ২০ লাখ টাকার উপর হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক তারাজুল। এনটিআরসি-এর নিয়োগ শুরু হলেই মাঠে নেমে পড়েন এই প্রতারক। যশোরের আরবপুর এলাকার পাঁচতলা ভবনের নীচতলায় একটি ডেরা খুলে সেখানে কম্পিউটার বসিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতারণা করেন তারাজুল। জাল সনদ তৈরিসহ এনটিআরসি-এর সব নকল কাগজপত্র বানিয়ে দিয়ে টাকা হাতান তিনি। নিবন্ধনে পাস করিয়ে দেয়ার নামে তিনি মাথাপ্রতি ৪০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেন। আরবপুরের ওই ডেরায় তার কথিত বন্ধুর রুমে চলে কারবার। নকল ও ভুয়া সনদ নিতে রাজশাহী, কুষ্টিয়া, নড়াইল, পাবনা, খুলনা, বরিশাল এমনকি ঢাকা থেকেও তার কাছে লোকজন আসে। আবার অনেকের নিবন্ধন আইডি অনলাইন থেকে সংগ্রহ করে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেন তিনি। ভালো স্কুলে চাকরি দেয়ার নামে উত্তম কুমারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ তার। অনেক ভুক্তভোগীর বক্তব্যসহ এর আগে তারাজুলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর ওই সংবাদের পর পাওয়া যাচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। বিআরবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে এমপিওভুক্ত করে দেয়ার নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া, প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা সংশ্লিষ্ট আটজনকে চাকরি দেয়ার নামে হাতিয়ে নেন ১৬ লাখ। প্রত্যাশার ব্যবস্থাপক বাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, যশোর তথা দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সেরা প্রতারক এই তারাজুল। তিনি তার আটক দাবি করেন।
বিআরবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, জীবনে এত বড় প্রতারক তিনি দেখেননি। তার প্রতিষ্ঠানকে এমপিও করার নামে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যদিও টাকা ধার হিসেবে নিয়েছেন বলে তিনি মামলায় উল্লেখ করেছেন। আসামি করা হয়েছে রেলগেট রাজা বরদাকান্ত রোড রায়পাড়ার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আলোচিত প্রতারক তারাজুল ইসলাম, তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষক শাহরীন আক্তার রুমি, বিরামপুরের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, চাঁচড়ার মৃত গোলাম ওয়াহেদের ছেলে ওয়াহিদ মুরাদ, উপশহর সি ব্লকের আলাউদ্দিনের মেয়ে হাজেরা খাতুন, সৈয়দ আলীর ছেলে জিল্লুর রহমান ও মৃত গোলাম কুদ্দুস ভিকুর স্ত্রী আমেনা বেগমকে। নতুন করে এই প্রতারকের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া, তারাজুলের বিরুদ্ধে আরও ডজনখানিক প্রতারণার তথ্য ও প্রমাণ এসেছে গ্রামের কাগজ দপ্তরে। এসব ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ ও মামলা হওয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা খুঁজছে তারাজুলকে। তথ্য মিলেছে প্রকাশিত সংবাদের পর নিজেকে ভালো মানুষ সাজতে তার এক আত্মীয় দুষছেন তিনি। ওই আত্মীয় পত্রিকায় নিউজ করাচ্ছেন বলে বুলি আওড়িয়ে বাড়িতে স্ত্রী পক্ষের আত্মীয় ডেকে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করেছেন তিনি।
এদিকে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে পত্রিকায় নিউজ হওয়ায় তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। এক সময় টাই পরে চললেও এখন দাড়ি রেখে পাঞ্জাবি পরছেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রীসহ শ্বশুর পক্ষের আত্মীয়দের চাপে রয়েছেন তিনি। বিয়ের সময়ও নাকি প্রতারণা করেন তারাজুল। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে শিক্ষিত মেয়ে বিয়ে করে শ্বশুরপক্ষকে চরমভাবে ঠকিয়েছেন তিনি। বগুড়ায় তার নানা ধরনের দুর্নাম থাকায় যশোরে এসে আস্তানা গেড়েছেন তিনি। দ্রুতই তাকে আটক করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
   






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft