
ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে মশলার দাম বেড়েছে। যশোরের বাজারে বিভিন্ন মশলা বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ফ্রেব্রুয়ারি মাসের শেষে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হলে যাবতীয় আমদানি নিত্যপণ্যতে তার প্রভাব পড়তে থাকে, বাড়তে থাকে দাম। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ বাড়ে যার প্রভাব পড়ে নিত্যপণ্যর বাজারে। মশলা, সয়াবিন তেলসহ একের পর এক নানান ধরনের আমদানি পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। ফলে রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরে মশলার বাজার চড়তে থাকে। তবে বর্তমানে যুদ্ধ বিরতি হলেও আমদানি নিত্যপণ্যতে তার প্রভাব এখনো অব্যাহত রয়েছে। সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তির মাঝেই বাড়তে শুরু করেছে মশলার দাম। ঈদুল ফিতরে মশলার যে চড়া দাম দেখা যায় ঈদুল আযহাতেও তা অব্যাহত রয়েছে। উপরন্তু বিভিন্ন মশলার দাম আরও বেড়েছে। বুধবার শহরের হাটখোলা রোড, গোহাটা রোডের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয় চার হাজার ৫০০টাকা কেজিতে। লবঙ্গ বিক্রি হয় এক হাজার ৪০০ টাকায়, গোলমরিচ ৯০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০ টাকা, জিরা ৬৫০ টাকা, ধনিয়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে। আলু বোখারা বিক্রি হয় এক হাজার টাকা থেকে এক হাজার ২০০টাকা কেজি দরে। বড়বাজারের খুচরা বাজারে বিভিন্ন মশলার মধ্য এলাচ বিক্রি হয় চার হাজার ৮০০ থেকে ছয় হাজার টাকা কেজিতে। লবঙ্গ এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা। গোলমরিচ এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। দারুচিনি ৪৫০ থেকে ৫৮০ টাকা। জিরা ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদার মতো প্রাত্যহিক মশলার দামও। বুধবার বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয় আদা। প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয় ২০০ থেকে ৩২০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে। বেড়েছে পেঁয়াজের দামও। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ২০ থেকে ৪০ টাকায়। রসুন বিক্রি হয় ৫০ থেকে ২৪০ টাকা কেজিতে। আলু বোখারা এক হাজার ৪০০টাকা। কিশমিস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, কাজু বাদাম এক হাজার ৫০০ টাকা, কাঠবাদাম এক হাজার ৫০০ টাকা, পেস্তা বাদাম চার হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার ৬০০ টাকা। শহরের বেজপাড়া লাকী নূরজাহান বলেন, দাম যতই বাড়ুক প্রয়োজনে আমাদের কিনতে হয় খেতেও হয়, এটা আমাদের এক ধরনের বাধ্যবাধকতা, একটা অসহায়ত্ব। চাঁচড়া এলাকার শেফালী বেগম বলেন, সবচেয়ে কম দামের ছিল সবজি গত দুটো বছর তা কিনেও স্বস্তি পাইনি। আর মশলার মতো সিজনাল নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের অত্যাচার তো বছরের বিভিন্ন সময়ে রয়েছেই। বেজপাড়া’র ফেরদৌসি বেগম বলেন, নিয়মিত যদি বাজার মনিটরিং হতো তাহলে বিক্রেতা বা ব্যবসায়ী সবার মনে একটা ভয় থাকতো। বেঁধে দেয়া দামের বাইরে কোন পণ্যেরই বাড়তি দাম রাখার সাহস কারো হতো না। অন্যদিকে হাটখোলা রোডের মুদি ব্যবসায়ী দুর্গা পাল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিরতি হলেও এখনো বাজারে মশলার পর্যাপ্ত যোগান না থাকার কারণে মশলার বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। গোহাটা রোডের মশলা ব্যবসায়ী সফিউল ইসলাম বলেন, আমদানি বিভিন্ন নিত্যপণ্যর পর্যাপ্ত যোগান নেই বাজারে, এ কারণে মশলার দামও বেশি। একই কথা বলেন, বড়বাজারের মুদি ব্যবসায়ী শেখ আব্দুল আজিম।
মন্তব্য করুন