মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
প্রতিকি ছবি

খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে আবারও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে নতুন সরকারের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত সর্বশেষ অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

জিইডির প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক, ফেব্রুয়ারি ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরের ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে চালের মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। নভেম্বরে চালের মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে কমে ৭ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছে। মাঝারি, মোটা ও চিকন—সব ধরনের চালের দাম কমার কারণেই এই হ্রাস ঘটেছে।

চালের দাম কমলেও শাকসবজি, মাছ ও ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এখনও বেশি রয়েছে। জানুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সবজির অবদান আগের মাসের নেতিবাচক অবস্থান থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং কিছু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতাকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাছ ও শুঁটকি, ফল এবং ভোজ্যতেলের উচ্চমূল্যের কারণে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মজুরি বৃদ্ধির হার ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় চাপে পড়ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০১ থেকে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশের মধ্যে থাকলেও মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ১৭ থেকে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। জানুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ, আর মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। ফলে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। জানুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ হাজার ৫১২ কোটি টাকা কম। আমদানি-রপ্তানি শুল্ক, স্থানীয় ভ্যাট ও আয়কর খাতেই মূলত এই ঘাটতি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের গতিও মন্থর রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় মোট বরাদ্দের মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের একই সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন। সরকারি অর্থায়নে ব্যয়ের হার ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ হলেও প্রকল্প সাহায্য খাতে ব্যয়ের হার মাত্র ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা বহিঃসহায়তা নির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির ইঙ্গিত দেয়।

তবে বৈদেশিক খাতে কিছু ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নভেম্বরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার, যা জানুয়ারি শেষে বেড়ে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও বেড়ে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

প্রবাসী আয়ের প্রবাহও শক্তিশালী রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। সামনে রমজান মাসকে ঘিরে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

রপ্তানি খাতেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারিতে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি বেড়ে ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে অ-পোশাক খাতের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৭৯৮ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে।

তবে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়াকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অক্টোবরে এ খাতে আমদানি ছিল ৪১২ মিলিয়ন ডলার, যা নভেম্বরে কমে ১৮৬ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ডিসেম্বরে কিছুটা বেড়ে ২৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও তা এখনও আগের তুলনায় কম। বিশ্লেষকদের মতে, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া বিনিয়োগ কার্যক্রমে স্থবিরতার ইঙ্গিত দেয়, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে বিনিময় হারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। নভেম্বরের তুলনায় প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হার কমে জানুয়ারিতে প্রতি ডলারে ১২৪ দশমিক ৬৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বাজারে ডলারের বিনিময় হার গত কয়েক মাস ধরে ১২১ দশমিক ৭১ থেকে ১২২ দশমিক ৩২ টাকার মধ্যেই রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন সরকারকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাও বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নড়াইলে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ দেবে জাপান

জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক কারাগারে

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও তারুণ্য ধরে রাখবে কাঁকরোল

মণিরামপুরে ইমামুল হত্যাকাণ্ডে আটক হুসাইনের স্বীকারোক্তি

ঋণের প্রলোভনে টাকা আত্মসাত, মাহমুদাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাতিজার মারধরে বৃদ্ধ নিহত

সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাধারণ মানুষের

মণিরামপুর পৌরসভার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

X