
প্রায় দুই মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পরে বাড়লো ডিমের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে যশোরের বাজারে হালি প্রতি বেড়েছে চার টাকা। সেই সাথে চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে সয়াবিন তেল ও সবজিতে।
এক সপ্তাহের মাঝেই বাড়লো ডিমের দাম। এক লাফে হালিতে বাড়লো চার টাকা। প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪০টাকা হালিতে। বেড়েছে হাঁসের ডিমের দামও। বিক্রি হচ্ছে ৭০টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৬৮টাকায়। তবে অন্যান্য ডিম আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগির ডিম ৫০টাকা। দেশি মুরগির ডিম ৬০টাকা। কোয়েল পাখির ডিম ১২টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বড়বাজারের ডিম বিক্রেতা আব্দুল কুদ্দুস ও আব্দুস সালাম বলেন, গরমে ডিম নষ্ট হচ্ছে, সংকটের কারণে দাম বেড়েছে। লোনঅফিস পাড়ার ইশরাত জাহান বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন দিন দিন কঠিন থেকে কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তারমধ্যে আবারও ডিমের দাম বেড়ে যাওয়াতে নতুন করে বিপদ বাড়লো। রাঙামাটি গ্যারেজ এলাকার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সবকিছুর বাড়তি দামের কারণে যেহেতু সাধারণ মানুষের আমিষের একমাত্র উৎস ডিম, তাই ডিমের দাম সব সময় নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত। আশ্রম রোড এলাকার মোস্তফা কামাল বলেন, কয়েক বছর ধরেই মাছ, মাংসের অস্বাভাবিক দাম, বর্তমানে সবজির কাছেও যাওয়া যায় না। ডিমের দামও যদি বাড়ানো হয় তাহলে খাবারের তালিকায় আর থাকলো কি!
অন্যদিকে মুদি বাজারে সয়াবিন তেল নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। পরিবেশকদের কাছ থেকে শুধু সয়াবিন তেল কিনতে গেলে অন্যান্য পণ্য নিতে বাধ্য করা ও না নিলে খুচরা বিক্রেতাদের তেল না দেয়ায় বাজারে সংকট কাটছে না। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২১০টাকা কেজিতে। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫টাকা লিটার। মসুরের ডাল ৯০থেকে ১৬০টাকা কেজি। মুগ ডাল ১৩০থেকে ১৬০টাকা। ছোলা ও মাসকলাইয়ের ডাল ১০০টাকা। মটরের ডাল ১১০, বুট ডাল ৬০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চিনি ১০০থেকে ১২৫টাকা। লবন ৪০টাকা কেজি। খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা কেজিতে। প্যাকেট আটা ৫৫টাকা।
সবজির বাজারে পেঁপে ও শসা বিক্রি হচ্ছে অবিশ্বাস্য দামে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৭০থেকে ৮০টাকা কেজিতে। শসা বিক্রি হচ্ছে ১০০থেকে ১৫০টাকা কেজিতে। কিছু সবজিতে দাম কমলেও অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। মিষ্টি কুমড়া ৪০থেকে ৫০টাকা। কাঁচকলা ৫০, লাউ ৫০থেকে ৬০, পটল, ঢেড়স, ঝিঙে ৬০, উচ্ছে ১০০, চিচিঙ্গা, কচুরলতি, বরবটি ৮০, এচোড় ৪০, বেগুন ৮০থেকে ১০০, মেটে আলু, মিষ্টি আলু, সজিনা ৬০, শিম, ক্যাপসিকাম ১০০, বাধাকপি ৩০টাকা। টমেটো ৫০থেকে ৬০, বিটকপি ৪০, গাজর ৬০টাকা। আলু ২০থেকে ২৫টাকা কেজি। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০থেকে ৮০টাকা কেজিতে।
মাংসের বাজারে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। বিক্রি হচ্ছে ১৮০থেকে ১৯০টাকা কেজিতে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ১৯০থেকে ২০০টাকা কেজিতে। কমেছে সোনালী মুরগির দামও। বিক্রি হচ্ছে ৩২০টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৩৪০টাকা কেজি দরে। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০টাকায়। দেশি মুরগি ৬২০টাকা। গরুর মাংস ৭৫০টাকা। খাসির মাংস এক হাজার ২০০টাকা কেজি। মাছের বাজারে পাঙ্গাশ বিক্রি হচ্ছে ১২০থেকে ২৪০টাকা কেজিতে। তেলাপিয়া ১০০থেকে ১৮০টাকা। সিলভার কার্প ১৫০থেকে ১৮০, গ্লাসকার্প ২৫০থেকে ৩২০, মৃগেল ২৫০, রুই ২২০থেকে ৩৫০, কাতলা ২৮০থেকে ৩৫০, শোল ৭০০, বোয়াল ৪০০থেকে ৭০০, পাবদা ও টাকি ৩৫০, মায়া ২০০, বাটা ১৫০ থেকে ২০০, টেংরা ৫০০থেকে ৬০০, পার্শে ৮০০ থেকে ৯০০, পুঁটি ২৫০, বাইম ৬০০থেকে ৮০০, কৈ ৪০০থেকে এক হাজার ২০০টাকা, শিং ৩০০থেকে ৮০০, আইড় ৭০০থেকে ৮০০, ভেটকি ৬০০থেকে ৮০০, ইলিশ ৫০০থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা, চিংড়ি ৬০০থেকে এক হাজার ২০০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে মশলায়। প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৮০০থেকে ছয় হাজার টাকা কেজিতে। জিরা ৭০০থেকে এক হাজার টাকা কেজি। গোলমরিচ এক হাজার ১০০থেকে এক হাজার ৪০০টাকা। দারুচিনি ৪৫০থেকে ৫৮০টাকা। লবঙ্গ এক হাজার ৩০০থেকে এক হাজার ৬০০টাকা। পেঁয়াজ ৩৫থেকে ৪০টাকা কেজি। রসুন ৫০থেকে ২৪০টাকা। আদা ১৬০থেকে ২২০টাকা কেজি।
চালের বাজারে স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫থেকে ৫০টাকা কেজিতে। মিনিকেট ৬৫থেকে ৬৬টাকা। আঠাশ ও কাজললতা ৫৮থেকে ৬০টাকা কেজি। তেষট্টি বাসমতি বিক্রি হচ্ছে ৭৪টাকা কেজিতে। অন্যান্য বাসমতি ৮০থেকে ৮২টাকা। নাজিরশাইল ৮২থেকে ৯৫টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মন্তব্য করুন