
যশোরের বাজারে লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০টাকা হালিতে। চারদিনের ব্যবধানে দাম দুই গুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে এদামে। বেড়েছে শসার দামও। সরবরাহ সংকটের কথা বলছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে সংকটের অজুহাতে বাড়তি দাম না রাখার দাবি ক্রেতাদের।
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর দু’তিনদিন বাকি। এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে রমজানের জরুরি নিত্যপণ্য লেবু ও শসার দাম। চারদিন আগেও যে লেবু বিক্রি হয়েছে ৪০টাকা হালিতে, সে লেবুই রোববার মানভেদে বিক্রি হয় ৫০থেকে ৮০টাকায়। চলতি মাসের শুরু থেকেই বাড়তে শুরু করে লেবু ও শসার দাম। নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবারও প্রতি হালি লেবু বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। চারদিনের ব্যবধানেই দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে লেবু। অন্যদিকে চারদিন আগে শসা বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। বর্তমানে শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। বাজারে লেবু ও শসার সরবরাহ সংকটের কথা বলছেন বিক্রেতারা। তবে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাড়তি দাম না নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
জামতলা এলাকার শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, সংকটের অজুহাতে যেন ক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো পণ্যর বাড়তি দাম না নেয়া হয় প্রশাসনের সে বিষয়ে তদারকি করা উচিত। নিউমার্কেট এলাকার পারভীন সুলতানা মেরি বলেন, বহির্বিশ্বে মুসলিম দেশগুলোতে রোজার সময়ে নিত্যপণ্যর উপরে ডিসকাউন্ট থাকে, আর রোজা আসলে আমাদের দেশে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলে। পুলিশলাইন টালিখোলা এলাকার জেসমিন আরা বেগম বলেন, রমজান মাস খরচের মাস, সে খরচ আরও বাড়িয়ে দেয় আমাদের দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা। পবিত্র ও শান্তির এ মাসটিতে মানুষের শান্তি নষ্ট হয়, আতঙ্ক শুরু হয়ে যায়।
লেবু বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, লেবুর মৌসুম না হওয়ায় বাজারে বর্তমানে লেবু কম আসছে তাই দাম বেশি। অপর দুই বিক্রেতা আব্দুল গফুর ও কিশোর দাসও একই কথা বলেন। আরেক বিক্রেতা প্রসেনজিৎ বলেন, নির্বাচনের ছুটির কারণে গত কয়েকদিন বাজারে লেবু ও সবজি কম এসেছে, এ কারণে দামও বেড়েছে।
তবে রমজান মাসের অন্যান্য জরুরি নিত্যপণ্যের মধ্যে ছোলা, ডাল, খেজুর, চিনি, সয়াবিন তেল, বেসন, চিড়া ও মুড়ির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। রোববার শহরের বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয় ৮০টাকা কেজিতে। বিভিন্ন ধরনের ডালের মধ্যে মসুরের ডাল বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১৬০ টাকায়। মুগ ডাল ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, ছোলা ও মাসকলাইয়ের ডাল ১০০, মটরের ডাল ১১০, বুট ডাল ৫৫টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। বিভিন্ন ধরনের খেজুরের মধ্য প্রতি কেজি চট খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। এছাড়া জাহিদি ৩৫০টাকা, নাগাল ৪০০টাকা, দাবাস, রাবিয়া ও সালাবি ৬৫০টাকা, সুগাই, সুক্কারি এক হাজার ৪০টাকা, কালমী, সুফরি ৮০০, আনবারা এক হাজার ২০০, মরিয়ম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০, আজোয়া এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০, মেটজুল এক হাজার ৬০০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০টাকা কেজিতে। খোলা সয়াবিন তেল ২০০টাকা কেজি। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫টাকা লিটার। পামতেল ১৬৫থেকে ১৬৬টাকা। বুটের ডালের বেসন ৮০টাকা, ছোলার ডালের বেসন ১২০টাকা কেজি। চিড়া ৬০থেকে ৭০টাকা কেজি। খোলা মুড়ি ৮০টাকা কেজি। প্যাকেটজাত মুড়ি ১৫০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মন্তব্য করুন