
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলেছে। মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ মূল্য। একই সঙ্গে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ইউরোপীয় বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইকারি দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পেট্রোলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালন ৩.১১ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যাহ্ন পর্যন্ত ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ার বাজার কমেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারও ৩ শতাংশের বেশি পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থবাজারকে অস্থির করে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি নিকটবর্তী জাহাজগুলোতে হামলার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের দাম এই সপ্তাহে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চম তেল ও গ্যাস ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ইরান জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই পথে প্রায় সব জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলের জাহাজগুলোর সুরক্ষা দেবে। তিনি আরো বলেন, সব শিপিং কম্পানিকে যৌক্তিক মূল্যে ঝুঁকি বীমা দেবে, যাতে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ বাধাহীন থাকে।
মন্তব্য করুন